Tuesday, November 19, 2019

মোদীর বঙ্গ নীতি

পশ্চিমবঙ্গ তথা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি দেখে আমার মনে হয়না যে মোদী, ২০২১ সালের নির্বাচনে, মমতাকে ক্ষমতা থেকে সরাতে ইচ্ছুক বা প্রস্তুত। আর মোদীর সাথে দিল্লীতে শেষ বৈঠকের পর মমতাও সেটা বুঝে গেছেন।

কথাটা দলদাসদের কাছে অপ্রিয় হলেও, আমার মতে, বাস্তবে মমতার ক্ষমতায় থাকাই মোদীর কাছে সুবিধাজনক। এর অনেকগুলো কারণ আছে- ১) দেশের সব রাজ্যকে এক রঙে রাঙিয়ে তুললে সেটা বিদেশে ভারতের গণতন্ত্র সম্পর্কে মোটেই ভাল বিজ্ঞাপন হবেনা। ২) বাংলা আর কেরল হচ্ছে বিজেপির কাছে পাঞ্চিং ব্যাগের মত। এই দুই রাজ্যে হিন্দুদের উপর হওয়া অত্যাচার ভাঙিয়ে বিজেপির রাজনৈতিক লাভ। এই কারণেই উত্তর প্রদেশে কমলেশ তিওয়ারির মত হাইপ্রোফাইল হত্যা নিয়ে বিজেপির আইটি সেল নীরব থাকে আর জাঙ্গিপুর হত্যা নিয়ে সরব হয়। ৩) বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের আর্থিক ও সামাজিক পরিস্থিতি এমন শোচনীয় পর্যায়ে পৌছে গেছে যে সেটার পুনরুদ্ধার স্বল্পমেয়াদে সম্ভব নয় অথচ বিজেপি ক্ষমতায় আসলে, জনগণের প্রত্যাশার দায়ভার তাদেরকে বহন করতে হবে। ৪) পশ্চিমবঙ্গে দলের মুখ হিসাবে যোগ্য নেতার অভাব। ৫) ক্ষমতা থেকে সরে গেলে তৃণমূল দলটাই বিলুপ্ত হয়ে যাবে আর তখন তাদের হৃত যায়গা পুনরুদ্ধার করবে সিপিএম। যে কোন দিনে, মোদীর কাছে, প্রতিপক্ষ হিসাবে, কম্যুনিস্টদের থেকে মমতা অনেক বেশী গ্রহণযোগ্য।

এই কারণে, এই রাজ্য থেকে লোকসভা নির্বাচন নিয়ে মোদী যতটা উদ্যোগী ছিলেন, যেহেতু সেটা সরাসরি তাঁর সরকারের ক্ষমতাকে প্রভাবিত করতো, বিধানসভা নিয়ে অতটা উদ্যোগী হবেননা। কিন্তু এরপরেও দুটো 'কিন্তু' রয়ে যায়। প্রথম 'কিন্তু' হলেন, অমিত শাহ। মোদী অমিত শাহর মতামতকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেন আর শাহ যদি রাজনৈতিক অঙ্ক কষে, পশ্চিমবঙ্গ জয়ে দলের লাভ দেখেন, তাহলে মোদী নিঃসন্দেহে তার পরামর্শ অনুযায়ী চলবেন। অমিত শাহর পরেই যে নামটা আসবে সেটা হলো রাজ্যসভা সাংসদ, স্বপন দাসগুপ্ত। দিল্লীতে মোদীর পড়শী এবং রাজনীতিতে নতুন চাণক্য স্বপন বাবুর মতামতও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করবে।

দ্বিতীয় 'কিন্তু' হল এই রাজ্যের জনগণের মনোভাব। ২০২১ এর নির্বাচন যদি অবাধ নির্বাচন হয়, তাহলে বিজেপি চাক বা নাই চাক, তৃণমূলের প্রতি বীতশ্রদ্ধ জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত ভোট বিজেপির বাক্সে গিয়ে, তাদেরকেই জয়মাল্য পরাতে পারে। সেক্ষেত্রে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে বিকল্প পরিস্থিতি নিয়ে পুনরায় পর্যালোচনা করতে হবে।

Saturday, August 24, 2019

আধার সংযুক্তি

প্রতিটা সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের সাথে আধার যুক্ত করার জন্যে উদ্যোগ নিয়েছেন কেন্দ্র সরকার। এই উদ্যোগের পক্ষে তাদের যুক্তি হল যে, এর দ্বারা ভুয়ো অ্যাকাউন্ট তৈরী করা যাবেনা, ফলে প্রশাসনের পক্ষে কোন পোস্টের উৎসকে খুঁজে বের করা সহজ হবে। সরকারের মতে, এই লিঙ্কিং-এর ফলে সন্ত্রাসবাদী ও বিচ্ছিন্নতাবাদীদের চিহ্নিত করতে প্রশাসনের সুবিধা হবে।

সরকারের পক্ষ থেকে যতই নিরাপত্তার দোহাই দেয়া হোকনা কেন, প্রশাসনের যদি সদিচ্ছা থাকে তাহলে কোন অ্যাকাউন্টকে চিহ্নিত করার জন্যে তার IP address যথেষ্ট।  বর্তমানে নিজেদের IP address লুকানোর জন্যে অনেকেই VPN ব্যবহার করেন এটা ঠিক কিন্তু সেক্ষেত্রে আধারও কোনও ফুলপ্রুফ পদ্ধতি নয় যেখানে ভারতে আটক অধিকাংশ অনুপ্রবেশকারী বা জঙ্গীদের থেকে বাজেয়াপ্ত করা নথির মধ্যে আধার কার্ড হল অন্যতম কমন ডকুমেন্ট।

ভারতে আধার কার্ড মোটেই আমেরিকার সোশাল সিকিউরিটি নম্বরের মত সুরক্ষিত তথ্য নয় যেটার নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরিভাবে সরকারের কাছে রয়েছে। আধার বিল, যাকে 'মানি বিল' হিসাবে, রাজ্যসভার অনুমোদন ছাড়াই পাশ করা হয়েছে, সেখানে আধারের নিয়ন্ত্রণ দেয়া হয়েছে UIDAI নামক একটা স্বশাসিত সংস্থাকে। ভারতের মত দেশে, যেখানে প্রায় প্রতিটা, তথাকথিত, স্বশাসিত সংস্থা বাস্তবে সরকার মুখাপেক্ষী আর যে কারণে দেশের সর্বোচ্চ গোয়েন্দা সংস্থা, CBI কেও দেশের সর্বোচ্চ আদালত 'খাঁচার তোতাপাখি' বলে, সেখানে তাদের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে বাধ্য। তবে স্বশাসিত সংস্থা বানানোর একটা মজা তো আছেই যে তাদের উপর বকলমে সরকারি নিয়ন্ত্রণ থাকলেও, তাদের দায় সরকারকে নিতে হয়না।

২০১৬ সালে, আমেরিকার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পরে জনসমক্ষে আসা, কেম্ব্রিজ অ্যানালেটিকা’র মত কোম্পানি তাদের কাছে প্রতিটা আমেরিকান ভোটারের অন্তত ৫০০০ ডাটা পয়েন্ট থাকার দাবী করেছিল। তার আগে, ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর নির্বাচনে, এই কেম্ব্রিজ অ্যানালেটিকা’র নেতৃত্বেই শুরু হয়েছিল "Do So" ক্যাম্পেইন। এই ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে অ্যাফ্রো-আমেরিকানদের মধ্যে রাজনীতি বিরোধী মানসিকতা গড়ে তোলা হয়, ফলে তারা ভোটদানে বিরত থাকে আর ইন্দো-আমেরিকানদের ভোটে ক্ষমতায় আসেন নতুন সরকার। Leave.EU ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে, ব্রিটেনে ব্রেক্সিটের পক্ষেও জনমত গড়ে তুলতে বড় ভূমিকা নেয় এই কেম্ব্রিজ অ্যানালেটিকা।

যাবতীয় তথ্য সামনে আসার পরে, তদন্ত থেকে বাঁচতে, সেই কোম্পানিটি বন্ধ করে দেয়া হলেও, তাদের কাছে ইউজারদের কি ডাটা আছে, সেই তথ্য কোর্টের আদেশের পরেও প্রকাশ করেনি কোম্পানি। বরং মেট্রোপলিটন কোর্টে নিজেদের অক্ষমতা প্রকাশ করে, দোষ স্বীকার করেছে। আজকের তারিখে, আপনি ফেসবুক বা গুগলে যাই করছেন, তার রেকর্ড থেকে যাচ্ছে কোম্পানির কাছে। আপনি কাদের, কোন ছবি বা লেখা পছন্দ করছেন, কোন বিজ্ঞাপন দেখে স্ক্রোল করা থামাচ্ছেন, কোন সাইটে কতক্ষণ থাকছেন ইত্যাদি দিয়ে তৈরী হচ্ছে আপনার প্রোফাইল আর নির্বাচনের সময় সেই প্রোফাইল বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে আর সেটারই ভিত্তিতে আপনার টাইমলাইনে আসছে আপনাকে প্রভাবিত করার তথ্য।

এমতাবস্থায়, সেগুলোর সাথে আধারকে যুক্ত করা মানে আপনার আর্থিক লেনদেনের চাবিকাঠিও তাদের হাতে তুলে দেয়া। বছরখানেক আগে একটি মামলায়, সুপ্রিমকোর্ট গোপনীয়তার অধিকারকে স্বীকৃতি দিয়ে, আধারের সাথে মোবাইল নম্বরের বা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সংযুক্তি বাধ্যতামূলক না করার পক্ষে রায় দিলেও, সরকার ঘুরপথে আবার সেই কাজেই ব্রতী হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট আধার আইনের বিতর্কিত ৫৭ ধারা বাতিল করে, প্রাইভেট অপারেটরদের আধারের ডাটা ব্যবহার করার অধিকার কেড়ে নিয়ে, শুধু ব্যাঙ্ক আর নিয়ন্ত্রিত কিছু সংস্থাকে সেই অধিকার দিলেও, কেন্দ্রীয় সরকারের সোশ্যাল মিডিয়ার সাথে আধারের সংযুক্তির প্রস্তাব বাস্তবে কোর্টের আদেশের বিরুদ্ধেই যাচ্ছে।

গণতন্ত্র মানে পুলিসতন্ত্র নয়। আর ভারতের আইনের মূল স্পিরিটই হল যে ১০ দোষী যদি ছাড়া পায় তো পাক, কিন্তু একজন নির্দোষের যেন শাস্তি না হয়। অথচ বর্তমানে, নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে, সেই স্পিরিটকে বুড়ো আঙুল দেখাতে চাইছেন মোদী সরকার। বিরোধী শূন্য, একদলীয় সরকার গণতন্ত্রের পক্ষে কতটা লাভজনক সেটা ক্রমেই দেশবাসীর কাছে স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

https://eisamay.indiatimes.com/west-bengal-news/others/aadhaar-social-media/articleshow/70759327.cms

Friday, June 7, 2019

প্রশান্ত কিশোরের নিযুক্তি


২০২১ সালের কথা মাথায় রেখে প্রশান্ত কিশোরের নিয়োগ প্রমাণ করছে যে নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার জন্যে মমতা ব্যানার্জীর নিজের ভাবমূর্তির উপর ভরসায় চিড় ধরেছে। কিন্তু সাথে তার সাথে এটাও প্রমাণ করছে যে এখনও মমতা ব্যানার্জীর সেই নমনীয়তা আছে  যা পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তাকে অন্যরকম ভাবতে সাহায্য করে। রাজনীতিতে এই নমনীয়তাই নেতানেত্রীদের নিজেদের প্রাসঙ্গিকতা ও জনপ্রিয়তা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
প্রশান্ত কিশোর কতটা সফল হবেন সেটার উত্তর ভবিষ্যতের গর্ভে কিন্তু তার প্রাথমিক কাজ যে, মমতা ব্যানার্জীর ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি ও সরকারের জনপ্রিয়তা পুনরুদ্ধার করা হবে, সে বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই। মমতা ব্যানার্জী ও তার বর্তমান পরামর্শদাতাগণ যতই চোখ বুঝে থাকুন, প্রশান্ত কিশোরের মত ধুরন্দর স্ট্র‍্যাটেজিস্ট এটা বুঝবেন যে এবারের লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল যে মুসলিম ভোট পেয়েছে, সেটা আগামীতে কমবে। এই নির্বাচনে বিজেপি যে এরকম সাফল্য পাবে, সেটা তাদের ধারণাতে ছিলনা। ইতিহাস সাক্ষী যে এই রাজ্যের মুসলমানরা সবসময়ই আঞ্চলিক দলের বদলে জাতীয় দলকে পছন্দ করে আর এই কারণেই মালদা, মুর্শিদাবাদ ও উত্তর দিনাজপুরের মত মুসলিম বহুল জেলায় তৃণমূল কখনই সেরকম সাফল্য পায়নি যেটা অন্যান্য জেলায় পেয়েছে।
এই রাজ্যে বিজেপির বিকল্প শক্তি হিসাবে উঠে আসার ফলে, মুসলমানরা স্বাভাবিকভাবেই তাদের দিকে সরতে থাকবে। বিজেপিতে মুসলমান ভোট বৃদ্ধির ফলে তাদের মধ্যে 'সেকুলার' হওয়ার প্রবণতাও বাড়বে। এমতাবস্থায়, প্রশান্ত কিশোরের প্রাথমিক কাজ হবে মমতার #হিজাবি_দিদি ভাবমূর্তি বদলানো এবং তরুণ প্রজন্মের মন জয় করতে MSME এর অধীন বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে #কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করা। ইদানীং মমতা ব্যানার্জী বিভিন্ন জনসভা, সাংবাদিক সম্মেলন ও আলাপচারিতায় যে ভাষা ব্যবহার করছেন সেটা মাথায় রেখে প্রশান্ত কিশোর যদি মুখ্যমন্ত্রীর কোন মিডিয়া মুখপাত্র নিয়োগ করেন, তাহলেও আমি অবাক হবনা। কিন্তু দিনের শেষে সবটাই নির্ভর করবে মমতা ব্যানার্জী তার নিয়োজিত উপদেষ্টার কথা কতটা শুনছেন, সেটার উপর। নিয়োগের ক্ষেত্রে যে নমনীয়তা তিনি দেখিয়েছেন, পরামর্শ পালনের ক্ষেত্রেও সেই নমনীয়তা বজায় রাখলে তিনি নিজের হৃত জমির অনেকটাই পুনরুদ্ধার করতে পারেন কিন্তু নিজের স্বভাবসিদ্ধ ঔদ্ধত্যের কারণে তিনি যদি সেটা না করেন তাহলে তার আম ও ছালা- দু'টো হারাতে ২০২১ অবধি অপেক্ষা করতে হবেনা।

Thursday, June 6, 2019

মোদী ২.০

গত ১২ই ডিসেম্বর, ২০১৮ তারিখে, এই ফেসবুকেই লিখেছিলাম যে দিল্লীর রাজনীতিতে অনভিজ্ঞ থাকার ফলে নরেন্দ্র মোদীকে কিভাবে অরুণ জেটলীর মত নেতাদের উপর নির্ভরশীল হয়ে ছিলেন। সেই পোস্টের লিঙ্কও দিয়ে দিলাম আগ্রহীরা লিঙ্কে ক্লিক করে দেখে নিতে পারেন। (https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=10156231022014865&id=620989864)। সেদিনই বলেছিলাম যে অরুণ জেটলী, সুষমা স্বরাজ বা রাজনাথ সিং দের সরকারে নেয়াটা মোদীর ইচ্ছা নয়, বাধ্যবাধকতা। রাজধানীর রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার কারণে বিজেপির এই প্রবীণ নেতানেত্রীরা প্রত্যেকেই নিজেকে প্রধানমন্ত্রী পদের উপযুক্ত বলে মনে করতেন, কিন্তু দেশের লোকের, তাদের উপর, সেই বিশ্বাস ছিলনা।

পাঁচ বছর ক্ষমতায় থেকে, দিল্লীর রাজনীতিতে নিজের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার পর, আজ দেখুন জেটলী ও স্বরাজ - দু'জনেই সরকারের বাইরে। উত্তর প্রদেশের রাজনীতির সুবাদে রাজনাথ সিংকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের দায়িত্ব দেয়া হলেও, Appointments Committee of the Cabinet এবং Cabinet Committee on Political Affairs এর মত গুরুত্বপূর্ণ কমিটিতে তিনি ব্রাত্য। আরেকজন প্রবীন নেতা, নীতিন গডকরি ও CCS এর মত গুরুত্বপূর্ণ কমিটিতে জায়গা পাননি। মোট আটটা কমিটির প্রত্যেকটাতেই একটা নাম Common- অমিত শাহ - মোদীর সবচেয়ে বিশ্বস্ত সঙ্গী।

২০১৪ সালের মোদী, দিল্লীর পুরনো নেতাদের প্রভাব ও রাজনীতির সাথে অপরিচিত হলেও, ২০১৯ এর মোদী অনেকটাই পরিণত। সংসদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা তাকে বাড়তি মনোবল যুগিয়েছে। তাই আগামীদিনে রাজনাথ বা গডকড়িদের প্রভাব কমতে থাকবে আর বাড়বে সীতারামন, পীযুষ গোয়েল আর জয়শঙ্করদের প্রভাব। নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবেন শাহ আর দোভাল। শাহ যদি যুগপৎ দল আর মন্ত্রকের দায়িত্ব সামলান, যদি বিজেপির সংবিধান অনুসারে সেটা সম্ভব নয়, তাহলে আমি অবাক হবনা কারণ এই কাজে, আজকের দিনে মোদীর কাছে শাহ-র চেয়ে ভাল কেউ নেই। বাকি রইল সংবিধানের কথা, মোদীর পক্ষে সেটা বদলানো কোন বড় ইস্যু নয়। After all, মানুষের জন্যে আইন, আইনের জন্যে মানুষ নয়।

Wednesday, June 5, 2019

বাঙালীত্ব

লোকসভা নির্বাচনের সময় থেকেই, বিজেপির বিভিন্ন নেতা ও তাদের IT Cell পশ্চিমবঙ্গের একটা খণ্ডিত মানচিত্র বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে যাচ্ছে। উক্ত মানচিত্রে, কিছু বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দাবীকৃত গোর্খাল্যান্ডের অংশকে, পশ্চিমবঙ্গের অংশ হিসাবে দেখানো হচ্ছেনা। পাকিস্তান যেমন তাদের অধিকৃত কাশ্মীরকে বাদ দিয়ে ভারতের মানচিত্র প্রকাশ করে, ব্যাপারটা অনেকটাই সেরকম। এটা একবার হলে, ভুল বলে মেনে নেয়া যেত, কিন্তু যেহেতু এটা বিভিন্ন নেতার দ্বারা বারবার করা হচ্ছে, তাই এটা স্পষ্ট যে এটা কোন অনিচ্ছাকৃত ত্রুটি নয়, বরং বৃহৎ কোন ষড়যন্ত্রের অংশ।

এমতাবস্থায়, সকল বাঙালীর দায়িত্ব এই মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে দলমত নির্বিশেষে সোচ্চার হওয়া। এখানে উল্লেখ্য যে আমি বাঙালী বলতে শুধু বাংলাভাষীদের কথা বলছিনা, এই রাজ্যে বসবাসকারী হিন্দি, পাঞ্জাবী, তামিল, তেলেগু ইত্যাদি ভাষাভাষীদের কথাও বলছি। বাঙালী পরিচয় শুধুমাত্র ভাষাভিত্তিক নয়, এরসাথে ভারতের সনাতন সংস্কৃতিরও যোগসূত্র রয়েছে। বাংলায় বসবাসকারী যে কারুর জন্যে বাংলার স্বার্থ রক্ষা সর্বোপরি হওয়া কাম্য।

প্রত্যেকটা রাজ্যের একটা আলাদা পরিচয় থাকে, আর সেই পরিচয় পরিলক্ষিত হয় সেই রাজ্যের অধিবাসীদের আচরণে। কর্মসূত্রে অন্য রাজ্য থেকে এখানে এসে, কয়েক প্রজন্ম ধরে এই রাজ্যে বসবাসকারী ভিন রাজ্যের বাসিন্দারা যদি এখনও নিজেদের বাঙালী পরিচয় নিয়ে এবং রাজ্যের স্বার্থরক্ষা নিয়ে কুন্ঠায় থাকেন তাহলে তাদের সাথে সেই মুসলানদের কোন তফাৎ থাকবেনা যারা ১৯৪৭ সালে বঙ্গমাতাকে টুকরো করে, নিজেদের বখরা বুঝে নিয়েছিল। একইভাবে, যেসব বাংলাভাষীরা রাজনৈতিক স্বার্থের জন্যে রাজ্যকে পুনরায় খন্ডিত করার প্রয়াসের হাওয়া দিচ্ছেন, তারাও সেই মুসলমানদের মতই ঘৃণিত।

এই রাজ্য বা অন্য রাজ্যে বসবাসকারী যেকোন বাঙালীর জন্যে এই বাংলা শুধু একটা ভূমিখণ্ড নয়, এটা তাদের আবেগ, অভিমান এবং অস্তিত্বের পরিচয়। কোন নেতা বা দল যদি নিজেদের স্বার্থে সেই পরিচয়কে বিকৃত করে, তাহলে বাংলার অপমান, বাঙালীর অপমান। ১৯৪৭-এর ঘরপোড়া গরু বাঙালী আজ তাই সিঁদুরে মেঘ দেখে সন্দিহান। বাঙালী একবার পরজীবিদের কাছে নিজেদের জমি খুইয়েছে, সেই ভুল কিন্তু সে দ্বিতীয়বার করবেনা।

Tuesday, November 27, 2018

কারুর পৌষ মাস...

নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী, নরেন্দ্র মোদী ঢাকঢোল পিটিয়ে, মাঝারি ও ক্ষুদ্র শিল্পের জন্যে বিভিন্ন ব্যাঙ্ক থেকে মাত্র ৫৯ মিনিটে ঋণ পাওয়ার জন্যে একটি প্রকল্প ঘোষণা করেছেন। এই ঋণের আবেদন করার জন্যে একটা অনলাইন পোর্টালও তৈরি করা হয়েছে যেটা হল www.psbloansin59minutes.com যেখানে রেজিস্ট্রেশন করিয়ে আগ্রহী ব্যক্তিরা ঋনের জন্যে আবেদন করতে পারেন।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে এর আগে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্যে ঋণ দেয়া হত SIDBI(Small Industries Development Bank of India) বা তার পরিচালিত কোন প্রকল্পের অধীনে। এবারই প্রথম এই বরাত দেয়া হল ২০১৫ সালে বিনোদ মোধা, জিনাদ শাহ এবং অভিরুক চক্রবর্তী দ্বারা প্রতিষ্ঠিত CapitaWorld Platform Pvt. Ltd. নামক একটা বেসরকারি সংস্থাকে যাদের ঠিকানা হল 301 Optionz Building, 3rd Floor, Opp. Hotel Nest, Off CG Road, Ahmedabad, Gujarat। কেন্দ্র সরকারের দাবী যে রীতিমত সরকারি দরপত্র (Tender) হেঁকে তারপর এই কন্ট্রাক্ট দেয়া হয়েছে। এবার দেখা যাক যে ২২শে জানুয়ারী জারি করা দরপত্রে কি ছিল।

দরপত্রে পরিস্কার লেখা ছিল (পৃষ্ঠা ১৫) যে এই কাজে সহায়ক হতে চাওয়া কোম্পানিকে ২০১২ সালের আগে প্রতিষ্ঠিত হতে হবে (১ নং ছবি)। কিন্তু কাজের বরাত পাওয়া CapitaWorld Platform Pvt. Ltd. কোম্পানি প্রতিষ্ঠিত হয় ২০১৫ সালে। ঐ দরপত্রের ১৬ নং পৃষ্ঠায় শর্ত দেয়া ছিল যে সহায়ক কোম্পানিকে বিগত তিন বছরে অন্তত ৫০ (পঞ্চাশ) কোটি টাকা আয় করতে হবে (২ নং ছবি)। ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর ২০১৬ সালের মার্চ মাসে কোম্পানিটির লস ছিল ৩৮,৮৮৮ টাকা। পরের বছর, একই সময়ে কোম্পানির আয় বেড়ে হয় ১৫,৬৮০ টাকা। এরপরেই মালিকানার পরিবর্তন ঘটে এবং CapitaWorld Platform Pvt. Ltd. কোম্পানির ৬০% শেয়ারের বিনিময়ে CapitaWorld Platform Global কোম্পানির সাবসিডিয়ারিতে পরিণত করা হয়। মজার ব্যাপার হল যে এই CapitaWorld Platform Global কোম্পানিরও যৌথ মালিক হলেন বিনোদ মোধা এবং জিনাদ শাহ। এখানেই শেষ নয়। CapitaWorld Platform Pvt. Ltd.-এর ৩২.১% শেয়ার থাকে JVKM Associates-র কাছে যার মালিক হলেন বিনোদ মোধা, জিনাদ শাহ এবং ক্রুণাল শেঠ। ২০১৮ সালের ১৬ই এপ্রিল, রেজিস্টার অফ কোম্পানিজ-র কাছে দাখিল করা তথ্যে কোম্পানির শেয়ারের মূল্য ১২৯.৩৯ টাকা স্থির করা হয়। উল্লেখযোগ্য ব্যাপার হল যে শেয়ারের দাম নির্ধারণ করার জন্যে OMMS & Associates নামক একটা সংস্থা দ্বারা কোম্পানির ভ্যালুয়েশনে CapitaWorld Platform-র আগের রোজগার ও সম্পত্তির বদলে "potential earning capacity" অর্থাৎ 'আয় করার ক্ষমতা'কে মাপকাঠি হিসাবে ধরা হয়। এরপর জুলাই মাসে কোম্পানির আয়ে জোয়ার আসে যখন SIDBI সমেত ৯ (নয়) টা রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক ১২৯.৩৯ টাকা দরে কোম্পানির মোট ৩২,২৮,৪৬৬ শেয়ারের মধ্যে ১৭,৪৩,৩২১ টা শেয়ার কিনে নেয় এবং CapitaWorld Platform স্বাভাবিকভাবেই দরপত্রে দেয়া ৫০ কোটির শর্ত পূরণ করে ফেলে।

নরেন্দ্র মোদী ঘোষিত প্রকল্প অনুযায়ী, এই পোর্টালের সূত্রে কোন ঋন নীতিগতভাবে অনুমোদিত হলেই CapitalWorld Platform আবেদকের থেকে পাবে ১০০০ টাকা। এছাড়া ব্যাঙ্ক দ্বারা ঋণ অনুমোদন হওয়ার পরে সেই ঋণের ০.৩৫% পাবে CapitalWorld Platform। মোদীর ঘোষণার পরের দিনই ঐ সাইটে দেয়া তথ্য অনুযায়ী, সেই কাউন্টার এখন সরিয়ে নেয়া হয়েছে, মোট ১.৬৯ লক্ষ রেজিস্ট্রেশনের ভিত্তিতে ২৩,৫৮২ কোটি টাকা ঋণ প্রদানের ০.৩৫% হিসাবে কোম্পানির প্রাপ্তি হয়ে ৮২.৫৩ কোটি। মাত্র একদিনে সাড়ে বিরাশী কোটি আয়, এবার ভাবুন কয়েক লক্ষ ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উদ্যোগীরা আবেদন করলে কোম্পানির কতটা আয় হতে পারে।

দাঁড়ান, এখনও শেষ হয়নি। এই বিপুল পরিমান আয়ের সঙ্গে যোগ করুন এবার তথ্যের অধিকার। ঋণের জন্যে আবেদন করতে হলে প্রত্যেক আবেদককে আধার, প্যান কার্ড সহ বিগত ছয় মাসের ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট (PDF ফরম্যাটে) সহ তিন বছরের ইনকাম ট্যাক্স ডিটেলসও (XML ফরম্যাটে) জমা দিতে হবে। অর্থাৎ আবেদন করার পর, প্রতিটা আবেদকের ঠিকুজিকোষ্ঠী এখন কোম্পানির অধীনে। আপনার দেয়া এই তথ্যকে কোম্পানি যেভাবে খুশী ব্যবহার করতে পারে (৩ নং ছবি)। ঋণের T&C অংশে কোম্পানি লিখেই দিয়েছে যে "you submit or make available for inclusion on the Platform, you grant the company a perpetual, irrevocable, non-terminable, worldwide, royalty-free and non-exclusive license to use, copy, distribute, publicly display, modify, create derivative works, and sublicense such Materials or any part thereof (as well as use the name that you submit in connection with such submitted content) unless specially agreed otherwise by the company." শুধু তাই নয়, আপনার দেয়া এই তথ্য যদি চুরি, হ্যাকড, আক্রান্ত হয় তাহলেও তার কোন দায় CapitalWorld Platform কোম্পানির থাকবেনা, "in case of any data theft/hacking/attack/any event beyond its control, the company does not guarantee data security and accepts no responsibility or liability for any loss or damage arising as consequence of such event/s" আর সেটাও স্পষ্টভাবে লেখা আছে ঐ সাইটে (৪ নং ছবি)। আর হ্যাঁ, সাইটে এটাও লেখা আছে যে এই সাইটের মাধ্যমে আবেদন করার অর্থই হল সাইটে উল্লেখিত সব শর্তগুলি মেনে নেয়া।

SIDBI কে এড়িয়ে, টেন্ডারের নিয়ম ভেঙে, ২০১৫ সালে গুজরাটে গজিয়ে ওঠা একটা কোম্পানিকে এইভাবে কামিয়ে দেয়ার সুযোগ করে দেয়া হল কাদের স্বার্থে?? উত্তরের অপেক্ষায় থাকলাম।




Thursday, November 15, 2018

সময়

ভারতকেশরী, ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় একটা কথা বলেছিলেন, "অতীতকে গ্রহণ করো যুগানুকূল করে আর বিদেশী সংস্কৃতিকে গ্রহণ করো দেশানুকূল করে"।

অতীত আমাদের কাছে প্রেরণা, শিক্ষা কিন্তু অতীত যদি বর্তমানকে সর্বদা নিয়ন্ত্রণ করে যায় তাহলে ভবিষ্যত অনিশ্চিত হতে বাধ্য। হিন্দু সমাজ বরাবরই গতিশীল। হ্যাঁ, টুলো পন্ডিতরা কিছু সময়ের জন্যে তার গতিপথ রোধ করতে পারলেও, গতিশীলতাকে ধ্বংস করতে পারেনি আর তাই হিন্দু সমাজ বিভিন্ন যুগে সংস্কারিত হয়েছে বুদ্ধ, নানক, রামমোহন, বিদ্যাসাগর, নারায়ণ গুরু বা আম্বেদকরের মত ব্যক্তিদের নিরলস প্রচেষ্টায়।

উল্টোদিকে, মুসলিম সমাজের মধ্যে সেই গতিশীলতারই অভাব। ফলে এখনও তারা ১৪০০ বছর আগের স্মৃতি আকড়ে বসে আছে। সুদূর আরবে, জলের অভাবে শুধু হাতের তালু ও পায়ের পাতা ভিজিয়ে প্রার্থনা করা হত বলে নদীমাতৃক এই দেশে এখনও তারা সেই অভ্যাস চালিয়ে যাচ্ছে। বিদেশী সংস্কৃতিকে অনুকরণ করতে গিয়ে তারা নিজেদের সংস্কারিত করতে পারেনি অথচ খোদ আরবে এখন মসজিদ ভেঙে রাস্তা, হাসপাতাল তৈরি করা হচ্ছে।

আরব জানে যে তার নিজের দেশের লোকসংখ্যা দিয়ে পৃথিবীকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়, তাই তারা বিভিন্ন দেশে আরবীদের ক্লোন তৈরি রাখছে যারা থাকবে অন্য দেশে কিন্তু আনুগত্য থাকবে আরবের প্রতি। আর এই কাজে আরবের সবচেয়ে বড় অস্ত্র হল ইসলাম।

ইসলামের কারণেই পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী মুসলিমরা সেদেশের সংস্কৃতির সাথে একাত্ম হতে পারছেনা। আর একাত্ম না হতে পারার জন্যেই সবসময় তাদের মধ্যে নিরাপত্তাহীণতা কাজ করে। আর সেটাকেই কাজে লাগায় আরবীয় সংস্কৃতি। খনিজ তেলের কল্যাণে আরবের অর্থের অভাব নেই আর সেই অর্থের একটা বড় অংশই ব্যয় করা হচ্ছে অমুসলিম রাষ্ট্রে বসবাসকারী মুসলিমদের মধ্যে নিরাপত্তাহীণতার বোধ তৈরি করার কাজে।

আজ উত্তরপ্রদেশ বা পশ্চিমবঙ্গের কোন মুসলিম জেহাদের নামে দেশ বিরোধী কোন কাজে লিপ্ত হয়ে, নিরাপত্তারক্ষীদের হাতে নিহত হলে আরবের কিছু যায় আসেনা কিন্তু তার মা বা স্ত্রী কি একইরকম নির্লিপ্ত থাকতে পারে? তার অনুপস্থিতি কি তার পরিবারের উপর প্রভাব ফেলেনা? অবশ্যই  ফেলে কিন্তু সেটা যাতে প্রকাশ না পায় তাই আরবের টাকায় সেই মৃত্যুকে গরিমান্বিত করার চেষ্টা করা হয় শহীদের মর্যাদা দিয়ে কিন্তু যে দেশের মাটিতে তাদের জন্ম হচ্ছে, তারা বড় হচ্ছে, এবং তাদের পরবর্তী প্রজন্মও জন্ম নেবে সেই দেশের ক্ষতি করলে লাভটা কার হবে? এই প্রশ্ন যাতে তাদের মনে না আসে তাই প্রতি শুক্রবার করে চলে মগজ ধোলাই যাতে মুসলিমদের বসবাসকারী দেশের প্রতি নয়, আরবের প্রতি আনুগত্য বজায় থাকে।

Saturday, November 10, 2018

সংকল্প

যে জাতির অর্থও নেই বা ক্ষত্রিয় শক্তি নেই তাদের পক্ষে অস্তিত্ব রক্ষা শুধু কঠিন নয়, অসম্ভব। বাঙালীরা আজ বিশ্বনাগরিক হতে গিয়ে নিঃস্বনাগরিকে পরিণত হয়েছে। একই পরিস্থিতি হয়েছিল কাশ্মীরে, কাশ্মীরের হিন্দুরা কাশ্মীরিয়ৎ-র ফাঁদে পা দিয়ে নিজেদের আত্মপরিচয় বিস্মৃত হয়েছিল আর সেটারই পরিণতিতে তাদের মাতৃভূমি ছেড়ে আজ উদ্বাস্তুর জীবনযাপন করতে হচ্ছে। দিল্লী কাশ্মীরের হিন্দুদের নিরাপত্তা দিতে পারেনি।

যে দিল্লী ঘরের কাছে কাশ্মীরের হিন্দুদের নিরাপত্তা দিতে পারেনি তারা সুদূর বাংলায় হিন্দুদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করবে, এটা নেহাতই কষ্টকল্পনা। NRC কে হাতিয়ার করে আসামকে যেভাবে হিন্দু শূন্য করার পরিকল্পনা চলছে, এরপর সেটা পশ্চিমবঙ্গেও শুরু হতে পারে। কলমের এক খোঁচায় যেভাবে আসামের ৩০ লক্ষ হিন্দুকে অবৈধ নাগরিক হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে, সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয়ত কিছুদিন পরে এই রাজ্যেও ঘটবে।

এমতাবস্থায়, বাংলা ও বাঙালীকে রক্ষার দায় শুধুমাত্র বাঙালীদের। অন্যরাজ্যের লোকেরা আমাদের প্রতি সহানুভূতি দেখাতে পারেন কিন্তু নিজেদের অস্তিত্ব ও সংস্কৃতি রক্ষার দায় সম্পূর্ণভাবে আমাদের। ১৯৪৭ সালে যে দেশ ভাগ হয়েছিল তখন বাঙালীর থেকে মতামত গ্রহণ করা হয়নি। মানচিত্রের উপর দাগ কেটে ভাগ করে দেয়া হয়েছিল ভারতমাতাকে। আজ আবার সেই পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে যার পরিণতিতে আরেকটা দেশভাগ অনিবার্য হয়ে উঠছে।

কিন্তু ১৯৪৭-এ আমাদের পূর্বপুরুষেরা যেভাবে বিনাযুদ্ধে দেশমায়ের বিভাজন মেনে নিয়েছিলেন, এবার আর সেটা না হতে দিতে সিংহবাহিনী দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। বাংলা তথা ভারতের একতা ও অখন্ডতা রক্ষার যে কাজে আমরা ব্রতী হয়েছি সেটার সাফল্য আমাদের প্রজন্মে নাই আসতে পারে কিন্তু ভবিষ্যত প্রজন্মের স্বার্থে আমাদের এই প্রতিরোধের প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখতে হবে যাতে এটা ভবিষ্যতে মশালে পরিণত হতে পারে আর প্রয়োজনে দাবানলের সৃষ্টি করতে পারে। ১৪০০ বছরের লড়াই এক প্রজন্মে শেষ হবেনা কিন্তু অগ্নিশিখাকে বাঁচিয়ে রাখতেই হবে যাতে আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্ম আগুনের অভাবে কাঙ্খিত লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত না হয়।

শিকড়

হ্যাঁ, ওদেরও ইচ্ছে করে আমাদের সাথে মিলেমিশে মায়ের পূজো করতে, অঞ্জলি দিতে, বাজি ফাটাতে। আর করবেনাই বা কেন, কয়েক প্রজন্ম আগে তো ওরা আমাদেরই একজন ছিল। আজ নাহয় বিদেশী আরবী শক্তির প্রভাবে ওরা আলাদা হয়ে গেছে, কিন্তু তারফলে তো আর শিকড়ের টান ভুলে যেতে পারেনা।

কালো বোরখার আড়ালে নিজের সত্ত্বাকে হারিয়ে ফেলিস না। তিন সতীন নিয়ে সংসার করার জন্যে বা ফি বছর বাচ্চা পয়দা করার জন্যে তোর জন্ম হয়নি। আর এমন বাচ্চা পয়দা করেই বা লাভ কি যাকে কিছুদিন পরেই তোকে জিহাদের জন্যে বলি দিয়ে দিতে হবে? অসভ্য আরবী সংস্কৃতির অনুসরণ করতে গিয়ে নিজেই নিজের নাড়িকাটা সন্তানের মৃত্যু পরোয়ানায় সই করতে পারবি তো?

ফিরে আয় বোন, নিজেদের শিকড়ে ফিরে আয় আর এই জগতের সব আনন্দ প্রানভরে উপভোগ কর। পড়াশুনা কর, খেলাধুলা কর, নিজের ইচ্ছায় প্রেম কর। জীবনটা তো তোর নিজের, এটাকে সারাজীবন কালো বস্তায় ভরে নিজেকে বঞ্চিত করিসনা। আয়, আমরা সবাই মিলে মা কালীর আশীর্বাদ প্রার্থনা করি আর বর্বর আরবীয় সংস্কৃতি থেকে তোদের মুক্তির আশীর্বাদ কামনা করি।


সঙ্ঘী আর বামপন্থী

ভারতে, সঙ্ঘী আর কম্যুনিস্ট - উভয়ের কাছেই দুনিয়াটা দ্বিমাত্রিক। সঙ্ঘীদের কাছে "মছলিখোর বাংগালী" সহী হিন্দু নয় আর ঠিক একইভাবে, কম্যুনিস্টদের কাছে, ভারতমাতার জয়ধ্বনি দেয়া বাঙালীরা আসল বাঙালী নয়।

এই কারণেই কিছু অমর্ত্য সেন বা সাগরিকা ঘোষের মত বাঙালীর দেশ বিরোধী কার্যকলাপের জন্যে সঙ্ঘীরা বাঙালী সমাজকে কাঠগড়ায় তুলতে পারে কিন্তু তিস্তা শীতলবাড় বা হেমন্ত কারকাড়ের জন্যে তারা সম্পূর্ন মারাঠা জাতিকে নিয়ে কদর্য মন্তব্য করেনা। আসলে পশ্চিমবঙ্গ ও কেরলে সঙ্ঘীদের রাজনৈতিক অসাফল্য তাদের এই দুই জাতির বিরুদ্ধে আক্রোশের মূল কারণ।

উল্টোদিকে কম্যুনিস্টরা, যারা ভেনেজুয়েলাতে বৃষ্টি হলে কলকাতাতে ছাতা খুলে ঘোরে বা নিকারাগুয়ায় সাম্রাজ্যবাদী শক্তির উত্থানে পশ্চিমবঙ্গে বনধ ডাকে তারা কিন্তু কাশ্মীরে হিন্দু পন্ডিতরা জেহাদি অত্যাচারের কারণে গৃহচ্যুত হলে কোন প্রতিবাদ করেনা কারণ তারা বাঙালী নয়। ঘরের পাশে বাংলাদেশে অসহায় হিন্দু বাঙালীদের ক্রমাগত রাষ্ট্রীয় আক্রমণেও কম্যুনিস্টদের কোন বনধ ডাকতে দেখা যায়না। হয়ত নিকারাগুয়া বা কিউবার থেকে বাংলাদেশের হিন্দুরা কম বাঙালী।

কিন্তু সৌভ্যাগ্যের বিষয় হল যে এই দুই মতাদর্শের বাইরেও হিন্দু বাঙালীর অস্তিত্ব আছে যারা মছলিও খায় আবার বজ্রনির্ঘোষ কন্ঠে "ভারত মাতা কি জয়" বলে জয়ধ্বনিও দেয়। যাদের কাছে শুধুমাত্র "জয় শ্রী রাম" বলাই হিন্দুত্বের পরিচায়ক নয়, "জয় মা কালী" হুঙ্কারও তাদের দেহে অ্যাড্রেনালিনের ক্ষরণ বৃদ্ধি করে। যাদের কাছে হিন্দুত্ব আর বাঙালিত্ব বিপ্রতীপ নয়, সমানুপাতিক ও পরিপূরক।

Sunday, September 13, 2015

সাফল্যর পিছনে...

ইংরেজিতে একটা কথা আছে- Nothing succeed like success, অর্থাৎ সাফল্যর চেয়ে বেশী সফল আর কিছুই নয়। কিন্তু মুশকিল হল যে সাফল্যটাই সবার নজরে পরে, সেই সাফল্যের পিছনে যে নিরলস পরিশ্রম থাকে, যা কালে কালে সাধনার রুপ নেয়, সেটা অনেক মধ্য মেধার লোকের নজরেই আসেনা। ফলশ্রুতি হিসাবে হয় তারা সাফল্যকে হিংসে করে অথবা নিজেদের অসফলতা কে ঢাকার প্রচেষ্টায় অন্যের সাফল্যকে হেয় করার চেষ্টা করে।

আজ পশ্চিমবঙ্গে হিন্দু সংহতি যেটুকু অঞ্চলে সাফল্য অর্জন করে তার পরিণতি হিসাবে সেই সব জায়গায় হিন্দুরা জিহাদি সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে পারছে। এতে হিন্দু বিরোধীদের যত না গায়ে জ্বালা ধরছে তারচেয়েও বোধহয় বেশী জ্বালা ধরছে তাদের যারা এতদিন এই রাজ্যে হিন্দুত্বের ঠিকা নিয়ে বসেছিল। মনে হয়তো আশঙ্কা জাগছে এই বুঝি দোকানের কিছু খরিদ্দার চলে গেল। কিন্তু ভাই, নিজেদের কে একটু প্রশ্ন করে দেখতো, তোমরা যদি সঠিক পথেই চলতে তাহলে কি আজ হিন্দু সংহতি স্থাপনের প্রয়োজন পরতো? কোথাও না কোথাও, কিছু না কিছু ভুল তো নিশ্চয় হয়েছিল যে কারনে আজ সেই হিন্দু সংহতি, খুব ক্ষুদ্র জায়গায় হলেও, সাফল্য পাচ্ছে।

ভাইসব, এখনও সময় আছে, সেই ভুলগুলোর সংশোধন করে যুদ্ধে নেমে পরো। জিহাদি সন্ত্রাস আজ আমাদের উঠোনে এসে দাঁড়িয়েছে, এখনও যদি ভাড়াটে সৈন্য লাগিয়ে তু তু ম্যায় ম্যায় চালিয়ে যাও তাহলে কিন্তু ইতিহাস ক্ষমা করবে না।

ধর্মনিরপেক্ষতার নমুনা

ভারত একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র আর সেই রাষ্ট্রের অংশ হিসাবে পশ্চিমবঙ্গ একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাজ্য। ধর্মনিরপেক্ষতার মানে হল রাষ্ট্রের নিজস্ব কোন ধর্ম থাকবেনা, সে কোন বিশেষ ধর্মের প্রতি ভেদভাব করবে না বা কোন ধর্মের প্রতি বিশেষ প্রেম প্রদর্শন করবে না।

এই কারনেই মহামান্য দিদির পশ্চিমবঙ্গ সরকার ঈদ উপলক্ষে দূর্গাপূজার বিসর্জনের দিন পরিবর্তন করেছিলেন যাতে সংখ্যালঘুরা মনে আঘাত না পায়। জন্মজাত সেকুলার হিন্দুরাও তাদের মুসলিম ভাইদের কথা ভেবে এই সিদ্ধান্ত বিনা প্রতিবাদে মেনে নিয়েছিল। এবার পূজার সময় পিছিয়ে যাওয়ায় ঈদের সাথে সংঘাত এড়ানো গেছে কিন্তু ধর্মনিরপেক্ষ রাজ্যের পুরোধা হিসাবে এবার কি দিদি দূর্গাপূজার চারদিন এই রাজ্যে গোহত্যা তথা গোমাংস বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা জারী করার হিম্মত দেখাতে পারবেন।

রাহুল সিনহা, রুপা গাঙ্গুলী, লকেট চ্যাটার্জী ও শমীক ভট্টাচার্যর পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি কি তাদেরই পার্টী পরিচালিত মহারাষ্ট্র, রাজস্থান বা ছত্তিসগড় সরকারের প্রদর্শিত পথে দূর্গাপূজার চারদিন এই রাজ্যে গোহত্যা তথা গোমাংস বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা জারী করার দাবীতে পথে নামবেন নাকি সেক্ষেত্রেও সংখ্যালঘু ভোটের সুরসুরিটা থেকেই যাবে?

Sunday, September 6, 2015

মৃতের ধর্ম

সমুদ্রপাড়ে ভেসে আসা একটি শিশুর নিথর দেহ কাঁপিয়ে দিয়েছে সারা পৃথিবীর মানবিক সত্বাকে। সিরিয়ান রিফিউজি পরিবারের এই শিশুটির এই মর্মান্তিক পরিনতির কারন সিরিয়াতে IS কর্তৃক ইসলামিক শাসন প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা। ইংল্যান্ড থেকে কানাডা- সম্পূর্ণ উত্তর গোলার্ধের রাজনৈতিক পট বদলে দিয়েছে আলিয়ানের নিথর দেহ।

এবার দেখুন দ্বিতীয় ছবিটি। এটিও একটি নিষ্পাপ শিশুর নিথর দেহ। এক্ষেত্রেও এর মৃত্যুর জন্যে দায়ী ইসলামিক সন্ত্রাস। তবে এক্ষেত্রে বদ্ধভূমিটা সিরিয়া নয়, কাশ্মীর আর মৃত শিশুটি কাশ্মীরী পন্ডিত পরিবারভুক্ত হিন্দু। তাই বোধহয়, সারা পৃথিবী তো ছাড়, খোদ এই দেশেরই অধিকাংশ মানুষ এর খবর রাখেনি। এদেশে মুসলিমের হাতে হিন্দুর মৃত্যু যেন খুবই স্বাভাবিক।

তবে কি 'সন্ত্রাসবাদীদের কোন ধর্ম নেই'-র মত 'মৃতের কোন ধর্ম নেই' কথাটাও নেহাতই আক্ষরিক? হায় ইন্দ্রনাথ, ভাগ্যিস আজ তুমি বেঁচে নাই।