Saturday, January 9, 2021

সাধু সাবধান

সাধু সাবধান। এবার ১২-ই জানুয়ারী বিশেষ বিশেষ ব্যক্তিরা নিজেদের এলাকায় ঝাঁপিয়ে পড়বে স্বামী বিবেকানন্দের জন্মদিন পালন করতে। সচেতন হিন্দুরা খুব খুশি হয়ে যাবে। ভাববে, বোধহয় এনাদের মতি ফিরল। এনারা বোধহয় এইবার সেকু থেকে হিন্দু হচ্ছেন। 

ভুল, ভুল!.......এনাদের মতি ফেরার নয়। এনারা তো ক্রিমিনাল, স্মাগলারদের, তোলাবাজ আর জেহাদীদের সঙ্গে জয়েন্ট বিজনেসে যুক্ত। তাদের সঙ্গ তো এঁরা ছাড়তে পারবেন না। তাহলে হঠাৎ বিবেকানন্দ ভক্তি কেন? একটু ভাবুন। 

সারা বছর ধরে সারা পশ্চিমবঙ্গব্যাপী মুসলিম দুষ্কৃতিদের দ্বারা এত থানা জ্বালানো, এত আক্রমণ, এত অত্যাচার দেখে হিন্দুর চোখ খুলছে। চেতনা জাগ্রত হচ্ছে। সংঘবদ্ধ হচ্ছে। একজোট হচ্ছে। ফলে সেই "তেনারা" বিপদসংকেত দেখছেন। দুস্কৃতির বিরুদ্ধে অত্যাচারীর বিরুদ্ধে জনতা যদি একজোট হয়ে যায়, তাহলে তো সমূহ বিপদ! রাজত্বে হাত পড়বে যে!

তাই রাজত্ব বাঁচানোর জন্য "তেনারা" এখন হিন্দু সাজবেন। তার জন্য ১২-ই জানুয়ারী সুবর্ণ সুযোগ। ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। মঞ্চ বাঁধতে হবে। বিবেকানন্দের বড় ছবি লাগাতে হবে। গাঁদা ফুলের মালা নয়, বিবেকানন্দের জন্য কেনা হবে রজনীগন্ধার মোটা মালা। একটু ভিতরে খোঁজ নিয়ে দেখবেন - স্বামীজী জন্মদিন পালনের জন্য চাঁদা আসছে জেহাদীদের কাছ থেকে। তারপর ডাকা হবে নিজেদের নেতাদের। যে নেতারা সারা বছর ওই ক্রিমিনালদেরকে থানায় প্রোটেকশন দেন। তাঁদেরকে হিন্দুপ্রেমী দেখানোর জন্যই তো এত আয়োজন! 

হিন্দু জনতা সারা বছর মার খাবে। তার বাড়ি দোকান লুট হবে, পুড়বে। তার মন্দির ভাঙবে। তার মেয়েদের গায়ে নোংরা হাত পড়বে। প্রশাসন থেকে কোনোরকম নিরাপত্তা পাবে না। তারপর স্বামী বিবেকানন্দ জন্মদিন ১২-ই জানুয়ারী পালন দেখে তারা সান্ত্বনা পাবে। খুশী হতে পারবে কিনা বলতে পারছি না। সেই উদ্দেশ্যেই তো এত আয়োজন।

সাবধান। সাবধান! সাবধান! 

হিন্দু ভাইরা, আপনারা অনেক ঘা খেয়ে নিরাপত্তার যে দেওয়াল গড়ে তুলছেন  - তা যেন নীচু করবেন না।

Friday, January 8, 2021

নবজাগরণ

১৯৯২ সালে, সম্ভবত জানুয়ারি মাসে, রামজন্মভূমি আন্দোলনের প্রেক্ষিতে তপনদা একটা লিফলেট লিখেছিলেন যার শীর্ষক ছিল- 'ভারতীয় মুসলমানদের শরীরে কার রক্ত বইছে, রামের না বাবরের?'। লিফলেটটা অসম্ভব জনপ্রিয় হয়েছিল। জনপ্রিয়তার মাত্রা এতটাই ছিল কেউ সেই লিফলেট নিয়ে ফটোকপি করাতে গেলে দোকানদার আগে থেকেই কপি করে রাখা লিফলেট তাকে দিয়ে দিতো। 

২৮ বছর আগে তোলা তপনদার সেই প্রশ্ন আজও সমান প্রাসঙ্গিক। এদেশে বসবাসকারী প্রায় সব মুসলমান ও খ্রিষ্টানরা কয়েক প্রজন্ম আগেও এদেশের হিন্দু জাতি ও সংস্কৃতিরই অঙ্গ ছিল। কেউ অস্ত্রের ভয়ে আর কেউ অর্থের লোভে ধর্মান্তরিত হয়েছে। আদতে তারা প্রত্যেকেই এই হিন্দু সমাজেরই অঙ্গ ছিল কিন্তু আজ তাদের সাথে হিন্দুদের সহাবস্থানের বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বিদেশী সংস্কৃতি। 

মুসলমানরা যদি মহম্মদকে পয়গম্বর মেনে বা খ্রিষ্টানরা যদি যীশুকে ঈশ্বর মেনে তাদের উপাসনা করতো তাহলে সহাবস্থানের ক্ষেত্রে কোন অসুবিধার সৃষ্টিই হতনা কারণ সনাতন ধর্ম কখনই উপাসনা পদ্ধতির ভিত্তিতে ভেদাভেদে বিশ্বাসী নয়। সনাতন ধর্মানুসারে, সাকার বা নিরাকার- ঈশ্বরের কোন রূপই পরিত্যাজ্য নয়। বিশেষ উপাসনার জন্যে কে শুক্রবার কে বাছবে আর কে রবিবার, সেটা সনাতন ধর্মে বিচার্য নয়। এমনকি কেউ যদি ঈশ্বরের অস্তিত্বে বিশ্বাসই না রাখে তাকেও সমাজের অঙ্গ হিসাবে সেই স্বাধীনতা দিয়ে সনাতন ধর্মের অনুসারী হিন্দু সমাজ।

কিন্তু সহাবস্থান সম্ভব হলনা বিদেশী ধর্মমতগুলির সংকীর্ণ মনোভাবের কারণে। আর এই মনোভাবের কারণেই একজন মুসলমান বা খ্রিষ্টান নিজেদের কখনই হিন্দু জাতির অংশ হিসাবে ভাবতে পারেনা। তাদের কাছে সনাতন ধর্ম অতি নিকৃষ্ট। আমাদের মুনিঋষিরা তাদের কাছে শয়তানের উপাসক আর তাদের স্থান কেবল নরকে। আমাদের উপাস্য অবতারগণ তাদের কাছে হীন চরিত্রের প্রতীক। এই দেশের ভূমি তাদের কাছে 'জাহিলিয়া' ও দার-উল-হারব আর তাকে দার-উল-ইসলাম বানানো তাদের পবিত্র দায়িত্ব। এই সংকীর্ণ ধর্মীয় ভাবধারার কারণেই এদেশের মুসলমান ও খ্রিষ্টানরা কখনই হিন্দু সমাজের সাথে একাত্ম হতে পারেনি। আর এই ভাবধারাকে প্রশ্রয় দেয়ার জন্যেই তৈরি করা হয়েছে 'সেকুলারিজম' বা ধর্মনিরপেক্ষতার মুখোশ।

মুশকিল হল যে আর কয়েকবছরের মধ্যে তথাকথিত স্বাধীনতা লাভের ৭৫ বছর হতে চললেও হিন্দু জাতি প্রকৃত অর্থে স্বাধীনতা আজও পায়নি। শাসকের পরিবর্তন হয়েছে কিন্তু স্বাধীনতা পাওয়া যায়নি কথাটা বোধহয় একটু কঠিন হয়ে গেল, উদাহরণ দিলে কিছুটা সহজ হতে পারে। ১৭৫৭ সালে, পলাশীর যুদ্ধের পরে শাসনক্ষমতা মুসলমানদের থেকে ব্রিটিশদের কাছে গিয়েছিল কিন্তু সেটা কি আমাদের স্বাধীনতা ছিল? অনেকেই এবার বলবেন যে ১৯৪৭ সালের পরে আমাদের দেশের শাসনক্ষমতা আমাদের দেশীয় ব্যক্তিদের কাছে আছে, তাই আমরা স্বাধীন কিন্তু সেই যুক্তিতে তো ইদি আমিনের শাসনে উগান্ডা, চেসেস্কুর শাসনে রোমানিয়া বা স্ট্যালিনের শাসনে USSR-ও দেশীয় ব্যক্তিদের শাসনাধীন ছিল, কিন্তু প্রকৃত স্বাধীনতা ছিল কি? 

১৯৪৭ সালে নেহরুর নেতৃত্বে যারা ক্ষমতা দখল করেছিল তাদের অধিকাংশই এদেশে হিন্দু জাতির অস্তিত্ব ও সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলনা। নেহরুর ধর্মনিরপেক্ষতা ছিল হিন্দু বিরোধিতারই নামান্তর। মজার ব্যাপার হল যে সেই হিন্দু বিরোধিতাকেই এমন পবিত্র বিষয় বলে মেনে নেয়া হল যে সেটাকে অস্বীকার করে কেউ নির্বাচনে অংশগ্রহণ পর্যন্ত করতে পারবেনা। কোন প্রার্থী যদি হিন্দুদের হয়ে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তাহলে সাম্প্রদায়িক প্রচারের অজুহাতে তার নির্বাচন লড়ার অধিকার কেড়ে নেয়া যেতে পারে। এমনকি সে যদি জিতেও যায় সেক্ষেত্রেও সেই নির্বাচনকে অবৈধ ঘোষণা করার অধিকার আদালতের আছে। এমতাবস্থায়, স্ট্যালিনের রাশিয়ায় যেমন জনগণের ভোটের নামে কম্যুনিস্ট পার্টি চিহ্নিত দুইজন প্রার্থীর মধ্যে একজনকে নির্বাচন করার অধিকার ছিল, এখানেও তেমনি আমাদের অধিকার হিন্দু বিরোধীদের মধ্যে একজনকে নির্বাচন করার। 

এমতাবস্থায়, রাজনীতির দ্বারা সমাজকে বদলানোর স্বপ্ন দেখা মানে ভাবের ঘোরে চুরি করা। হিন্দু সমাজকে প্রকৃত স্বাধীনতা অর্জন করতে হলে সেই দায়িত্ব সম্পূর্ণ সমাজকেই নিতে হবে। ধর্মগুরু, শিক্ষকসম্প্রদায়, ছাত্রসমাজ, কৃষক, শ্রমিক, ব্যবসায়ী, চাকুরীজীবী - এই দায়িত্ব সকলের। হিন্দুজাতির নবজাগরণ ক্ষমতার অলিন্দ থেকে নয়, অন্ত্যজ সম্প্রদায়ের কুঁড়েঘর থেকেই হবে। রাজনৈতিক স্লোগান দিয়ে নয়, মা কালীর জয়ধ্বনি দিয়েই হবে।

ক্যাপিটালে কেলেঙ্কারি

গতকাল আমেরিকার রাজধানীতে ট্রাম্প সমর্থকদের হামলা শুধু নিন্দনীয় নয়, গণতন্ত্রের পক্ষেও এক অশুভ সংকেত। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফল ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই ট্রাম্প যেভাবে গোঁয়ার্তুমি করে যাচ্ছেন এবং তাঁর সমর্থকদের উস্কানি দিয়ে যাচ্ছেন সেটা আমেরিকার মত গণতান্ত্রিক দেশে কাম্য নয়। জনগণের সিদ্ধান্তকে অগ্রাহ্য করার তাঁর এই ঔদ্ধত্য ভারতের অনেক রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ যারা নির্বাচনের ফল নিজেদের পক্ষে না গেলেই EVM এ ত্রুটি খুঁজে পান।

এই ঘটনা ভারতের জনগণের কাছে সম্পূর্ণ একটা অ্যাকাডেমিক বিষয় হয়ে থাকতো যদি না সেই বিক্ষোভে, বিক্ষোভকারীদের একাংশ, ভারতের জাতীয় পতাকা নিয়ে সামিল হতো। কোন দেশের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে অন্য কোন দেশের জাতীয় পতাকা নিয়ে যোগ দেয়া সম্পূর্ণ অনৈতিক। আজ যদি ভারতে চলা কৃষকদের বিক্ষোভে কেউ পাকিস্তান বা কানাডার পতাকা নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন তাহলে আপাতদৃষ্টিতে মনে হতেই পারে সেই বিক্ষোভ স্বতঃস্ফূর্ত নয়, বিদেশী দেশের উস্কানি আছে। এমতাবস্থায়, প্রশাসন আর দেশবাসী যদি বিক্ষোভকারীদের, দেশের প্রতি আনুগত্য নিয়ে প্রশ্ন তোলে তাহলে সেটা খুব একটা অন্যায় হবেনা।

আজ যেসব অনাবাসী ভারতীয়রা ভারতের জাতীয় পতাকা নিয়ে বিক্ষোভে যোগ দিয়েছিলেন তাদের ভারতের প্রতি ভালবাসা ও আনুগত্য নিয়ে সন্দেহ না থাকলেও তাদের এই আচরণ যে আন্তর্জাতিক মহলে ভারতের পক্ষে সুখকর হয়নি এটা বোঝার মত বুদ্ধিমত্তা তাদের থাকলে হয়তো তারা এই মুর্খামি করতনা। অনাবাসী ভারতীয়রা, যাদের অধিকাংশই বিজেপির সমর্থক, তারা হয়তো ২০১৯ সালের 'হাউডি মোদী' অনুষ্ঠানে, নরেন্দ্র মোদী দ্বারা ঘোষিত 'আব কি বার, ট্রাম্প সরকার' দ্বারা এতটাই প্রভাবিত হয়েছিলেন যে ট্রাম্পের পরাজয় তারা মেনে নিতে পারেননি আর তাই ট্রাম্পের সমর্থনে পথে নামা কে নিজেদের জাতীয় কর্তব্য বলে মনে করেছিলেন। তবে তাদের তাদের এই পথে নামার অবিমৃষ্যকারী সিদ্ধান্ত যে ভারতকে পথে বসাতে পারে সেটা তাদের মাথায় রাখা উচিত ছিল।

Wednesday, January 6, 2021

সচেতন জনগণ

 প্রশাসন সবসময়ই স্থিতাবস্থায় বিশ্বাসী। ন্যায় বা অন্যায় বিচার করার দায়িত্ব বা মানসিকতা - কোনটাই প্রশাসনের থাকেনা। তার একমাত্র লক্ষ্য হল সমাজে অশান্তি তৈরী হতে না দিয়ে status quo বজায় রাখা। তাদের এই মানসিকতার ফলে, অনেক ক্ষেত্রেই আক্রান্তরা বঞ্চিত হয়। সামান্য প্রশাসনিক প্রভাবে যে ন্যায় সে সহজেই পেতে পারতো সেটার জন্যে তাকে আইনি ব্যবস্থার মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে হয়। আর ভারতের আইনি ব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রিতা তো এখন প্রায় Myth এ পরিণত হয়েছে। এমতাবস্থায়,  কোন রাজনৈতিক দল, বিরোধী পক্ষে থাকাকালীন সে যত বড়ই বিপ্লবী হোক না কেন, সরকারে গেলে প্রশাসনের এই নিয়ম মেনে নিতে বাধ্য হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই প্রশাসনিক স্থবিরতা গ্রাস করে তাদের।


এই কারণে ক্ষমতায় কোন দল আছে সেটা আমার কাছে বড় কথা নয়, আসল কথা হল যে সেই দলকে দিয়ে নিজেদের কাজ করিয়ে নেয়ার সামর্থ্য সমাজের আছে কিনা! হ্যাঁ, এটা অস্বীকার করার কোন যায়গা নেই ক্ষমতাসীন দলের নেতৃত্ব যদি সমাজের দাবীর প্রতি সচেতন ও সহানুভূতিশীল হয় তাহলে কাজটা অনেক সহজ হয়ে যায়, যেমন হয়েছিল গোধরা পরবর্তী গুজরাটে। মনে রাখবেন, গুজরাটের দাঙ্গার সময় তদানীন্তন মোদী সরকার কিন্তু মোটেই জেহাদিদের আক্রমণ করেনি, পুলিশের গুলিতে নিহত হিন্দুদের সংখ্যা অনেক বেশী ছিল। কিন্তু সেই কাজটা করেছিল গুজরাটের সচেতন জনতা। মোদী প্রশাসন খালি, ক্ষেত্রবিশেষে, কিছুটা নিরপেক্ষতা অবলম্বন করেছিলেন আর সেটাও করতে বাধ্য হয়েছিলেন জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত আবেগের মর্যাদা দেয়ার জন্যে। আপনাদের অনেকেরই জানা নেই যে একই ঘটনা ঘটেছিল নলিয়াখালী, বাদুরিয়া বা হাজিনগর দাঙ্গার সময়ে। যেটা আপনারা দেখেছেন সেটার বাইরে, পর্দার পিছনেও অন্য খেলা হয়েছে যেটা জানে এলাকার মানুষ আর প্রশাসনের বিশিষ্ট কিছু ব্যক্তি। 

তাই ক্ষমতাসীন দলের গোত্র নিয়ে আমি ততটা উদ্বিগ্ন নই যতটা সেই দলকে সমাজের স্বার্থে ব্যবহার করার জন্যে সামাজিক ক্ষমতা নিয়ে। আগামী নির্বাচনে অ্যাডভান্টেজ অবশ্যই বিজেপি কিন্তু বিজেপি ক্ষমতায় আসলেই 'অপুত্রকের পুত্র হবে আর নির্ধনের ধন, মর্তে অমৃতলাভ আর মরলে বৈকুন্ঠ গমন' - এটা আমি বিশ্বাস করিনা কারণ যে ঘটনাগুলির পরিপ্রেক্ষিতে ক্ষমতা হস্তান্তর হওয়ার সম্ভাবনা আছে, সেই ঘটনাগুলির পুনরাবৃত্তি রোধ করার জন্যে প্রয়োজন সচেতন জনগণ। শুধু শাসকের বদল ঘটিয়েই যদি জনগণ আত্মতুষ্টিতে ভোগে তাহলে শাসনের বদল হওয়ার সম্ভাবনা কম। নতুন শাসকের সাথে জনগণের মধুচন্দ্রিমা পর্ব শেষ হওয়ার পরেই আবার নতুন করে ক্ষোভ আর অভিযোগের জন্ম হবে। এবার সিদ্ধান্ত আপনার যে আপনি সারাজীবন খালি অভিযোগ জানিয়েই কাটাবেন নাকি সেগুলি নিরসনের জন্যে উদ্যোগী ভূমিকা নেবেন।

Monday, January 4, 2021

কালের নিয়ম

কথায় বলে, a picture says a thousand words। গান্ধী অবধি বলেছিলেন যে তিনি তাঁর একশোটা ভাষণে যে বার্তা দিতে ব্যর্থ হন, নন্দলাল বসু তাঁর একটা আঁকায় সেই বার্তা সফলভাবে পৌছে দিতে পারেন। এই কারণেই স্বাধীন ভারতের প্রথম সংবিধানে যথোপযুক্ত ছবি আঁকার দায়িত্ব নন্দলাল বসুর উপরে ন্যস্ত করার সিদ্ধান্ত নেন সংবিধান প্রণেতারা।

আগামী বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে যারা বিজেপি'তে যোগদান করছেন তাদের সবাই যে বিজেপি প্রেমী এমনটা মোটেই নয়, এদের অনেকেই কিছুদিন আগে অবধি বিজেপির বা মোদী-শাহর চোদ্দগুষ্টি উদ্ধার করেছেন কিন্তু এখন এদের কাছে দেয়ালের লিখন স্পষ্ট যে বিজেপি আসছে। আর তাই ক্ষমতার মধুর ভাগ পাওয়ার উদ্দেশ্যে এরা এখন পদ্মের উপর জমা হচ্ছে।

আর হ্যাঁ, এতে অন্যায়ের কিছু নেই কারণ এটাই রাজনীতি। যারা রাজনীতিতে নীতি বা আদর্শ খুঁজতে চান তাঁরা হয় নিজেদের আদর্শ সম্পর্কে সন্দিহান অথবা রাজনীতির চরিত্র সম্পর্কে অজ্ঞ। রাজনীতি কোন সমাজ সংস্কারের কোর্স নয়, রাজনীতি হল সমাজের বর্তমান পরিস্থিতি কাজে লাগিয়ে ক্ষমতা দখল করা। যারা এটা বুঝতে অক্ষম, তারা নাক কুঁচকাতেই পারেন কিন্তু তার পরিণতিতে কিন্তু রাজনীতি নিজের চরিত্র বদলাবেনা।

Wednesday, December 23, 2020

PIL against OBC Act

You might have heard about the discriminatory West Bengal Backward Classes (Other than Scheduled Castes and Scheduled Tribes) (Reservation of Vacancies in Services and Posts) Act, 2012, popularly known as the OBC Act but not realised the level of discrimination and actual threat regarding the same. But Aatmadeep was quick to acknowledge the deep-rooted conspiracy implemented through this act by providing extra benefits to a particular minority community depriving other. If this allowed to continue, the day is not far when administration will be under total control of a particular community and that will not be a pleasant situation for us.

Hence, Aatmadeep has moved to the Calcutta High Court vide it’s petition WPA 8844 of 2020 dated 19th October, 2020 claiming the act to be ultra vires as it violates the basic spirit of the Constitution for the sake of political benefits of Mamata Banerjee Govt. The act is a blatant instance of appeasement politics indulged by Mamata Banerjee and is bound to cause irreparable loss and injury to future generations of Hindus in the days to come.

Despite being a new organisation, we have taken this initiative for the sake of our future generation especially when big guns have refused to fire. We believe, being a human rights organisation, its our duty to ensure oppression of no one and appeasement of no one. But this case is going to incur huge financial burden on us as every single hearing will cost us more than what we can afford. Hence, we request you to help us by donating to the account mentioned below and be a part of the battle we are fighting against the whimsical and arbitrary decision by Mamata Banerjee govt. 

Vandemataram.


*Aatmadeep*

*Central Bank of India*

*Account No – 3823441382*

*IFSC Code – CBIN0280111*

Monday, December 21, 2020

মমতার পরিণতি

 সেলুলয়েডে সুচিত্রা সেনের পর, বাস্তবের কঠিন জমিতে, পশ্চিমবঙ্গের মহানায়িকা হবার যোগ্যতা একমাত্র মমতা ব্যানার্জীর ছিল। সিপিএমের অপশাসনের বিরুদ্ধে তাঁর দীর্ঘদিনের লড়াই এবং পরিশেষে, ২০১১ সালে, বামপন্থীদের ক্ষমতাচ্যুত করা তাঁকে সারা দেশের কাছে একটা আইকনে পরিণত করে। সিঙ্গুর আর নন্দীগ্রাম নিয়ে তার আন্দোলন ঐতিহাসিক মর্যাদা পায়। আজ সিঙ্গুরে টাটা কোম্পানির প্রস্তাবিত কারখানা নিয়ে যে যতই অশ্রুপাত করুক না কেন, সেই চুক্তিতে যে all is well ছিলনা সেটা পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্টের আদেশেই স্পষ্ট হয়ে গেছে।


কিন্তু কথায় বলে যে প্রদীপের নীচেই অন্ধকার সবচেয়ে বেশী হয় আর সেই প্রথা মেনেই, সিপিএমের অপশাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া মমতা ব্যানার্জী, নিজে ক্ষমতায় এসেই শুরু করলেন ক্ষমতার অপব্যবহার। সংখ্যালঘু তোষণ ও আর্থিক দুর্নীতি হয়ে উঠলো তাঁর কাজের সমার্থক। একথা অনস্বীকার্য যে ক্ষমতায় আসার চাবিকাঠি হিসাবে, মমতা ব্যানার্জী হয়তো এমন কিছু অশুভ শক্তির সাথে আপোষ করেছিলেন যার মূল্য তাঁকে, ক্ষমতায় আসার পর, কড়ায়গণ্ডায় চুকাতে হয়েছিল। ইমামভাতা, নলিয়াখালী দাঙ্গার মূল চক্রী, আহমেদ হাসান ইমরানকে রাজ্যসভার সাংসদ করা, সারদা বা রোজভ্যালীর মত চিটফান্ডগুলিকে অনৈতিক সুবিধা দেয়া, কালিয়াচকে জেহাদিদের হামলা বা জামায়েত-এর সভায় মধ্যমণি হওয়া ইত্যাদি ঘটনাচক্র সেই অশুভ আঁতাতের পরিচায়ক।

কিন্তু এত কিছুর পরেও, শুধুমাত্র মমতা ব্যানার্জীর সেই মহানায়িকা ইমেজের কারণে, জনগণ তাঁর উপর পুনরায় নিজেদের আস্থা রাখেন ২০১৬ সালের নির্বাচনে এবং শত অভিযোগ সত্ত্বেও তাঁর নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসকে দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশী আসন দিয়ে ক্ষমতাসীন করেন। সবাই আশাবাদী ছিলেন যে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের একচ্ছত্র নেত্রী এবার আগের ভুল শুধরে, নতুন ইনিংস শুরু করবেন। কিন্তু হায়, ভবি ভোলবার নয়। জীবনের প্রায় অর্ধেকটা সময় মাটিতে দাঁড়িয়ে আন্দোলন করে কাটিয়ে দেয়া মমতা ব্যানার্জী যে মাত্র পাঁচ বছর রাজসিংহাসনে বসার ও আগেপিছে লালবাতি নিয়ে চলার অভ্যাসে যে সম্পূর্ণ জনবিচ্ছিন্ন হয়ে গেছেন, এটা কারুর কল্পনাতেই ছিলনা।

জনবিচ্ছিন্ন মমতার নতুন অগ্রাধিকার হয়ে গেল স্বজনপোষণ। ক্ষমতার ঔদ্ধত্যে ও অযোগ্য স্তাবকদের প্ররোচনায় তিনি নিজের মাত্রা হারালেন। তিনি ভেবেছিলেন যে এই রাজ্যে তাঁর ক্ষমতার পক্ষে একমাত্র বিপদ বামপন্থীরা, তাই তিনি তাদেরকে, তাদেরই কায়দায় নিয়ন্ত্রণ করতে থাকেন। বিজেপিকে তিনি কখনই সেভাবে নিজের সরকারের পক্ষে বিপজ্জনক বলে মনে করেননি তার পিছনে কারণ মূলত দু'টো। ১) ২০১১ সালে, তাঁর ক্ষমতায়নের পিছনে অন্যতম শক্তি ছিল রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের। নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময় Justice for People নামক NGO-র মাধ্যমে তাঁকে আইনি সাহায্য হোক বা দেশজুড়ে তাঁর বামবিরোধী ইমেজ গড়ে তোলা- সঙ্ঘের অবদান অপরিসীম। ২) অটল বিহারি বাজপেয়ী সরকারের শরিক ও মন্ত্রী থাকার প্রেক্ষিতে, বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বর সাথে তাঁর ব্যক্তিগত সখ্যতা।

কিন্তু ক্ষমতার গর্বে মদমত্ত মমতা ভুলে গেছিলেন যে বিজেপিতে ঘটে যাওয়া পালাবদলের ফলে তাঁর পরিচিত নেতৃত্ব চলে গেছেন পিছনের সারিতে আর উদয় হয়েছে এক নতুন জাতীয়তাবাদী মুখের, যার নাম নরেন্দ্র মোদী। মমতার পক্ষে দ্বিতীয় আঘাত ছিল তপন ঘোষের নেতৃত্বে হিন্দু সংহতির উত্থান। মমতার যেসব সংখ্যালঘু তোষণের ঘটনা বিজেপি নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে চুপচাপ মেনে নিত, সেগুলি নিয়েই সোচ্চার হলেন তপন'দা। সম্পূর্ণ বাঙালী জাতীয়তাবাদী সংগঠন হিসাবে, অত্যাধুনিক প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে, মমতার তোষণের কথা তপন'দা ছড়িয়ে দিতে লাগলেন দেশেবিদেশে। এর পরিণতিতে, মমতার পূর্বতন বামবিরোধী ইমেজ পরিণত হল 'জেহাদি দিদি'তে।

আজ ২০২১ সালের নির্বাচন যখন মাত্র ছয় মাস দূরে, তখন মমতা ব্যানার্জী উপলব্ধি করতে পারছেন যে তিনি কতটা নিঃসঙ্গ এবং অসহায় হয়ে পড়েছেন। বছরের পর বছর ধরে, মহরমের জন্যে দুর্গাপূজার বিসর্জন বন্ধ করে দেয়া মমতা ব্যানার্জী আজ নিজের হিন্দুত্ব প্রমাণ করার জন্যে প্রাণপাত করছেন। OBC আইনে সংশোধন করে, একটা বিশেষ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে বাড়তি সুবিধা দেয়া এবং সেটা নিয়ে বিভিন্ন জনসভায় গর্ব করা মমতা ব্যানার্জীর সরকার আজ কোর্টে, আত্মদীপ দ্বারা ফাইল করা জনস্বার্থ মামলায়, উত্তর দিতে পারছেন না।

মমতা ব্যানার্জী যতই কাজী নজরুল ইসলামের "একই বৃন্তে দুটি কুসুম" আউড়ান বা সেই অনুপ্রেরণাতে নিজের দলের প্রতীক বানান, তিনি বোধহয় কবির 'ভজন' কবিতাটা ভুলে গেছিলেন যেখানে কবি বলেছেন -

"চিরদিন কাহারো 
সমান নাহি যায়।
আজিকে যে রাজাধিরাজ 
কাল সে ভিক্ষা চায়।"

এই সরল সত্যটা মমতা ব্যানার্জী ভুলে গিয়েছিলেন আর তাই তাঁর মত জননেত্রীকেও, নিজের দল ও নির্বাচন পরিচালনা করার জন্যে, টাকা দিয়ে বিশেষজ্ঞ ভাড়া করতে হচ্ছে। তিনি নিজেও বুঝেছেন যে দলীয় কর্মীদের উপর তাঁর আর নিয়ন্ত্রণ নেই। পুলিশকে ব্যবহার করে তিনি যতটুকু সাম্রাজ্য রক্ষার চেষ্টা করছেন, আদর্শ নির্বাচন বিধি চালু হতেই, যখন পুলিশের নিয়ন্ত্রণ চলে যাবে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের কাছে, ভাঙন আরও বড় রূপ নেবে। মমতা ব্যানার্জীর কাছে সুযোগ ছিল পশ্চিমবঙ্গের নতুন রূপকার হবার। তাঁর কাছে সুযোগ ও যোগ্যতা - দুই-ই ছিল অথচ নিজের কর্মফলের কারণে ইতিহাস তাঁকে মনে রাখবে শুধু "জেহাদি দিদি" বা "সারদা রাণী" হিসাবে। এই পরিণতি তাঁর প্রাপ্য ছিলনা ঠিকই কিন্তু এই পরিণতি তিনি আর এড়াতেও পারবেন না। মমতার স্তাবকরাই এখন তাঁর ফুটো নৌকা ছেড়ে, বিজেপি জাহাজে উঠতে আগ্রহী। মমতার দলের লোকদের নিয়ে গঠিত বিজেপি ক্ষমতায় আসলে "অপুত্রকের পুত্র হবে না নির্ধনের ধন" সেই বিতর্ক যথাসময়ে উঠবে তবে মহানায়িকার নাটকের এই পর্যায়ের ড্রপসিন পড়ার মানে যবনিকাপাতের ঘন্টা বেজে গেছে।

Thursday, September 10, 2020

আশায় মরে চাষা

 সন্দেশখালির কথা মনে আছে? হ্যাঁ, দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলার সেই সন্দেশখালির কথাই বলছি যেখানে ২০১৯ সালের ৯ই জুন, নির্বাচন পরবর্তী সংঘর্ষে নিহত হয়েছিলেন প্রদীপ মন্ডল, সুশান্ত মন্ডল সহ তিন বিজেপি কর্মী এবং তৃণমূল কংগ্রেসের এক কর্মী। ঘটনার প্রতিবাদে সোশ্যাল মিডিয়া কাঁপিয়ে দিয়েছিল বিজেপি কর্মীরা। "কড়ি নিন্দা" মার্কা রাজনাথ সিং এর বদলে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের দায়িত্বে এসেছিলেন অমিত শাহ আর তাই কর্মীরা আশায় বুক বেঁধেছিল যে এবার একটা হেস্তনেস্ত হবেই।

কর্মীদের আশার আগুনে ঘি ঢেলে, কেন্দ্র সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে ঘটনার তদন্ত করবে জাতীয় তপশিলি জাতি কমিশন। কমিশনের সদস্যরা ১৫ই জুন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলেন আর কমিশনের সামনে সাক্ষ্য দেয়ার জন্যে ডাকা হয়েছিল রাজ্য পুলিশের ডিজি, মুখ্যসচিব সহ অন্যান্য পদস্থ আধিকারিকদের। দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলায় হওয়া ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে লালবাজার, অর্থাৎ কলকাতা পুলিশের সদর দপ্তর, অভিযানও করলো বিজেপি। দলীয় কর্মীদের আশালতা ততক্ষণে প্রায় সপ্তম স্বর্গে পৌছে গেছে।

আর তারপর? না, তার আর পর নেই, সব ওখানেই শেষ। আজ, সেই ঘটনার ১৫ মাস পরে, প্রদীপ মন্ডলের নাম তো দূরের কথা, সন্দেশখালির ঘটনা কতজন কর্মীর মনে আছে সেটা নিয়ে সন্দেহের যথেষ্ট অবকাশ আছে। কারণ পার্টির কাছে কর্মীর মৃত্যু নেহাতই একটা ইস্যু। রাত পোহালে যদি নতুন ইস্যু এসে যায়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই পুরনো ইস্যু প্রাসঙ্গিকতা হারায়। কিন্তু বিষয়টা নিয়ে আমার ব্যক্তিগত আগ্রহ ছিল আর তাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে RTI দায়ের করেছিলাম।

RTI তে তিনটি বিষয় জানতে চেয়েছিলাম, ১) পশ্চিমবঙ্গে, গত ১০ বছরে, তপশিলি জাতি ও উপজাতিদের উপর ক'টা অত্যাচারের অভিযোগের প্রেক্ষিতে কমিশন রাজ্যে এসেছে। ২) রাজ্যে আসার পর কমিশনের প্রতিনিধিরা কি রিপোর্ট দিয়েছেন এবং ৩) সেই রিপোর্টের প্রেক্ষিতে সরকার কি ভূমিকা গ্রহণ করেছেন।

আমাকে অবাক করে দিয়ে আজ জাতীয় তপশিলি জাতি কমিশন জানিয়েছে যে ১নং প্রশ্নের কোন তথ্যই তাদের কাছে নেই আর ২ ও ৩ নং প্রশ্নের জন্যে তারা আমার অনুরোধ কলকাতা অফিসে পাঠিয়েছেন যদি সেখানে কোন তথ্য থেকে থাকে। এখন প্রশ্ন হল যে জাতীয় তপশিলি জাতি কমিশন তাহলে সন্দেশখালিতে এসেছিল কেন?

ঋণমুক্ত

 অনেকদিন আগের কথা, শহরের এক লেখক একটা প্রত্যন্ত গ্রামের দিকে বেড়াতে গেছেন। প্রথমবার গ্রামে গেছেন, যা দেখছেন সেটাই ভাল লাগছে। গ্রামে ঘুরতে ঘুরতে সন্ধ্যা হয়ে গেল, সেই ব্যক্তি সিদ্ধান্ত নিলেন যে আরও একদিন সেখানে থাকবেন। আরও ভালভাবে গ্রাম দেখবেন যাতে সেটা নিয়ে তিনি ভাল লেখা লিখতে পারেন।


রাতে থাকার সিদ্ধান্ত তো নিলেন, কিন্তু থাকবেন কোথায়? গ্রামে তো আর শহরের মত হোটেল নেই। গাড়িতে রাত কাটাতে পারেন কিন্তু সারাদিনের ক্লান্তির পর, গাড়িতে ঘুমালে ক্লান্তি মিটবেনা। একটু হাত-পা ছড়িয়ে ঘুমানোর যায়গা দরকার। লেখক রাস্তায় দেখা হওয়া কয়েকজনকে জিজ্ঞাসা করলেন, কিন্তু রাত্রিবাসের কোন খোঁজ দিতে পারলনা। অবশেষে সেই লেখক এক গ্রামবাসীর দেখা পেলেন যে জানালো যে পাশের গ্রামে একটা ছোট সরাইখানা মত আছে, সেখানে তিনি রাত কাটাতে পারেন। লেখক তো হাতে চাঁদ পেলেন, গাড়ি নিয়ে চললেন পাশের গ্রামে।

পাশের গ্রামে পৌছে, কয়েকজনকে জিজ্ঞাসা করে, তিনি অবশেষে সেই সরাইখানায় পৌছালেন। তার বেশভূষা আর সঙ্গে গাড়ি দেখে সরাইখানার মালিক বুঝে গেল যে বেশ শাঁসালো মক্কেল, তাই সে ঘরের চারগুন ভাড়া হাঁকলো। লেখক বেচারার তখন ক্লান্তিতে অবস্থা বেহাল, তাই তিনি সেই ভাড়াতেই রাজী হলেন, তবে থাকার আগে একবার ঘর দেখে নিতে চাইলেন। সরাইখানার মালিক তাকে অর্ধেক ভাড়া অ্যাডভান্স হিসাবে জমা দিতে বললেন, ঘর পছন্দ নাহলে সেটা ফেরত দিয়ে দেবেন। লেখক তার মানিব্যাগ থেকে ১০০ টাকা কাউন্টারে জমা দিয়ে, এক কর্মচারীর সাথে ঘর দেখতে গেলেন।

টাকা পাওয়া মাত্রই সরাইখানার মালিক ছুটলেন মাংসের দোকানে, সেখানে অনেক বাকি পড়ে গিয়েছিল। ১০০ টাকা দিয়ে তিনি ঋণমুক্ত হলেন। সেই ১০০ টাকা পাওয়া মাত্রই কসাই ছুটলেন তার বাঁধা গণিকার কাছে, বেচারিকে অনেকদিন টাকা দেয়া হয়নি। গণিকাকে ১০০ টাকা দিয়ে কসাইও ঋণমুক্ত হলেন। এদিকে গণিকারও সরাইখানাতে, যেখানে তিনি খরিদ্দারদের নিয়ে আসতেন, টাকা বাকি পড়েছিল। কসাই টাকা শোধ করতেই, তিনি সেই টাকা সরাইখানার মালিককে দিয়ে তিনিও ঋণমুক্ত হলেন।

ইতিমধ্যে সেই লেখক ঘর দেখে ফিরে এসেছেন আর যে দাম তাকে দিতে হচ্ছে, সেই অনুযায়ী ঘরের অবস্থা দেখে তার মোটেই পছন্দ হয়নি। তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে রাতটা তিনি গাড়িতেই কাটাবেন। কাউন্টারে ফিরে এসে সেই কথা তিনি সরাইখানার মালিককে জানালেন এবং অ্যাডভান্স করা টাকা ফেরত চাইলেন। এরকম শাঁসালো খদ্দের ফস্কে যাওয়ায় মালিকের একটু দুঃখ হল ঠিকই কিন্তু চুক্তি অনুযায়ী, বিনা বাক্যব্যয়ে তাকে টাকা ফেরত দিয়ে দিলেন।

দিনের শেষে, যার টাকা তার কাছেই ফিরে গেল আর মাঝখান থেকে তিনজন ঋণমুক্ত হয়ে গেলেন। দয়া করে কেউ এটার সাথে বলিউড ও রাজনীতির সম্পর্ক খুঁজবেন না। এটা নিছকই একটা গল্প।

Sunday, August 23, 2020

বাকস্বাধীনতা

 ভারতের বিচার ব্যবস্থা একটা যুগসন্ধিক্ষণের মুখে দাঁড়িয়ে আছে আর এই পরিস্থিতি তৈরী হয়ে বিখ্যাত আইনজীবী, প্রশান্ত ভূষণের দু'টি ট্যুইটের পরিপ্রেক্ষিতে। নিজের ট্যুইটে ভূষণ সুপ্রিম কোর্টের ভূমিকা এবং প্রধান বিচারপতির আচরণ নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তোলেন। তাঁর এই ট্যুইটের প্রেক্ষিতে, সর্বোচ্চ আদালত, বিচারপতি অরুণ মিশ্রর নেতৃত্বাধীন একটা বেঞ্চের অধীনে, ভূষণের বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে, আদালত অবমাননার মামলা করেন। নিজেদের এই মামলা থেকে বাঁচাতে ট্যুইটার স্বতঃপ্রণোদিতভাবে প্রশান্ত ভূষণের ট্যুইটগুলি ইতিমধ্যেই মুছে দিলেও বিতর্ক এতে থামেনি, বরং ইন্টারনেটে বাকস্বাধীনতার হয়ে সওয়াল করা Internet Freedom Foundation ট্যুইটার ইন্ডিয়াকে এই আচরণের জন্যে সমালোচনা করেছে। ভূষণের করা এই ট্যুইটের ভিত্তিতে, আদালতের নেয়া অবস্থানের ভিত্তিতেই প্রশ্ন উঠেছে যে বাকস্বাধীনতার সীমা কতটা এবং ভারতের বিচার বিভাগ কি সমালোচনার উর্ধ্বে? 


এই বিষয়ে সর্বোচ্চ আদালতে প্রশান্ত ভূষণের হয়ে দাঁড়িয়েছেন আরেকজন বিখ্যাত আইনজীবী, দুষ্ম্যত্ম দাভে। আদালতে তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় সওয়াল করেছেন যে ভূষণের ট্যুইট বাকস্বাধীনতার সীমাকে মোটেই অতিক্রম করেনি বরং আদালতই নিজের ক্ষমতার সীমারেখা অতিক্রম করে এই মামলা করেছে। দাভের যুক্তির সামনে বিচারপতি মিশ্রকেও বলতে হয়েছে যে তিনি নিজেও বাকস্বাধীনতার পক্ষপাতী আর সেই কারণেই তাঁর ২০ বছরের চাকরি জীবনে এটাই প্রথম আদালত অবমাননার মামলা যেটা তিনি গ্রহণ করেছেন।


এখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে যে প্রশান্ত ভূষণের ট্যুইট কি সত্যিই আদালতকে অবমাননা করেছে? এই প্রসঙ্গে বিচার চলাকালীন বিচারপতি মন্তব্য করেছেন যে তাঁর এই ট্যুইটের ফলে নাকি ভারতের বিচার ব্যবস্থার কাঠামো নড়ে গেছে। এটাই যদি বাস্তব হয়ে থাকে তাহলে তো এটাই এখন থেকে ট্যুইটারের বিজ্ঞাপন হওয়া উচিত যে তাদের মঞ্চ এতটাই শক্তিশালী যে সেটা বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের বিচার ব্যবস্থাকে পর্যন্ত নাড়িয়ে দিতে পারে। তাই এইসব হালকা মন্তব্যে কান না দিয়ে যদি কেসের মেরিট ধরে বিচার করা হয় তাহলে কি এটা অস্বীকার কোন যায়গা আছে যে বিগত কয়েক বছরে, দেশের সর্বোচ্চ বিচারালয় এমন সব আদেশ জারি করেছেন যেটা মোটেই আমাদের দেশের বিচার বিভাগের মূলমন্ত্র, সত্যমেব জয়তে-র সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়?


উদাহরণ স্বরূপ আসাম NRC এর উদাহরণ টানা যেতে পারে যেখানে তদানীন্তন প্রধান বিচারপতির অঙ্গুলিহেলনে পরিচালিত হয়েছিল সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া আর টার্গেট করা হয়েছিল বাঙালি হিন্দুদের? একইভাবে রামজন্মভূমি মামলাতে, সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাচারীর মত, ওয়াকফ বোর্ডকে দেয়া হয়েছে জমি। একটা জমির টাইটেল স্যুট সংক্রান্ত মামলায়, যে পক্ষ নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করবে, তারই তো জমির মালিকানা পাওয়া উচিত। একইভাবে, জাল্লিকাট্টু থেকে শবরীমালা, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিতাড়ন থেকে শনি সিংনাপুর মন্দির, প্রতিটা ক্ষেত্রেই বিচার বিভাগের অতি সক্রিয়তা বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয়। PM Care Fund, যেখানে কোটি কোটি টাকা জমা হয়েছে এবং সেই সংক্রান্ত আইনকে retrospective, মানে আইন আজ পাশ হলেও বলবৎ হবে আগের থেকে, ভিত্তিতে পরিবর্তন করা হচ্ছে আর তার সাথে সরকারি ফান্ড বলে সেটাতে CSR এর টাকা নেয়ার পরেও সেই ফান্ডকে RTI এবং CAG থেকে আড়াল করা হচ্ছে, তখন সেই ফান্ডের স্বচ্ছতার ব্যাপারে সর্বোচ্চ আদালতের ভূমিকা কি? এই প্রসঙ্গে প্রশান্ত ভূষণের দ্বারা পুরনো একটা সাক্ষাৎকারে বিচারকদের দুর্নীতি নিয়ে করা অভিযোগকেও টেনে আনা হয়েছে। মজার কথা হচ্ছে এই বিষয়ে কয়েকদিন আগেই বম্বে বার অ্যাসোসিয়েশনের প্রাক্তন সভাপতি, ইকবাল চাগলা, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস কাগজে লিখেছেন যে তাঁর সভাপতিত্বেই বার অ্যাসোসিয়েশন পাঁচ জন বিচারককে দুর্নীতির সাথে যুক্ত বলে রেজোল্যুশন পাশ করেন। আর হ্যাঁ, দুর্নীতি সবসময়ই যে টাকা নিয়ে হবে সেটা নয়, টাকার বদলে কোন পদ, বা পরিবারের কারুর কোন সুবিধা করে দেয়া ইত্যাদিও দুর্নীতির অঙ্গ। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে অবসর গ্রহণের কিছুদিন পরেই, ভারতের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি, রঞ্জন গোগোই, সংসদের উচ্চ কক্ষের সদস্য হিসাবে মনোনীত হন।


এই মামলায় আদালত কতটা মরিয়া হয়ে গেছে সেটা একটা বিষয় উল্লেখ করলেই স্পষ্ট হয়ে যাবে যে বিচারপতিরা দেশের প্রধান অধিবক্তা বা অ্যাটর্নি জেনারেল, শ্রী বেনুগোপালকেও আদালতে তাঁর সম্পূর্ণ বক্তব্য পেশ করতে দিচ্ছেন না। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে অ্যাটর্নি জেনারেল কিন্তু সরকারের প্রতিনিধি নন, সেই কাজ সলিসিটর জেনারেল করেন, বরং তিনি দেশের সর্বোচ্চ জুডিশিয়াল অফিসার যার দায়িত্ব সংবিধানের ভিত্তিতে সরকার ও বিচার বিভাগকে উপযুক্ত পরামর্শ দেয়া। আর সেই অ্যাটর্নি জেনারেল যখন আদালতে দাঁড়িয়ে ভূষণের স্বপক্ষে কথা বলছেন, তখন শুধু তাকে থামিয়ে দেয়া হচ্ছে তাই নয়, আদালতের রেকর্ডে তাঁর নামের উল্লেখও থাকছেনা। পরে নিজেদের ভুল বুঝে সেটা সংশোধন করা হয়।


এই প্রসঙ্গে এটা উল্লেখ করে রাখি যে আদালত অবমাননার দায়ে এই অধমের বিরুদ্ধেও হয়তো আগামীকাল মামলা হতে পারে কারণ গত ২১শে আগস্ট, প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি সংক্রান্ত একটা মামলার রায় দিতে গিয়ে, সর্বোচ্চ আদালত সেই ব্যক্তির আর পদে না থাকার যে বালখিল্য যুক্তি দিয়ে, মামলাটা খারিজ করেছেন সেটা আমার কাছে হাস্যকর। কোন ব্যক্তি আর সেই পদে নেই বলে, তার বিরুদ্ধে সেই পদের অপব্যবহার সংক্রান্ত কোন অভিযোগ করা যাবেনা এই যুক্তি মানলে তো একটা প্রশাসনিক রদবদল ঘটালেই যেকোন সরকারি কর্মীর অপরাধ মার্জিত হয়ে যাবে। এই যুক্তিতে তো 2G কেসে টেলিকম মন্ত্রী থাকাকালীন ডি রাজা বা অগাস্তা হেলিকপ্টার কেসে ভারতীয় বায়ুসেনার তৎকালীন প্রধান, ত্যাগীর বিরুদ্ধে সহ সারদা, নারদা ইত্যাদি কেসে অনেকের বিরুদ্ধেই আর কোন তদন্ত হওয়া উচিত নয়, কারণ তারা আর সেই পদে নেই।


বিচার বিভাগের প্রতি প্রত্যেক নাগরিকের অবশ্যই সম্মান থাকা উচিত কিন্তু সেই সম্মান বজায় রাখার দায়িত্ব স্বয়ং বিচার বিভাগের। এই বিষয়ে Collector Land Acquisition vs Mst. Katiji & Ors মামলায় (AIR 1987, SC 1353) আদালত নিজেই স্পষ্টাক্ষরে লিখেছেন যে, "It must be grasped that judiciary is respected not on account of its power to legalize injustice on technical grounds but because it is capable of removing injustice and is expected to do so."। এই প্রসঙ্গে একটা ঐতিহাসিক ঘটনার উল্লেখ করে এই লেখা শেষ করছি। Emperor vs Tilak [(1908) 10 BOMLR 848] মামলা, যার শুনানি ১৩ই জুলাই থেকে ২২শে জুলাই অবধি ৮ দিন ধরে হাইকোর্টে চলেছিল। মামলাতে লোকমান্য তিলকের পক্ষে সওয়াল করেছিলেন সেই সময় কলকাতা হাইকোর্টের বিখ্যাত ব্যারিস্টার, LP Evans Pugh এবং Garth। শুনানির কিছু পর্যায়ে মহম্মদ আলি জিন্নাহও তিলকের হয়ে সওয়াল করেন। শুনানি শেষ হলে, মামলার পার্সি বিচারপতি ডাবর, সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাচারীর মত, জুড়িদের প্রতি বিশেষ নির্দেশ প্রদান করেন আর সেই নির্দেশে তিনি বলেন যে, "“If one talks of patriotism in connection with bombs, bombs that effect murders, you are the judges of the question whether such a discussion tends or does not tend to bring Government established by law in India into hatred or contempt in the minds of the readers.”। এই নির্দেশের ফলে জুড়িদের রায় ৭-২ হিসাবে খন্ডিত হয় আর সেই খন্ডিত রায়ের ফলে, তিনি নিজের বিশেষাধিকার প্রয়োগ করে, লোকমান্য তিলককে, তাঁর কেশরী পত্রিকায়, বাংলায় সহিংস বিপ্লবী আন্দোলনকে সমর্থন করে লেখার জন্যে ছয় বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন। 


ডাবরের এই রায়ে খুশী হয়ে তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার তাকে নাইটহুড উপাদি দেয় এবং বম্বে বার অ্যাসোসিয়েশন তার সম্মানে ডিনারের আয়োজন করে। এই খবর জিন্নাহর চেম্বারে আসা মাত্রই তিনি ক্ষুরধার ভাষায় বার অ্যাসোসিয়েশনকে চিঠি লেখেন যে "the Bar should be ashamed to want to give a dinner to a judge who had obtained a knighthood by doing what the Government wanted and by sending a great patriot to jail." অর্থাৎ তিলকের মত দেশভক্তকে কারাদণ্ডাদেশ দেয়া আর সরকারের পদলেহন করে নাইটহুড পাওয়া ব্যক্তির সম্মানে ডিনার আয়োজন করার জন্যে বার অ্যাসোসিয়েশনের লজ্জা হওয়া উচিত।


লেখার শেষ করবো Evelyn Beatrice Hall নাম্নী এক লেখিকার, যিনি S.G. Tallentyre ছদ্মনামে লিখতেন, বিখ্যাত সেই উক্তি দিয়ে, "I do not agree with what you have to say, but I'll defend to the death your right to say it" মানে অপরের বক্তব্য আমার মনের মত নাও হতে পারে কিন্তু তার বক্তব্য রাখার অধিকারকে আমি কখনই অস্বীকার করতে পারিনা। বিচারালয় হোক বা প্রশাসন, তারা যদি ক্ষেত্রবিশেষে চুপ থাকে আর ক্ষেত্রবিশেষে মুখর হয়, তাহলে সেটা অন্যায়।

Sunday, August 16, 2020

প্রত্যক্ষ সংগ্রাম দিবস

প্রতি বছর ১৬ই আগস্ট আমাদের ১৯৪৬ সালের ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে'র কথা মনে করিয়ে দেয় আর প্রশ্ন তোলে যে আমরা কতটা প্রস্তুত আছি। সেদিন জিন্নাহর আহ্বানে হওয়া প্রত্যক্ষ সংগ্রাম দিবসের মর্ম হিন্দুরা প্রথমে বুঝতে পারেনি। তারা ভেবেছিল যে সেটা কোনও ছুটির দিন। তাদের ভুল ভাঙলো যখন সংযুক্ত বাংলার তদানীন্তন প্রধান, সোহরাওয়ার্দীর প্রত্যক্ষ মদতে, কলকাতার অলিগলিতে, জেহাদিরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল নিরীহ হিন্দুদের উপর। গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং নামে কুখ্যাত সেই হত্যাকাণ্ডের সময়, বাংলার কষাই নামে কুখ্যাত সোহরাওয়ার্দীর আদেশে প্রশাসন ছিল নিষ্ক্রিয়। এই আক্রমণ আর কয়েকদিন চললে কলকাতা হিন্দু শূন্য হয়ে যেত যদি গোপাল পাঁঠা (মুখোপাধ্যায়), বিজয় সিং নাহারের মত হিন্দুরা, ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের সমর্থনে, একযোগে রুখে না দাঁড়াতেন এবং জেহাদিদেরকে তাদের ভাষাতেই জবাব না দিতেন। হিন্দু প্রতিরোধ গড়ে ওঠার পরেই সোহরাওয়ার্দী সেনা নামাতে বাধ্য হন।

১৯৪৬ সালে প্রতিরোধের পরেও প্রায় ছয় দশক ধরে এই কলকাতাতেই বসবাস করেছিলেন গোপাল মুখোপাধ্যায় ওরফে গোপাল পাঁঠা কিন্তু না কোন রাজনৈতিক দল আর না কোন সামাজিক সংগঠন তাঁর কীর্তি ও প্রত্যক্ষ সংগ্রামের ইতিহাস বাঙালীর কাছে তুলে ধরেনি। অ্যাকাডেমিক মহলে বা স্থানীয় এলাকায় তিনি পরিচিত নাম হলেও, আপামর বাঙালীর কাছে তিনি ছিলেন অপরিচিত। আর অ্যাকাডেমিক কারণেও যারা ১৯৪৬ সালের পরিকল্পিত হিন্দুহত্যা এবং পরবর্তীতে হিন্দুদের প্রতিরোধের কথা জেনেছিলেন, তাঁরাও বিষয়টা নিয়ে আর খুব বেশী এগোননি। তাই ২০০৫ সাল অবধি তিনি কলকাতাতে জীবিত থাকলেও, তাঁর একমাত্র সাক্ষাৎকারটাও একজন বিদেশীর নেয়া।

চাকা ঘুরতে শুরু করলো ২০১৩ সাল থেকে যখন প্রবাসী কিছু সমর্থকের প্রয়াসের পরিপ্রেক্ষিতে ৪৬ এর গণহত্যা ও গোপাল পাঁঠার ভূমিকা নিয়ে সরব হলেন হিন্দু সংহতির প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি, স্বর্গীয় তপন ঘোষ। তার পর থেকে, ২০১৮ সাল পর্যন্ত, প্রতি বছর মুসলিম লীগের ডাকে হওয়া প্রত্যক্ষ সংগ্রাম দিবস আর হিন্দুদের প্রতিরোধের স্মৃতিতে আয়োজিত হয়েছে অনুষ্ঠান। সেই বিশেষ দিনটা তে, কলকাতার রাস্তায় দাপিয়ে বেড়িয়েছে গোপাল পাঁঠার উত্তরাধিকারীরা। বাঙালীকে তাঁর ভুলে যাওয়া ইতিহাস এবং লড়াইয়ের সাফল্য পুনরায় মনে করিয়ে দিয়েছিল তপন দা।

তাঁর এই লড়াই সহজ ছিলনা। সমাজের বিভিন্ন হিন্দু বিরোধী শক্তির সাথে সাথে, হিন্দুত্বের তথাকথিত ধ্বজাধারী দলটিও তপনদার এই অনুষ্ঠান কে ব্যর্থ করতে উদ্যোগী হয়েছিল। ২০১৪ সালের এই বিশেষ দিনটাতেই, হঠাৎ তাদের ফুটবল প্রেম জেগে উঠেছিল। তাদের দলের সমর্থকরা যাতে তপনদার অনুষ্ঠানে না যায়, সেই জন্যে সেই বছর ১৬ আগস্ট আয়োজিত হয়েছিল পদযাত্রা। আর সেই পদযাত্রার সামনের সারিতে ছিলেন তৎকালীন রাজ্য বিজেপির এক নেতা যিনি বর্তমানে পূর্ব ভারতের একটা রাজ্যে রাজ্যপাল হিসাবে নিযুক্ত আছেন এবং তপনদার প্রয়াণের পর, সোশাল মিডিয়ায় আয়োজিত বিভিন্ন ওয়েবিনারে সুন্দর সুন্দর কথা বলে আসছেন। যাই হোক, তপনদার সভার সাফল্যে দেখে, সেই ফুটবল প্রেম আর টেঁকেনি আর তপনদার সৌজন্যে আজ বাঙালীও পেয়ে গেছে তাদের নিজস্ব আইকন।

Sunday, August 9, 2020

প্রাইভেট চ্যাট

কোন মতবাদ বা দর্শনের সাফল্য সেটায় বিশ্বাসীদের মানব সম্পদের উপর নির্ভরশীল। আমার বা আপনার কাছে সেই মতবাদ বা দর্শন ভুল বা অযৌক্তিক হতেই পারে কিন্তু সেটা সেই মতবাদের প্রসারণের ক্ষেত্রে determining factor নয়। উদাহরণ স্বরূপ ইসলাম বা বৈষ্ণবদের কথা বলা যেতে পারে। বিভিন্ন প্রতিকূলতা সত্ত্বেও এদের প্রসার ঘটেছে কারণ এদের অনুগামীরা এই মতবাদের প্রতি নিবেদিতপ্রাণ আর সেটা প্রসারের জন্যে তাঁরা যেকোন পর্যায়ে যেতে পারেন।


এর সম্ভবত একটা কারণ মতবাদগুলির rigidity। তার ফলে, এদের অনুগামীদের কাছে সবকিছুই হয় সাদা, নয় কালো, মাঝামাঝি কোন স্থান নেই। উল্টো  দিকে সনাতন সংস্কৃতি অনেক বেশী flexible। সেখানে সাদা আর কালোর মিশেলে ধুসর রঙের অস্তিত্বও স্বীকৃত। এই flexibility ই এককালে সনাতন ধর্মের প্রসারে সহায়ক হয়েছে আবার এটাই সেই সেই ধর্মের ক্ষয়িষ্ণুতার অন্যতম কারণ। একই সংস্কৃতি যে কারণে প্রসারিত হয়েছে, সেই কারণেই সঙ্কুচিত হয়েছে এটা বোঝা একটু কষ্টকর আর সেখানেই আসে অনুগামীদের ভূমিকা।


অনুগামীরা যদি সংস্কৃতি বা দর্শনের প্রতি আন্তরিকভাবে বিশ্বাসী না হয়, কেবলমাত্র ব্যক্তি বা গোষ্ঠী স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্যে সেই সংস্কৃতির দোহাই দিয়ে থাকে বা ব্যবহার করে থাকে, তাহলে এই পরিণতি স্বাভাবিক। উদাহরণ স্বরূপ পশ্চিম বা উত্তর ভারতের বেশ কিছু পরিবারের কথা বলা যায় যারা নিজেদের বাড়িতে নিরামিষ ভোজন করলেও বাইরে অনায়াসেই আমিষ খেয়ে থাকেন। কেউ আমিষ খাবেন না নিরামিষ সেটা প্রত্যেকের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত কিন্তু সম্পত্তি পাওয়ার স্বার্থে, বাড়ির বয়স্কদের খুশি রাখার জন্যে বাড়িতে নিরামিষ খাওয়া আর বাইরে আমিষ খাওয়া - এটা নিছক প্রতারণা, সাদা বাংলায় hypocrisy।


একইভাবে, যারা নিজেদের পাব্লিক পোস্টে, জনগণকে হিন্দুত্ব ও বাঙালিত্বর তত্ত্ব ও আদর্শ নিয়ে গুরুগম্ভীর বাণী বিতরণ করে থাকেন আর প্রাইভেটলি মহিলাদের নিয়ে, এমন বোন সম্পর্কের মেয়েদের নিয়েও, ধারাবাহিকভাবে নোংরামি করে চলে আর সেই কথা প্রকাশ্যে চলে আসলে, যার মাধ্যমে বাইরে এসেছে তাকে টার্গেট করার জন্যে জেহাদিদের কাছে আমন্ত্রণ জানায়, মাফ করবেন, তারা আমার কাছে "take it easy" নেয়ার মত নয়। একইসাথে, যেসব বিদগ্ধজনেরা এই ঘটনাকে "shit happens" বলে লঘু করে দেয়ার চেষ্টা করছে তাদের দেখে, হিন্দু মহিলাদের উপর জেহাদিদের দ্বারা হওয়া অত্যাচারের প্রেক্ষিতে, মুসলমানদের উচ্চবর্গের প্রতিবাদ বিহীন থাকার কারণ নিয়ে লেখা শরৎচন্দ্রের সেই কথা মনে পড়ে যাচ্ছে যে "বাপু, সুযোগ পাইলে তো আমিও ঐ কাজই করিতাম"।

Thursday, August 6, 2020

প্রশাসন দখল

হিন্দুরা যখন নরেন্দ্র মোদীর হাতে ধরে শ্রী রাম মন্দিরের ভূমি পূজন নিয়ে উচ্ছসিত হচ্ছে ঠিক তখনই, সেই নরেন্দ্র মোদীর 'হুনর হাত' ধরে, খুবই সুপরিকল্পিত উপায়ে, কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক মহলে নিজেদের প্রতিনিধিত্ব বাড়িয়ে চলেছে মুসলমানরা। ২০১৬ সালে যেখানে UPSC তে সফল হওয়া মুসলমান প্রার্থীর সংখ্যা ছিল ২.৫%, মাত্র ৪ বছরের মধ্যেই সেটা দ্বিগুণ হয়ে গেছে। 

এই বছর UPSC তে সফল হওয়া ৪০ জন মুসলমান প্রার্থীর মধ্যে ২৭ জনই হলো জাকাত ফাউন্ডেশনের শিক্ষার্থী। জাকাত ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা হলেন শিকাগো নিবাসী হালিল ডেমির আর এই সংস্থায় বার্ষিক অনুদানের পরিমাণ প্রায় ৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

ভারতের প্রশাসনে এইভাবে বিদেশী পুঁজি আর বিদেশী সংস্কৃতির ক্রমবর্ধমান অনুপ্রবেশ এবং আগামী দিনে সেটার পরিণতি নিয়ে কি নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ বা দেশবাসীরা আদৌও সচেতন?

https://www.news18.com/news/india/upsc-registers-40-increase-in-number-of-successful-muslim-candidates-this-year-2758205.html