Tuesday, February 22, 2022

সম্মানের মূল্য

ল্যান্সনায়ক হেমরাজ, যার কাটা মুন্ডু নিয়ে ফুটবল খেলেছিল পাকিস্তান সেনা আর ২০১৪ সালে, নিজের নির্বাচনী প্রচারে, সেই ঘটনার কথা উল্লেখ করে, ভোট চেয়েছিলেন মোদী কিন্তু ক্ষমতায় আসার প্রায় আট বছর হতে চললেও সেই হেমরাজের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেননি মোদী। বরং বিনা নিমন্ত্রণে উপস্থিত হয়েছিলেন তৎকালীন পাক প্রধানমন্ত্রী, নওয়াজ শরিফের জন্মদিনে। শুধু হেমরাজ কেন, পাঠানকোট, উড়ি বা পুলবামা'র কোন শহীদের পরিবারের সাথেই দেখা করেননি কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভার কোন সদস্য অথচ ৪৪ রাষ্ট্রীয় রাইফেলসের ঔরঙ্গজেব জঙ্গীদের আক্রমণে শহীদ হওয়া মাত্রই তার বাড়িতে পৌছে গিয়েছিলেন তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী, নির্মলা সীতারমণ সহ তদানীন্তন সেনাপ্রধান, বিপিন রাওয়াত। তফাৎটা স্পষ্ট।


একইভাবে, ২০০৭ সালে রিজওয়ানুর হত্যার পরে, সেটা নিয়ে সোচ্চার হয়েছিলেন তৎকালীন বিরোধী দলনেত্রী, মমতা ব্যানার্জী। পুলিশি অত্যাচার ও ভুয়ো পোস্টমর্টেম রিপোর্ট নিয়ে তোলপাড় করেছিলেন রাজ্য রাজনীতি অথচ খোদ তারই শাসনে, বাদুড়িয়ার নিতাই দাস, ভিন্ন ধর্মে প্রেম করার জন্যে, তাকে হত্যা করে, ব্লেড দিয়ে গায়ের চামড়া ছাড়িয়ে নিলেও পোস্টমর্টেম রিপোর্ট বলে দেয় যে "আঘাতের কোন চিহ্ন নেই"। আবার সুদূর রাজস্থানে, আফ্রাজুল নিহত হলে, সেই মমতা'ই কেঁদে ওঠেন। একইভাবে, দাড়িভিটে, পুলিশের গুলিতে, রাজেশ আর তাপসের হত্যা নিয়ে টুঁশব্দ না করা মমতা ব্যানার্জীই এখন আনিশ খানের মৃত্যুর ক্ষেত্রে তৎপর হয়ে উঠেছেন।


দেশের বিভিন্ন প্রান্তে রবি, রুদ্রেশ, অঙ্কিত সক্সেনা বা কমলেশ তিওয়ারি'র মত জাতীয়তাবাদের হত্যা করা হলে বা পালঘাটে সাধুদের হত্যা নিয়ে এমনকি ভুয়ো NRC প্রক্রিয়ার পরিণতিতে, আসামে ডজনখানেক হিন্দুর আত্মহত্যা নিয়ে নরেন্দ্র মোদী একটা কথাও বলেননা কিন্তু এক হতাশাগ্রস্ত বামপন্থী ছাত্র রোহিত ভেমুলা আত্মহত্যা করলে সেটাতে তিনি ভারতমাতা কে সন্তানহারা হতে দেখেন।


এতগুলো কথা বলার কারণ একটাই, হিন্দুরা যাতে নিজেদের ভোটের মূল্য বুঝতে পারে। মুসলমান বা কম্যুনিষ্টদের ক্ষেত্রে একটা 'কৌম' ফ্যাক্টর কাজ করে যেটা হিন্দুদের ক্ষেত্রে ব্যপকভাবে অনুপস্থিত। 'জয় শ্রী রাম' স্লোগান বা খয়রাতিতেই সন্তুষ্ট সমাজ কখনই নিজেদের প্রাপ্য পেতে পারেনা। অন্যকে দোষারোপ করতে পারে, বঞ্চনা নিয়ে হাহাকার করতে পারে কিন্তু সম্মান পেতে পারেনা।

Sunday, February 20, 2022

আমাদের দায়িত্ব

বিবেকানন্দ বলেছিলেন যে Exclusion শব্দটার সংস্কৃতে কোন প্রতিশব্দ নেই, কারণ হিন্দুরা Inclusion এ বিশ্বাসী। আর এই কারণেই ৮০০ বছরের মুসলিম শাসন ও ২০০ বছরের ইংরেজ শাসনের পরেও ভারতবর্ষ ইসলাম বা খ্রিস্টানের অধীন হয়ে যায়নি, নিজের স্বরূপ বজায় রেখেছে।


ঠিক একইভাবে Secularism শব্দটারও কোন প্রতিশব্দ সনাতন সংস্কৃতিতে ছিলনা। ধর্মনিরপেক্ষতা নামক অনুবাদ এখানে প্রক্ষিপ্ত। অন্য সম্প্রদায়ের প্রার্থনাপদ্ধতি বা আচার-অনুষ্ঠানে বাধা দেয়ার মানসিকতা সনাতন ধর্মে কোনদিনই ছিলনা, তাই জোর করে ধর্মনিরপেক্ষতা ঢোকানোর দরকার হয়নি। ভারতের প্রাচীনতম মসজিদ বা চার্চ হিন্দু রাজাদের অনুগ্রহের ফলেই তৈরি হয়। এই সংস্কৃতির প্রচলন ঘটেছে ১৯৪৭ সালে, তথাকথিত, স্বাধীনতা লাভের পর যখন দেশের সংবিধানে ভারতের সংস্কৃতিকে সনাতন সংস্কৃতি বলে স্বীকৃতি দেয়ার বদলে মিশ্র অর্থাৎ খিচুড়ি সংস্কৃতি বলে অবিহিত করা হয়।


পৃথিবীর অন্য কোন দেশে আক্রমণকারীর সংস্কৃতিকে সেই দেশের সংস্কৃতি বলে মান্যতা দেয়া হয়নি। কিন্তু নেহরু, কালাম আজাদ, প্যাটেলরা সেই কাজটাই করেছিলেন নিজেদের মৌরুসিপাট্টা কায়েম রাখার স্বার্থে। সাথে পেয়েছিলেন নিজেদের বশংবদ কম্যুনিস্টদের। তাই সংবিধানে যুক্ত হয়েছিল ২৫ থেকে ৩০ ধারা যেগুলো বিশেষ সুবিধা দিয়েছে কেবলমাত্র সংখ্যালঘুদের। এইভাবে, সম্পূর্ণ সাংবিধানিক বৈধতা পেয়েছিল হিন্দুদের প্রতি বঞ্চনা ও বিদ্বেষ। আর এই কাজে, কফিনে শেষ পেরেকটি মারেন ইন্দিরা গান্ধী যখন তিনি বিরোধী বিহীন সংসদে আইন পাশ করে ভারতকে ধর্মনিরপেক্ষ ঘোষণা করে দেন।


এতগুলো কথা বলার কারণ একটাই, হিন্দুদের খ্রীষ্টমাস পালন। রামকৃষ্ণ মিশনে খ্রীষ্টমাস পালনে যারা গেল গেল রব তোলেন তাদের জানা দরকার যে এই পরম্পরা কিন্তু স্বয়ং বিবেকানন্দই শুরু করেছিলেন। আর তার কারণ ছিল হিন্দু ধর্ম ও সমাজ রক্ষায় ভারতের হিন্দুদের নিস্পৃহতা। স্বামী বিবেকানন্দ তাঁর কাজের জন্যে যত অনুদান পেতেন সেটার সিংহভাগই আসতো বিদেশী ভক্তদের থেকে। সেই ভক্তরা খ্রিস্টান হলেও বিবেকানন্দের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে হিন্দু ধর্ম ও সমাজ রক্ষার জন্যে মুক্ত হস্তে দান করতেন। তাই তাদের খুশী করার জন্যে এবং সনাতন সংস্কৃতির Inclusive চরিত্র মেনে মিশনে খ্রীষ্টমাস পালন করতে বিবেকানন্দ কোন অন্যায় দেখেননি। 


আজও যারা মিশনে খ্রীষ্টমাস পালন নিয়ে বা ইস্কনে ইফতারের আয়োজন নিয়ে ফেসবুকে সোচ্চার হন তারা নিজেরা হিন্দু ধর্ম ও সমাজ রক্ষায় ঠিক কত টাকা খরচ করেন? আবার বলছি, ধর্ম ও সমাজ রক্ষা, কোন রাজনৈতিক দলের ফান্ডে বা নিজের পরিবারের কল্যাণ কামনায় মন্দিরে পুজো দেয়ার কথা বলছিনা। উদাহরণ স্বরূপ, একজন হিন্দু নিজের ধর্মরক্ষার কাজে জেলে গেলে তার আইনি খরচের দায়িত্ব বা তার পরিবারের ভরনপোষণের দায়িত্ব, একজন বিধর্মী তার স্বধর্মে ফিরে আসলে তাকে কিছুদিন আশ্রয় দেয়ার দায়িত্ব, ইত্যাদি। মাসে ২০০-২৫০ টাকার ডাটা প্ল্যান মোবাইলে অ্যাক্টিভেট করে, ফেসবুকে জ্ঞান দেয়া ছাড়া তাদের অবদান কতটা? ডিজিটাল হিন্দু দিয়ে হিন্দু সমাজ বাঁচবেনা, দরকার ফিজিক্যাল হিন্দু আর যতদিন না সেই কাজ পূর্ণমাত্রায় শুরু হবে ততদিন অন্যের দিকে আঙ্গুল তোলার কোন অধিকার আমাদের নেই।

Monday, February 14, 2022

ভারতীয় না ভারতের?

আগেও বলেছি আর আবারও বলছি যে ভারতে বসবাসকারী হিন্দু আর মুসলমানদের মধ্যে মিলনের ক্ষেত্রে একমাত্র বাধা হল অসভ্য আরবী সংস্কৃতি ও মুসলমানদের ধর্মগ্রন্থ যা তাদেরকে বসবাসকারী দেশ ও সেখানকার সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার বদলে সেটাকে অপমানিত করার ও ধ্বংস করার শিক্ষা দেয়।


ভারতের মুসলমানরা যদি এদেশে আগত অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের মত ভারতের কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয় তাহলে তাদের পৃথক ধর্মাচরণ কখনই তাদের সাথে হিন্দুদের বৈরীতার সম্পর্ক তৈরি করবেনা। সনাতন ধর্মের প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী, গৌতম বুদ্ধকে যদি হিন্দুরা বিষ্ণুর দশাবতারের একজন হিসাবে মেনে নিতে পারে তাহলে আমি, প্রসূন মৈত্র, গ্যারান্টি দিচ্ছি হিন্দুদের তেত্রিশ কোটি দেবদেবীর সাথে মহম্মদকেও জুড়ে নিতে হিন্দুদের বিন্দুমাত্র আপত্তি থাকবেনা।


কিন্তু সেক্ষেত্রে একমাত্র শর্ত হলো এদেশের সনাতন ধর্ম ও সংস্কৃতির সাথে মানিয়ে চলা। ব্যাপারটা এমন কিছু কঠিনও নয় কারণ বিশ্বের বৃহত্তম মুসলমান জনসংখ্যার দেশ, ইন্দোনেশিয়াতে আজও সনাতন সংস্কৃতিকে উপযুক্ত শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা হয়। তাদের উপাসনা পদ্ধতির ভিন্নতা কখনোই সংস্কৃতির পথে বাধা হয়ে যায়নি। ভারতে এই প্রথার একমাত্র বাধা হলো আরবি সাম্রাজ্যবাদ। অর্থের জোরে তারা ভারতে বসবাসকারী মুসলমানদের, ভারতীয় মুসলমানের বদলে ভারতের মুসলমান বানিয়ে রেখেছে।


ব্যাপারটা যদি একটু গোলমেলে লাগে তাহলে বোঝার জন্যে RSS-এর উদ্যোগে গড়ে ওঠা রাষ্ট্রীয় মুসলিম মঞ্চ আর মুসলিম রাষ্ট্রীয় মঞ্চের উদাহরণ দেখুন। যতক্ষণ প্রাথমিক শব্দ রাষ্ট্রীয় ছিল ততক্ষণ এই সংগঠনের উদ্যোক্তারা বসে বসে মাছি মেরেছেন আর নাম বদলে মুসলিম-এ প্রাথমিকতা দেয়ার পরেই সংগঠনের ব্যপ্তি ঘটেছে। এটা আলাদা প্রশ্ন যে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের নামের মধ্যে হিন্দু শব্দ না থাকা সত্ত্বেও কেন আলাদা মুসলিম মঞ্চ তৈরী করতে হলো আর তৈরী করে কি বার্তা দেয়া হলো। একই যুক্তি কম্যুনিস্টদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য যারা চিরকাল ভারতের of India) কম্যুনিস্ট পার্টি রয়ে গেল, কখনোই ভারতীয় (Indian) কম্যুনিস্ট পার্টি হতে পারলো না।

Thursday, February 10, 2022

জেহাদি পরিকল্পনা ও আপনার ভবিষ্যৎ

বিগত পাঁচ বছরে মাত্র ৬১০ জন কাশ্মীরী হিন্দু নিজেদের সম্পত্তি ফেরত পেয়েছেন। কাগজে সম্পত্তি ফেরত পেলেও, এদের মধ্যে কতজন, নিজেদের নিরাপত্তার বিষয়ে সুনিশ্চিত হয়ে, বাস্তবে সেই সম্পত্তিতে বসবাস করছেন সেই তথ্য প্রকাশিত হয়নি। তবে পাঁচ বছরে ৬১০ জন মানে প্রতি বছর গড়ে ১২০ জন মানে মাসে মাত্র ১০ জন।


ভাবুন, কেন্দ্রে গত সাড়ে সাত বছর ধরে নরেন্দ্র মোদী সরকার, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম সেনাবাহিনী, সারা দেশে জাতীয়তাবাদের জোয়ার অথচ তারপরেও দিল্লী নিরাপত্তা দিতে পারেনি কাশ্মীরের বিতাড়িত হিন্দুদের। এখন পরিকল্পনা হচ্ছে যে তাদেরকে ট্রান্সিট ক্যাম্পে রাখার ঠিক যেমন হিটলারের আমলে ইহুদিদের ঘেটো বানিয়ে রাখা হতো। কাশ্মীরের মূল ধারায় তারা কোনদিনই যুক্ত হতে পারবেনা যতদিন না কেন্দ্র সরকার, বাজপেয়ী প্রণীত ইন্সানিয়ৎ, জমহুরিয়াৎ আর কাশ্মীরিয়ৎ, যা আদতে ইসলামিয়তের মায়া থেকে বেরিয়ে, উপত্যকার জনবিন্যাসের ভারসাম্য ঘটাবেন।


দিল্লীর নাকের ডগায় থাকা কাশ্মীরে হিন্দুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যে ভারত সরকার ব্যর্থ হয়েছে তারা সুদূর পশ্চিমবঙ্গে হিন্দুদের নিরাপত্তা দিতে পারবে বলে এখনও বিশ্বাস করেন? জনসংখ্যার বিন্যাস বদল হওয়ার সাথে সাথেই পশ্চিমবঙ্গ ও আসাম এগিয়ে চলেছে কাশ্মীর হওয়ার পথে আর কর্ণাটক, কেরালা রাজ্যগুলি এগিয়ে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ বা আসাম হওয়ার পথে। আজ থেকে দশ-পনেরো বছর আগেও, বারাসাত, বসিরহাট সহ রাজ্যের অন্যান্য সীমান্ত সন্নিহিত অঞ্চলে গিয়ে আপনি ক'জনকে বোরখা, হিজাব, লুঙ্গি বা টুপি পরে রাস্তায় চলতে দেখতেন? আজ সেই যায়গাগুলিতেই আবার গিয়ে দেখুন, বাজী রাখছি, মনে হবে বাংলাদেশে এসে গেছেন। এটাই ইসলামের বিস্তারের স্বাভাবিক নিয়ম। সংখ্যাবৃদ্ধির সাথে সাথেই নিজেদের আলাদা আইডেন্টিটি প্রকাশ হতে থাকে, দাবী বাড়তে থাকে।


কর্ণাটকের বোরখা বিতর্কও একই পরিকল্পনার অঙ্গ। ২০০১ সালের জনগণনাতে দক্ষিণ কর্ণাটকে, যে এলাকার একটি কলেজে ইদানীং বোরখা বিতর্ক শুরু হয়েছে, মুসলিম জনসংখ্যা ছিল ৪,১৮,৯০৪ জন অর্থাৎ ২২.০৭ শতাংশ আর ২০১১ সালেই সেটা বেড়ে দাঁড়ায় ৫,০১,৮৯৬ জন অর্থাৎ ২৪.০২ শতাংশে। ২০২১ এর গণনা প্রকাশিত হলে দেখবেন সেটা হয়তো ২৬ শতাংশ পেড়িয়ে গেছে আর তাই এলাকায় শুরু হয়ে গিয়েছে বোরখার দাবী ঠিক যেভাবে তেহট্টের বিদ্যালয়ে, নবী দিবস পালনের দাবীতে বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল সরস্বতী পূজা। মহরমের জন্যে পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ও ঝাড়খন্ডে স্থগিত করে দেয়া হয়েছিল দুর্গাপূজার বিসর্জন। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে পশ্চিমবঙ্গে বিসর্জন বন্ধ করেছিল দিদি'র সরকার, ঝাড়খন্ডে বন্ধ করেছিল বিজেপি সরকার আর পাটনা'তে একই কাজ করেছিল বিজেপির শরীক, নীতিশ কুমারের সরকার।


এতকিছুর পরেও যদি আপনি আগত দিনের ছবি দেখতে না পারেন এবং রাজনৈতিক দল বা তাদের নিয়ন্ত্রিত প্রশাসনের উপরে ভরসা করেই নিজের ভাগ্য সঁপে দেন তাহলে আপনার চিন্তাশক্তি ও বাস্তববোধের উপর প্রশ্নচিহ্ন উঠতে বাধ্য। আপনার পরিবার ও সম্পত্তি রক্ষার প্রাথমিক দায়িত্ব একান্তই আপনার। ফায়ার ব্রিগেড আছে বলে বাড়িতে যদি অগ্নিনির্বাপণের কোন ব্যবস্থা না রাখেন তাহলে ক্ষতিটা আগুন বা সরকারের নয়, আপনারই হবে আর দায়টা আপনাকেই নিতে হবে।

Tuesday, February 8, 2022

আসন্ন বিপদ

২০০৭ সালে পেশ করা রঙ্গনাথ মিশ্র কমিটির রিপোর্ট অনুসারে, মুসলমান ও খ্রিষ্টানদেরও তপশিলি জাতিভুক্ত হওয়ার সুবিধা দেয়ার কথা বিবেচনা করছেন নরেন্দ্র মোদী সরকার। সংবিধানের ৩৪১ নং ধারায় প্রেসিডেন্সিয়াল অর্ডার অনুযায়ী বর্তমানে শুধু হিন্দু, শিখ আর বৌদ্ধরাই তপশিলি জাতিভুক্ত হিসাবে বিবেচিত হয়।


মিশ্র কমিটির রিপোর্টে, তপশিলি জাতি হিসাবে বিবেচিত হওয়ার মাপকাঠি হিসাবে ধর্মীয় পরিচয়কে গ্রাহ্য না করে, সব দলিতদেরই তপশিলভুক্ত করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে ২০১২ সালে মমতা ব্যানার্জী সরকারের পাশ করা OBC-A আইন অনুসারে, যে SC রা খ্রিষ্টান ধর্মে ধর্মান্তরিত হওয়ার ফলে তাদের পরবর্তী প্রজন্ম SC সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন তাদেরকে পিছনের দরজা দিয়ে সংরক্ষণের সুবিধা দেয়ার জন্যে OBC তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই বৈষম্যমূলক আইন বাতিলের দাবীতে আত্মদীপ-এর দায়ের করা জনস্বার্থ মামলাটি এখনও আদালতের বিবেচনাধীন।


নরেন্দ্র মোদী সরকার যদি সত্যিই, মিশ্র কমিটির রিপোর্ট মেনে, মুসলমান ও খ্রিষ্টানদের তপশিলি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেন তাহলে সেটার ফলে প্রকৃত তপশিলি জাতির ব্যক্তিরা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হতে বাধ্য। তপশিলি জাতিভুক্তদের অতিরিক্ত সুরক্ষার জন্যে পাশ করা সংবিধানের ৩৪১(১) ধারাও এই সিদ্ধান্তের ফলে বিপন্ন হবে। সুনীতা সিং বনাম উত্তর প্রদেশ ও অন্যান্য মামলায় [(2018) 2 SCC 493] সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট বলে দিয়েছেন যে "the caste or community of a person is to be decided on the basis of her/his birth in the said community" মানে কোন ব্যক্তির জাত ও সম্প্রদায় নির্ধারিত হবে সেই সম্প্রদায়ে তার জন্মের ভিত্তিতে।


যদিও তথাকথিত লিবারেল, যারা জাতের প্রসঙ্গ উঠলেই মনুবাদ এবং ব্রাহ্মণ্যবাদকে গালাগালি করে আর এই প্রথা প্রচলনের জন্যে হিন্দু ধর্মকে ছোট দেখায় এবং জাত-পাত বিহীন উদার ধর্ম হিসাবে ইসলাম বা খ্রিষ্ট ধর্মের তুলনা টানে, তারা অবশ্য কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তে কোন অন্যায় দেখবেনা আর হিন্দুত্বের নামে ভোটের একচ্ছত্র অধিকার নিয়ে বসে থাকা বিজেপি সরকারের সিদ্ধান্ত বলে বহু হিন্দুত্ববাদী এই সিদ্ধান্তে কোন অন্যায় দেখবেনা কিন্তু এর ফলে তপশিলি জাতিভুক্ত ব্যক্তিদের অধিকার ও সীমা শুধু খর্ব হবে তাই নয়, এটা বাস্তবায়িত হলে তাদের প্রতিযোগিতা হবে সেই তপশিলি জাতিভুক্তদের সাথে যাদের কাছে সংখ্যালঘু নামক একটা বাড়তি রক্ষাকবচ আছে। ফলে, শিক্ষা হোক কর্মসংস্থান, সব যায়গাতেই থাবা বসাবে নব্য তপশিলিরা আর সঙ্কুচিত হতে থাকবে প্রকৃত তপশিলিদের, যাদের সুরক্ষা ও অগ্রগতির জন্যে এই আইনের সৃষ্টি, স্থান। মমতা হিন্দু OBC দের ভাগ কাটবেন, মোদী SC দের ভাগ কাটবেন আর সাধারণ মানুষ রাজনীতির উপর ভরসা করেই নিজেদের সঁপে দেবেন আর ভাগ্যকে দোষারোপ করবেন।


https://m.economictimes.com/news/india/centre-mulls-panel-to-explore-scheduled-caste-benefits-for-muslim-christian-dalits/articleshow/89104198.cms

Thursday, December 16, 2021

বিজয় দিবস

সাল ১৯৭১। তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তান, বর্তমান বাংলাদেশে চলছে পাকিস্তানের অকথ্য অত্যাচার। জলস্রোতের মত ভারতে আসছে শরণার্থীরা। ভারতের অর্থনীতির উপর ক্রমশই বাড়ছে চাপ আর তার সাথে ভাঁজ বাড়ছে প্রধানমন্ত্রী, ইন্দিরা গান্ধীর কপালে। নতুন দিল্লীর সাউথ ব্লকে চলছে একের পর এক মিটিং - ফিন্যান্স, মিলিটারি, ইন্টেলিজেন্স, বিদেশ দপ্তরের কর্তাব্যক্তিদের সাথে, উদ্ভুত পরিস্থিতি নিয়ে নিয়মিত কথা বলে চলেছেন ইন্দিরা গান্ধী।


এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে, ৩০শে জানুয়ারি, শ্রীনগর থেকে জম্মু যাওয়ার পথে হাইজ্যাক করা হলো ইন্ডিয়ান এয়ারলাইনসের 'গঙ্গা' (Fokker F-27) বিমান এবং হাইজ্যাকাররা, হাশিম কুরেশী ও তার ভাই আশরাফ কুরেশী, বিমানটিকে নিয়ে যায় লাহোরে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে 'গঙ্গা' ছিল ইন্ডিয়ান এয়ারলাইনসের সবচেয়ে পুরনো যাত্রীবাহী বিমান এবং সেটাকে বাতিল হিসাবে ঘোষণা করার পর, এই ঘটনার কয়েকদিন আগেই পুনরায় সার্ভিসে ফেরত নেয়া হয়।


বিমানটি লাহোরে নিয়ে যাওয়ার পর, পাকিস্তানে হাইজ্যাকারদের রাজকীয় সম্মান প্রদর্শন করা হয়। তাদের সাথে দেখা করেন খোদ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী, জুলফিকার আলি ভুট্টো। এরপর শুরু হয় দুই দেশের মধ্যে আলোচনা। অবশেষে, ১লা ফেব্রুয়ারি, অমৃতসর হয়ে, নিরাপদে ভারতে ফিরে আসেন বিমানকর্মী ও যাত্রী সমেত মোট ৩০ জন কিন্তু বিমানটিকে লাহোরে ধ্বংস করে দেয় হাইজ্যাকাররা। এই ঘটনায় সারা বিশ্বের কাছে পাকিস্তান হেয় হলেও পাকিস্তানের শাসকশ্রেণী এই ভেবেই খুশী ছিল যে ভারতকে ঝুঁকতে বাধ্য করা গেছে।


এই ঘটনার তিনমাসের মধ্যে, পাকিস্তানকে উগ্রপন্থীদের সাহায্যকারী দেশ হিসাবে চিহ্নিত করে, ভারতের বায়ুসীমায় নিষিদ্ধ করা হয় পাকিস্তানের বিমান। এরফলে, পশ্চিম পাকিস্তান থেকে পূর্ব পাকিস্তানের দূরত্ব মুহূর্তে বেড়ে যায়। পূর্ব পাকিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার জন্যে পশ্চিম পাকিস্তান থেকে যেসব সামগ্রী সিভিল এয়ারলাইনসে পাঠানো হতো সেগুলিকে এবার তিনগুণ বেশী পথ ঘুরে আর বাড়তি জ্বালানী খরচ করতে বাধ্য হলো। এর ফলে দুর্বল হয়ে গেল পশ্চিম ও পূর্ব পাকিস্তানের মধ্যে বিমান যোগাযোগ। অসহায় হয়ে গেল পূর্ব পাকিস্তানে থাকা তাদের এয়ারফোর্স।


এতদিনে পাকিস্তান বুঝতে পারে যে হাইজ্যাকিং এর মাধ্যমে তাদের পুরো 'মুরগী' বানিয়েছে ভারতের গুপ্তচর সংস্থা, RAW (Research & Analytical Wing)। বাতিল এয়ারক্রাফট দিয়ে তাদের কিভাবে বোকা বানানো হয়েছে সেটা তারা এতদিনে বুঝতে পারে। যে কুরেশী ভাইদের তারা এতদিন হিরো বানিয়েছিল, তাদেরই এবার শত্রু হিসাবে চিহ্নিত করা হয়। একইসাথে ধরপাকর শুরু হয় লাহোর, শাহী কিলা মুজফফরাবাদের কাছে দোলাই ক্যাম্পে। গ্রেপ্তার করা হয় JKNLF এর কয়েকশো সদস্যকে। পরে, ৬ জন JKNLF সদস্যকে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থার সাথে সহযোগিতা করার অভিযোগে বিচার করা হয়। মজার কথা হলো এদের অধিকাংশই উভয় দেশের কাছে অপরাধমূলক কাজে যুক্ত ব্যক্তি।


প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী'র সুযোগ্য নেতৃত্বে RAW জানুয়ারি মাসে যে অপারেশন করেছিল তারই সুফল মেলে ডিসেম্বর মাসের যুদ্ধে। আজ সেই বিজয় দিবস। বাংলাদেশের সৃষ্টি পাকিস্তানকে এতটাই আহত করে যে পাকিস্তানের তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল, পাকিস্তান পিপলস পার্টির মুখপাত্র, ডেইলি মুশায়ত তাদের ১৮ই ডিসেম্বর, ১৯৭১ সালের সম্পাদকীয়তে লেখে যে "Today the entire nation weeps tears of blood. Today the Indian Army has entered Decca. Today for the first time in 1000 years Hindus have won a victory over Muslims". ভারতবর্ষকে ত্রিখন্ডিত করে তৈরী হওয়া ইসলামিক পাকিস্তানকে, সৃষ্টির মাত্র ২৩ বছরের মধ্যে দ্বিখণ্ডিত করে, নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করার এই শুভ দিনে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী, ভারতীয় সেনা এবং সবার চোখের আড়ালে কাজ করে যাওয়া ভারতীয় গুপ্তচর সংস্থা, RAW কে আন্তরিক শ্রদ্ধা জানাই।

Sunday, December 12, 2021

বামপন্থা

না, বামপন্থীদের নিয়ে আমার কোন ছুৎমার্গ নেই বরং আমি মনে করি যে দক্ষিণপন্থীদের উপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার জন্যে বামপন্থীদের থাকার অবশ্যই প্রয়োজন আছে। এটা ভুলে যাওয়া চরম ভুল হবে যে বামপন্থার জন্ম হয়েছিল কালের নিয়মে, ক্ষমতাসীন দক্ষিণপন্থীদের শোষণমূলক নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদের অস্ত্র হিসাবে। তাই যতদিন দক্ষিণপন্থা থাকবে, সামাজিক ভারসাম্য বজায় রাখার জন্যে, ততদিন বামপন্থাও বেঁচে থাকবে।


বামপন্থীদের নামকরণ নিয়ে নানারকম মত প্রচলিত আছে, যার মধ্যে, আইনসভাতে তাদের স্পিকারের বাম দিকে বসার উল্লেখও আছে কিন্তু আমার মনে হয় এটা ঘোড়ার আগে গাড়ি জুতে দেয়ার মতো কারণ তারা আইনসভাতে বসার আগেই নিজেদের আলাদা পরিচয় প্রতিষ্ঠা করেছিল আর সেই কারণেই তারা নির্বাচিত হয়েছিল। আমার ধারণা অনুসারে, সমাজের অধিকাংশ মানুষের যেহেতু ডান হাত বেশী সক্ষম, বাম হাতি মানুষের সংখ্যা তুলনামূলক কম, তাই প্রথাগত ধারণা ও কাজের বাইরে আলাদা পরিচয় স্থাপন করার জন্যেই বামপন্থী পরিচয় তৈরী হয়েছে।


হ্যাঁ, এবার অনেকেই ভারতে সিপিএম, সিপিআই বা বিদেশের চেসেস্কু থেকে পল পটের উদাহরণ দিয়ে বামপন্থার খারাপ দিক তুলে ধরতে পারেন কিন্তু আমার কাছে এই খারাপ হওয়ার মূল কারণ হলো ক্ষমতা লাভ। যেকোন রাজনৈতিক দলের আদর্শকে দূষিত করে দেয়ার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো তাদেরকে ক্ষমতায় বসিয়ে দেয়া। বামপন্থা স্বভাবগতভাবে হলো ক্ষমতাসীনের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখার অঙ্কুশ কিন্তু এই অঙ্কুশ যখন নিজেই ক্ষমতায় বসে যায় তখন তার ব্যবহার হয়ে যায় শূন্য। ফলে সেটাতে জং ধরতে বাধ্য। নকশালরা কখনও ক্ষমতায় বসেনি তাই তাদের আদর্শের প্রতি, আচরণের বিচ্যুতির কথা বলছিনা, এখনও অনেকে শ্রদ্ধাশীল। এমনকি SUCI এর মত একটা ছোট্ট সংগঠনের প্রতি তাদের যা ভরসা আছে সেটা ক্ষমতায় থেকে কলুষিত সিপিএমের প্রতি আর আসবেনা।


এই কারণেই আমি বামপন্থা আর কম্যুনিজমকে এক করে দেখিনা। বামপন্থা একটা শক্তি যেটার প্রয়োজন আছে। এবার ইলেকট্রিক বলতে কেউ যদি শুধু ইলেক্ট্রিক চেয়ার বোঝেন তাহলে আমি অসহায়।

Friday, November 26, 2021

সন্ত্রাসী হামলার জাত বিচার

বিগত কয়েক বছরের অভিজ্ঞতায় দেখেছি যে ঘটনায় সমাজের উচ্চবিত্তরা সরাসরি প্রভাবিত হয় সেটা নিয়ে, প্রশাসন থেকে মিডিয়া, বেশী তৎপর হয়। তাই ২০০৬-এর ১১ই জুলাই, মুম্বাইয়ের লোকাল ট্রেনে বিস্ফোরণে ২০৯ জন মারা গেলে বা ১৯৯২-এর ১২ই মার্চের বিস্ফোরণে ২৫৭ জন মারা গেলেও আমরা অধিকাংশই সেগুলির কথা ভুলে গেছি অথচ তাজ হোটেলে হামলার কথা মনে আছে যেখানে মৃতের সংখ্যা ১৭৫ জন।


১৯৯২ এর বোম্বে বিস্ফোরণ হোক বা ২০০৮ এর জয়পুর বিস্ফোরণ, ২০০৭ এর সমঝোতা এক্সপ্রেসে হামলা হোক বা ২০১৩ সালের হায়দ্রাবাদ বিস্ফোরণ - এগুলিতে সমাজের উচ্চবিত্তরা সরাসরি আক্রান্ত হয়নি, তাই মিডিয়া আর এগুলি আমাদের 'খাওয়ায়' না। এগুলো নিয়ে, প্রতি বছর, 'Never forget, never forgive' লেখা প্রকাশিত হয়না। এই একই কারণে পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত সংলগ্ন একের পর এক এলাকা হিন্দু শূন্য হয়ে চললেও কলকেতার বাবুদের সেটা নিয়ে কোন হেলদোল নেই, সেগুলো 'ছোটলোক'দের সমস্যা কিন্তু রাজাবাজারে 'দুধ দেয়া গরুরা' রাস্তা অবরোধ করলে, মুখ্যমন্ত্রীর শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার বার্তা SMS-এর মাধ্যমে রাজ্যবাসীর কাছে পৌছে যায়।


তাজ হামলা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে যে নগরে আগুন লাগলে দেবালয় সেটা থেকে রক্ষা পায়না। আর্থিক ও সামাজিক প্রতিষ্ঠার কৌলিন্যর ফলে যারা জেহাদি সমস্যার প্রতি চোখ বুজে থাকে ২৬/১১ তাদের প্রতি প্রত্যক্ষ বার্তা যে দেরীতে হলেও, তোমার নম্বরও আসবে। এটা জানার পরেও যদি তাদের চোখ না খোলে তাহলে নিশ্চিত যে কিছুদিন পরে, তাদের স্মরণেও আরেকটা ২৬/১১ পালিত হবে।

Sunday, November 14, 2021

ভারতের মুসলমান বনাম ভারতীয় মুসলমান

ভারতকেশরী, ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় একটা কথা বলেছিলেন, "অতীতকে গ্রহণ করো যুগানুকূল করে আর বিদেশী সংস্কৃতিকে গ্রহণ করো দেশানুকূল করে"। 


অতীত আমাদের কাছে প্রেরণা, শিক্ষা কিন্তু অতীত যদি বর্তমানকে সর্বদা নিয়ন্ত্রণ করে যায় তাহলে ভবিষ্যত অনিশ্চিত হতে বাধ্য। হিন্দু সমাজ বরাবরই গতিশীল। হ্যাঁ, টুলো পন্ডিতরা কিছু সময়ের জন্যে তার গতিপথ রোধ করতে পারলেও, গতিশীলতাকে ধ্বংস করতে পারেনি আর তাই হিন্দু সমাজ বিভিন্ন যুগে সংস্কারিত হয়েছে বুদ্ধ, নানক, রামমোহন, বিদ্যাসাগর, নারায়ণ গুরু বা আম্বেদকরের মত ব্যক্তিদের নিরলস প্রচেষ্টায়। 


উল্টোদিকে, মুসলিম সমাজের মধ্যে সেই গতিশীলতারই অভাব। ফলে এখনও তারা ১৪০০ বছর আগের স্মৃতি আকড়ে বসে আছে। সুদূর আরবে, জলের অভাবে শুধু হাতের তালু ও পায়ের পাতা ভিজিয়ে প্রার্থনা করা হত বলে নদীমাতৃক এই দেশে এখনও তারা সেই অভ্যাস চালিয়ে যাচ্ছে। বিদেশী সংস্কৃতিকে অনুকরণ করতে গিয়ে তারা নিজেদের সংস্কারিত করতে পারেনি অথচ খোদ আরবে এখন মসজিদ ভেঙে রাস্তা, হাসপাতাল তৈরি করা হচ্ছে। 


আরব জানে যে তার নিজের দেশের লোকসংখ্যা দিয়ে পৃথিবীকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়, তাই তারা বিভিন্ন দেশে আরবীদের ক্লোন তৈরি রাখছে যারা থাকবে অন্য দেশে কিন্তু আনুগত্য থাকবে আরবের প্রতি। আর এই কাজে আরবের সবচেয়ে বড় অস্ত্র হল ইসলাম। 


ইসলামের কারণেই পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী মুসলিমরা সেদেশের সংস্কৃতির সাথে একাত্ম হতে পারছেনা। আর একাত্ম না হতে পারার জন্যেই সবসময় তাদের মধ্যে নিরাপত্তাহীণতা কাজ করে। আর সেটাকেই কাজে লাগায় আরবীয় সংস্কৃতি। খনিজ তেলের কল্যাণে আরবের অর্থের অভাব নেই আর সেই অর্থের একটা বড় অংশই ব্যয় করা হচ্ছে অমুসলিম রাষ্ট্রে বসবাসকারী মুসলিমদের মধ্যে নিরাপত্তাহীণতার বোধ তৈরি করার কাজে।


আজ উত্তরপ্রদেশ বা পশ্চিমবঙ্গের কোন মুসলিম জেহাদের নামে দেশ বিরোধী কোন কাজে লিপ্ত হয়ে, নিরাপত্তারক্ষীদের হাতে নিহত হলে আরবের কিছু যায় আসেনা কিন্তু তার মা বা স্ত্রী কি একইরকম নির্লিপ্ত থাকতে পারে? তার অনুপস্থিতি কি তার পরিবারের উপর প্রভাব ফেলেনা? অবশ্যই  ফেলে কিন্তু সেটা যাতে প্রকাশ না পায় তাই আরবের টাকায় সেই মৃত্যুকে গরিমান্বিত করার চেষ্টা করা হয় শহীদের মর্যাদা দিয়ে কিন্তু যে দেশের মাটিতে তাদের জন্ম হচ্ছে, তারা বড় হচ্ছে, এবং তাদের পরবর্তী প্রজন্মও জন্ম নেবে সেই দেশের ক্ষতি করলে লাভটা কার হবে? এই প্রশ্ন যাতে তাদের মনে না আসে তাই প্রতি শুক্রবার করে চলে মগজ ধোলাই যাতে মুসলিমদের বসবাসকারী দেশের প্রতি নয়, আরবের প্রতি আনুগত্য বজায় থাকে।


তাই ভারতে বসবাসকারী মুসলমানদের সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় এসেছে যে তারা কোন পরিচয় বেছে নেবেন, ভারতীয় মুসলমান না ভারতের মুসলমান। তাদের বুঝতে হবে যে তাদের শরীরে রামের রক্ত বইছে না বাবরের!

Wednesday, October 20, 2021

মোদী ও মমতা

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর থেকেই কংগ্রেসকে দুর্বল করার জন্যে নরেন্দ্র মোদীর অন্যতম অস্ত্র হয়ে উঠেছেন মমতা ব্যানার্জী। এই কারণেই গোয়া বা আসামের কংগ্রেসের বিক্ষুব্ধরা, আম আদমি পার্টির মত হিন্দি বলয়ের পার্টির বদলে, তৃণমূল কংগ্রেসের মত একটা আঞ্চলিক দলে যোগদান করছে। মমতার হাতে বিপুল সংখ্যক বিধায়ক থাকায়, বিক্ষুব্ধদের প্রলুব্ধ করার জন্যে, রাজ্যসভার আসন তো আছেই। এইভাবে, জাতীয় রাজনীতিতে, রাহুল গান্ধীর বদলে নম্বর দুই হতে চাইছেন মমতা ব্যানার্জী।


২০২৪-এর নির্বাচনে মোদীকে লড়তে হবে বিপুল পরিমাণ প্রতিষ্ঠান (anti-incumbency) বিরোধিতার সাথে সাথে হিন্দুত্ববাদীদের একটা বড় অংশের বিরুদ্ধে। 'সবকা বিশ্বাস' অর্জন করতে গিয়ে 'হিন্দু হৃদয় সম্রাটে'র আসন এখন টলোমলো। এরসাথে যুক্ত হয়েছে দলের প্রমুখদের সীমাহীন ঔদ্ধত্য আর বানিয়া নীতি। এমতাবস্থায় কংগ্রেস যদি, নিজেদের বর্তমান ৪৫ সাংসদ সংখ্যাকে একশো'র উপরে নিয়ে যায় তাহলে বাড়তি আসনগুলি সরাসরি প্রভাবিত করবে বিজেপিকে আর সেক্ষেত্রে বিজেপি সংসদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাতে বাধ্য। এই কারণেই মোদী কংগ্রেসের আসন কমাতে বদ্ধপরিকর আর সেক্ষেত্রে তার সেরা বাজী অবশ্যই মমতা।


এটা মমতা'র জন্যে সম্পূর্ণ win-win পরিবেশ। তিনি নিজে চরম উচ্চাকাঙ্খী হলেও এটা বোঝেন যে জাতীয় স্তরে মোদীর বিকল্প হওয়ার মত যোগ্যতা তার এখনও নেই। তাই আপাতত তিনি ২ নম্বর আসন পেলেই খুশী থাকবেন আর চোখ রাখবেন ১৯৯৬ এর মত পরিস্থিতি তৈরী হয় কিনা যেখানে ডামাডোলের বাজারে, দেবেগৌড়া বা গুজরালের মত, তিনি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ পেয়ে যান। কে বলতে পারে যে তুমুল জনপ্রিয়তা থাকা সত্ত্বেও বাজপেয়ী সরকার যেভাবে সোনিয়ার কংগ্রেসের কাছে পরাজিত হয়েছিল, শাইনিং ইন্ডিয়া বা ফিল গুড-এর মৌতাতে থেকে 'বিকাশ পুরুষ' বা 'লৌহ পুরুষে'র যে পরিণতি হয়েছিল, ২০২৪ এ সেটার পুনরাবৃত্তি হবেনা? এটা মাথায় রেখেই মোদী এখন মমতা'কে জাতীয় রাজনীতির পাদপ্রদীপের আলোয় রেখে যাবেন আর মমতাও সুযোগের সদ্ব্যবহার করে যাবেন। হ্যাঁ, এতে বঙ্গ বিজেপি রসাতলে যাবে ঠিকই তবে আরিয়ান খানের আব্বার কি একটা ডায়লগ আছে না, "কুছ পানে কে লিয়ে কুছ খোনা পড়তা হ্যায়" আর বঙ্গ বিজেপির নেতৃত্ব ও কার্যকলাপ দেখার পরে, এটা নিশ্চিতভাবেই বলা যায় যে তাদের বলি দিতে মোদীর কোন কুন্ঠা হবেনা।

Monday, October 18, 2021

বাঙালী

বিজেপি'র দলদাসরা বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতন নিয়ে মোদী বা ভাগবতের মৌনতাকে যথার্থ প্রমাণ করার চেষ্টা করবে এই বলে যে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি আশানুরূপ ফল করতে পারেনি। যদিও কয়েকদিন আগে তাদের নেতারাই গর্ব করে বলছিলেন যে তারা আড়াই কোটি হিন্দুর ভোট পেয়েছেন আর মমতা জিতেছে মুসলমানদের ভোটে। এরপরেও বাংলাদেশের সাথে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের সম্পর্ক কি সেটা শ্রী রামই জানেন। বিজয়া দশমীর শোভাযাত্রায় অনুরাগ পোদ্দারকে বিহার পুলিশ গুলি করে খুন করলে এরা অন্যায় দেখেনা কারণ সেখানে সরকার তাদের দলের সহযোগী। আসলে 'সহী হিন্দু' হওয়ার বাসনায়, তাদের মধ্যে বাঙালী বিদ্বেষ এতটাই ঢুকে গেছে যে কোন বাঙালী সেলিব্রিটি জাতীয় স্বার্থ বিরোধী কোন মন্তব্য করলে তারা গোটা জাতিকেই 'দেশদ্রোহী' তকমা দিয়ে দেয় কিন্তু গান্ধীর মত বিকৃতকাম দেশদ্রোহীর জন্ম দেয়ার পরেও গুজরাটিরা তাদের কাছে দেশপ্রেমী। আসলে এরা জানে যে নিজেদের পেট চালানোর জন্যে, টাকার যোগান বজায় রাখতে হলে কাকে তেল দিতে হবে। তাই এই সরলীকরণ। 


উল্টোদিকে তৃণমূলের দলদাসরা। তাদের না আছে কোন আদর্শগত ভিত্তি আর না আছে কোন দূরদর্শিতা। দলের চালিকাশক্তি একটা পরিবারের হস্তগত আর বাকি সব নেতার মানসিকতাই হলো কামিয়ে নেয়া। তাই ওপার বাংলা থেকে লাথি খেয়ে আসা ক্যাডাররাও, মমতা ব্যানার্জীর "দুধেল গাই"-এর তত্ত্ব শুনে ঘাড় কাত করে, নাহলে ধান্ধা বন্ধ হয়ে যাবে যে। আর দেশের বৃহত্তম বাঙালী রাজ্যের প্রধান হয়েও, প্রতিবেশী দেশে বাঙালীদের উপর পরিকল্পিত আক্রমণ নিয়ে মমতা ব্যানার্জী নীরব থাকেন। যদিও রাজ্য থেকে কয়েকশো কিলোমিটার দূরে, আখলাখ বা আফরাজুলদের হত্যা হলে সেই মমতা ব্যানার্জীই সোচ্চার হয়ে ওঠেন কিন্তু বাঙালী হত্যা নিয়ে, এখনও অবধি, তিনি টুঁশব্দ করেননি কারণ দুর্গা পূজার নামে ক্লাবে ৫০,০০০ টাকা দিলেই তার দায়িত্ব শেষ। বাংলাদেশ থেকে কয়েক টন ইলিশ এনে দিলেই তার জয়ধ্বনি উঠবে। তিনি বুঝে গেছেন যে মেরুদন্ডহীন বাঙালীর বিবেকের মূল্য মাত্র মাসে ৫০০ টাকা।


কিন্তু এই দুই-এর বাইরেও বাঙালী আছে যাদের মেরুদণ্ড এখনও বিক্রিত বা বিকৃত হয়নি। তাদের কাছে বাঙালীত্ব আর হিন্দুত্ব পরিপূরক। তারা নিজেদের ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির জন্যে, কোন রাজনৈতিক মতাদর্শের কাছে মাথা বিকিয়ে দেয়নি। বাঙালী আক্রান্ত হলে তারা সোচ্চার হবেই সেটা কোন রাজনৈতিক দাদা বা দিদির অনুমতি থাকুক বা নাই থাকুক। হ্যাঁ, তারাই বাংলার ভবিষ্যৎ রক্ষা করবে। 'জয় মা কালী' তাদের মন্ত্র, তাদের প্রেরণা।

Friday, October 15, 2021

অসি বনাম মসি

অশুভকে ধ্বংসের প্রতীক মা দুর্গার পুজোকে বাঙালী 'শারোদৎসব' বানাবে, আরাধনার সময় মা'কে অস্ত্রহীন করে অসহায় মহিলার প্রতীক বানাবে, যবনদের দোকান থেকে হালাল মাংস কিনে, সেটা কবজি ডুবিয়ে খেলেও বলি প্রথা নিয়ে আপত্তি করবে, সম্প্রীতি রক্ষার স্বার্থে পূজামণ্ডপে আযানের সময়সূচি টানাবে আর তারপরেও আশা করবে যে বাকি সবাই যেন তাদের 'মেধা'কে সম্মান করে। বিগত কয়েক দশক ধরে, শৌর্য ও সাহসিকতার মত গুণাবলীকে, তথাকথিত, বৌদ্ধিক ক্ষমতার থেকে হীন দৃষ্টিতে দেখা বাঙালীর পতনের অন্যতম কারণ।


ঘটনা কতটা সত্যি সেটা বোঝা যায় আমাদের ক্ষুদিরাম বা নেতাজী প্রীতির বদলে গান্ধীভক্তি দেখে। সংঘাতের বদলে আপোষকেই আমরা আমাদের মূলমন্ত্র হিসাবে মেনে নিয়েছি। তাই ক্ষুদিরাম এখন বাঙালীর কাছে "বাড় খাওয়া" র প্রতীক। আর এই স্বভাব কিন্তু একদিনে হয়নি, হয়েছে বছরের পর বছর আর প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ভ্রান্ত শিক্ষার ফলশ্রুতিতে। বর্তমান প্রজন্মে এই মানসিকতার জন্যে, তার পূর্ববর্তী প্রজন্ম অর্থাৎ তাদের পরিবারও সমানভাবে দায়ী। আর তার সঙ্গে দায়ী আমাদের ধর্মগুরুরা যারা সমাজকে ধর্মের শিক্ষা অর্থাৎ সামাজিক কর্তব্য পালনের শিক্ষা দেয়ার বদলে, তাঁদের শিষ্যদেরকে কেবলমাত্র আত্মবিকাশ ও আত্মপ্রচারের পথে চালিত করেছেন।


এরই ফলস্বরূপ বাঙালী, বিশেষত, তাদের যুবসমাজ এমন এক ট্যাঁশ প্রজাতিতে পরিণত হয়েছে যাদের সামনে সমাজের জন্যে কাজ করার কোন পরিকল্পনা নেই, পিছনে কোন অনুপ্রেরণা নেই। ফলে শিঁকড় বিহীন, বিবেক শূন্য এই যুবসম্প্রদায় স্রোতের জলে কচুরিপানার মত ভেসে চলেছে লক্ষ্যহীন ভাবে। পুঁথিগত শিক্ষার ফলে তাঁদের মধ্যে বিদ্যা তো আসছে কিন্তু অভাব দেখা দিচ্ছে শিক্ষার। যে শিক্ষা তার পাওয়া উচিত ছিল তার পরিবার থেকে, শিক্ষকদের থেকে, ধর্মীয় গুরুদের থেকে। শিক্ষার অভাবের ফলে তাদের জীবন শুধু বর্তমান কেন্দ্রিক হয়ে গেছে।


অথচ অন্যান্য ধর্মসম্প্রদায়ের মধ্যে এই অসুবিধা নেই। তাদের পরিবার, সমাজ, ধর্মগুরুরা আজও তাদের কারবালার কথা বলে অনুপ্রাণিত করেন, গ্বাজা এ হিন্দের স্বপ্ন দেখিয়ে তাদের ভবিষ্যতের লক্ষ্য স্থির করে দেন। ফলে নিজেদের শিঁকড়ের সাথে তাদের যোগসূত্র প্রতিদিন আরও দৃঢ় হয়। আর তাদের এই দৃঢ়তার সামনে হীনমন্যতায় ভোগে বাঙালী যুবসমাজ। তাই তাদেরই অনুকরণ করে, অনুসরণ করে, নিজেদের সীমাবদ্ধতা লুকাতে চায়। আর কচুরিপানার পক্ষে সেটা খুব অস্বাভাবিক নয়।


হালাল খাদ্যে সম্মতি দেয়া, বিদ্যালয়ে সরস্বতী পূজার সঙ্গে নবী দিবস পালনে সম্মত হওয়া, মসজিদের সামনে দিয়ে শবদেহ নিয়ে যাওয়ার সময় হরিধ্বনি না দেয়া, এই সবই আপোষের পরিচায়ক। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী যে আপোষের দ্বারা কোন জাতি নিজের পরিচয় ও অস্তিত্ব রক্ষা করতে পারেনি। সেটাই যদি পারতো তাহলে দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে দেশভাগের পরেও, হিন্দুবহুল ভারতে কাশ্মীর বা কালিয়াচক বা আজাদ ময়দান ঘটতো না, ভারতের মাটিতে "ভারত তেরে টুকরে হোঙ্গে, ইনশাল্লাহ ইনশাল্লাহ" বা "আফজল হাম শরমিন্দা হ্যায়, তেরে কাতিল জিন্দা হ্যায়" স্লোগান উঠতো না।


আপোষ করে পরিচয় ও ধর্ম রক্ষা করা যায়না। মহাভারতের সময়ে, কৌরবদের থেকে মাত্র পাঁচটা গ্রামের দাবী হোক বা বর্তমান সময়ে বিদ্যালয়ে চিরাচরিত সরস্বতী পূজার দাবী - আবেদন নিবেদনের দ্বারা কখনই অধিকার প্রতিষ্ঠা করা যায়না। অধিকার কোন ভিক্ষা নয় যা চাইলে পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, অধিকার হল দাবী যা দাবীদারের মধ্যে ছিনিয়ে নেয়ার শক্তি থাকা দরকার। যারা বলেন যে অসির চেয়ে মসির ক্ষমতা বেশী, আমি তাদেরকে শুধু এটাই মনে করিয়ে দিতে চাই যে মসি তখনই অসির চেয়ে শক্তিশালী যখন সেই মসির সুরক্ষায় একটা অসি নিযুক্ত থাকে।

Thursday, October 14, 2021

কুমিল্লার ঘটনা

কুমিল্লা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতে কাঁদুনি গাইতে পারেন, অ্যাংরি রিঅ্যাক্ট করতে পারেন, বুদ্ধিজীবীদের একদেশদর্শীতার জন্যে গালাগাল দিতে পারেন, লম্বা লম্বা থিওরি নামাতে পারেন বা এই সুযোগে নিজের দলের প্রচারটাও সেরে নিতে পারেন কিন্তু এর কোনটাতেই আরেকটা কুমিল্লা হওয়া বন্ধ হবেনা। 


ব্রাহ্মণবেড়িয়া, নাসিরনগর, কুমিল্লা ইত্যাদি হতেই থাকবে কারণ গত কয়েকশো বছর ধরে, খুব সুপরিকল্পিতভাবে, হিন্দুদের নিবীর্যকরণের পরিকল্পনা চলছে, শক্তিহীন করে দেয়ার ষড়যন্ত্র চলছে আর দুর্বল কেবলমাত্র বিলাপই করতে পারে, প্রতিশোধ নিতে পারেনা। তাই বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের, মূলত হিন্দুদের, উপর ক্রমাগত অত্যাচার হওয়া সত্ত্বেও কোন সংখ্যালঘু সংগঠন মানববোমার কথা ভাবেনা, ঈদের জমায়েতে বাস চালিয়ে দেয়ার কথা ভাবেনা। তারা খালি প্রত্যাশায় থাকে যে ভারত তাদের বাঁচাবে, আমেরিকা তাদের বাঁচাবে। তাদের অবচেতন মনে 'মিলেমিশে থাকার' মানসিকতার শিকড় এখনও এমন গভীরভাবে ঢুকে গেছে যে প্রিয়া সাহা'র মত কেউ হিন্দুদের উপর হওয়া নিয়মিত অত্যাচার নিয়ে সোচ্চার হলে, তার বিরুদ্ধেই ফতোয়া জারি করে।


বাংলাদেশের বহু হিন্দুই পশ্চিমবঙ্গ সহ ভারতের এলাকায় জমি কিনে রেখেছে যাতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে পালিয়ে আসতে পারে কিন্তু মজার কথা হলো যে পালিয়ে আসার পরেও, তারা কখনই স্বীকার করবেনা যে তারা তাদের ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে হওয়া অত্যাচারের প্রেক্ষিতে পালিয়ে এসেছে। কেউ অজুহাত দেবে মা'য়ের চিকিৎসার, কেউ ছেলের উচ্চশিক্ষার বা কেউ মেয়ের বিয়ের। বরং নিজেদের সেকুলার প্রমাণ করার জন্যে, মোদী কেন CAB বা নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনে, প্রতিবেশী দেশ থেকে আগত লোকেদের ধর্মীয় পরিচয়কে নাগরিকত্ব দেয়ার মাপকাঠি বানিয়েছেন, সেটা নিয়ে লেকচার দেবে।


বাংলাদেশের হিন্দুরা যতদিন পর্যন্ত না তাদের এই দ্বিচারিতা থেকে মুক্তি পাবে ততদিন তারা অত্যাচারের শিকার হতেই থাকবে। কিল খেয়ে কিল হজম করা ব্যক্তিদের কেউ রক্ষা করতে পারেনা। লাখখানেক রোহিঙ্গা যদি গোটা পৃথিবীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে তাহলে বাংলাদেশের এক কোটি হিন্দু সেটা পারবেনা, এই কথা আমি বিশ্বাস করিনা। কিন্তু অন্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্যে তাদের নিজেদের ঠকানোর প্রবণতা বন্ধ করতে হবে। বাংলাদেশের এক কোটি হিন্দু যদি, একযোগে, তাদের উপর হওয়া অত্যাচার নিয়ে সোচ্চার হয় এবং ভারতে আশ্রয় চায় তাহলে গ্যারান্টি দিতে পারি যে ভারত সহ গোটা পৃথিবী তাদের পাশে দাঁড়াবে। এবার সিদ্ধান্ত তাদের যে তারা সোশ্যাল মিডিয়ার আন্দোলনেই খুশী, কালো রঙের ডিপিতেই খুশী নাকি চিরস্থায়ী সমাধান চান।