Friday, July 17, 2015

বন্ধু

উৎসবে ব্যসনে চৈব; দুর্ভিক্ষে রাষ্ট্রবিপ্লবে,
রাজদ্বারেশ্মশানেচ য: তিষ্ঠোতি স: বান্ধব:।

চাণক্য নীতি অনুসারে যে ব্যক্তি উৎসবে, বিপদে,দুর্ভিক্ষে, রাজনৈতিক আন্দোলনে, আদালতে এবং শ্মশান যাত্রায় সঙ্গ দেয়, সেই প্রকৃত বন্ধু। 

আমি অত্যন্ত সৌভাগ্যবান যে স্ত্রীরূপে এমনই একজন প্রকৃত বন্ধুকে পেয়েছি। আমার অনেক বন্ধুই আমাকে উৎসবে, বিপদে বা শ্মশানযাত্রায় সঙ্গ দিয়েছে কিন্তু বর্তমান সমাজব্যবস্থা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির সম্পূর্ণ বিপরীতে হাঁটার যে আন্দোলনে আমি শরীক হয়েছি, তাতে আমাকে প্রকাশ্যে সঙ্গ বা সমর্থন দেবার সাহস কোন বন্ধুরই হয়নি।

কিন্তু আমার এই আন্দোলনে, পারিবারিক নানা দায়বদ্ধতা থাকা সত্বেও, অর্পিতা আমার পাশে এসে দাঁড়িয়েছে, সাহস যুগিয়েছে। গত ১০ই জুলাই হাজড়া মোড়ে টুকটুকি মন্ডলের উদ্ধারের দাবীতে সভা করার সময় পুলিশ যখন সম্পূর্ণ অন্যায় ও বেআইনিভাবে অন্যান্য প্রতিবাদকারীদের সঙ্গে আমাকেও আটক করে তখন অর্পিতা পুলিশের চোখে চোখ রেখে বলে যে "সবাইকে গ্রেপ্তার করলে, আমাকেও করতে হবে" এবং মহিলা হিসাবে তাকে গ্রেপ্তার করার পুলিশি আপত্তি ফুঁৎকারে উড়িয়ে দেয়। অর্পিতার ব্যক্তিত্ব ও প্রত্যয়ের সামনে কলকাতা পুলিশ ঝুঁকতে বাধ্য হয় এবং তাকে ডিটেনশনে নেয়।


Saturday, July 11, 2015

আরএসএসের দুরদৃষ্টি

মিডিয়ায় প্রকাশিত রিপোর্ট অনুসারে বঙ্গ বিজেপির পরবর্তী সভানেত্রী হিসাবে রুপা গাঙ্গুলীকে মেনে নিতে এই রাজ্যের আরএসএসের কোনো আপত্তি নেই। এই রিপোর্ট সত্যি না মিথ্যা সেটা সময়ই বলবে তবে এই রিপোর্ট পরে যারা বিজেপি বা আরএসএসের মুন্ডুপাত করছেন, আমি তাদের দলে নই। আমি বরং বিজেপি ও আরএসএসের এই সিদ্ধান্তে খুশীই হয়েছি। 

২০১১ জনগণনা অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গে মুসলিম জনসংখ্যা ছিল প্রায় ২৭%। ২০১৩ সালে পঞ্চায়েত ভোটের দিনক্ষন স্থির করা সংক্রান্ত মামলায় স্বয়ং রাজ্য সরকার সুপ্রীম কোর্টে হলপনামা দিয়ে বলেছিল যে রাজ্যের এক তৃতীয়াংশ লোকের ভাবাবেগকে আহত করে রমজান মাসের সময় ভোট নেয়া সমীচীন হবে না। এক তৃতীয়াংশ অর্থাৎ ৩৩%। তারমানে ২০১১ থেকে ২০১৩ - এই দুই বছরের মধ্যে রাজ্যে মুসলিম জনসংখ্যার হার বেড়েছে প্রায় ৬% অর্থাৎ ফি বছর ৩% হারে। এই অনুপাতে, আজ রাজ্যে মুসলিম জনসংখ্যার হার প্রায় ৪০ শতাংশের কাছাকাছি, তাই নয় কি? এমতাবস্থায়, এই রাজ্য মুসলিমবহুল হতে আর মাত্র তিন থেকে চার বছর বাকি।

এই পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গের আরএসএস ও বিজেপি যে গুজরাট দাঙ্গার মুখ কুতুবুদ্দিনের হাতে রাখী বেঁধে দেয়া রুপা গাঙ্গুলীকেই দলীয় মুখ হিসাবে তুলে ধরবে এটাই তো স্বাভাবিক। মাসখানেক আগে আরএসএসের পক্ষ থেকে মুসলিমদের বাড়ি বাড়ি চিঠি পাঠিয়ে আরএসএসে সম্পর্কে তাদের ধারণা বদলানোর যে কর্মসূচি নেয়া হয়েছিল সেটাও তো আগামী দিনের পরিস্থিতির কথা ভেবেই। 

এই কারণেই রুপা গাঙ্গুলীকে গত ১০ই জুলাই টুকটুকি মন্ডলের উদ্ধারের দাবীতে জন অধিকার মঞ্চ আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে যোগদান করার আমন্ত্রণ জানালে তিনি সেটা গ্রহণ করেন না, কারণ টুকটুকির অপহরণকারীর নাম যে বাবুসোনা গাজী। তাই তিনি মল্লিকপুর, কালীগঞ্জ, সমুদ্রগড় বা পঞ্চগ্রাম না গিয়ে ছুটে যান পাড়ুই বা সাত্তোরে। 

আগামীদিনে পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতি কি হবে সেটা ভেবে বঙ্গ আরএসএস ও বিজেপি যে এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে সবার উচিত সেটাকে সাধুবাদ জানানো। টুকটুকি মন্ডল উদ্ধারের মত ছোটখাটো বিষয়ে নিজের সাংগঠনিক ক্ষমতার অপচয় না করার জন্যে আরএসএসের দুরদৃষ্টির প্রশংসা করা উচিত কারণ এই রাজ্যে সেই দিন আর বেশী দূরে নয় যখন প্রতিটা হিন্দু বাড়িতেই টুকটুকির জন্ম হবে।


Thursday, July 9, 2015

টুকটুকি মন্ডল

খুব বেশীদিন নয়, মাত্র মাস দুয়েক আগের ঘটনা। গত ১৯শে এপ্রিল, মুসলিমদের আক্রমনের শিকার হল দক্ষিন ২৪ পরগনার মল্লিকপুর। তৃণমূল কংগ্রেসের লাটাউল হোসেন আর সিপিএমের মোশারফ শেখ দল বেঁধে আক্রমণ করলো হিন্দুদের। লুট করা হল হিন্দুদের বাড়ি, পুড়িয়ে দেয়া হল তাদের সম্পত্তি। গ্রামের মহিলারাও তাদের হাত থেকে ছাড় পেলনা, তাদেরও শ্লীলতাহানি করল মুসলিম দুষ্কৃতীরা।

খোদ কলকাতার নাকের ডগায় ঘটে যাওয়া এই ঘটনার খবর পশ্চিমবাংলার, প্রিন্ট বা ইলেকট্রনিক, কোন সংবাদমাধ্যমই প্রচার করল না। বরাবরের মত এবারেও তারা চেপে যেতে চাইল হিন্দুদের উপর মুসলিমদের আক্রমনের জ্বলন্ত দলীল পাছে সংখ্যালঘুরা ও প্রশাসন বিরূপ হয়। কেবলমাত্র হিন্দু সংহতি বিভিন্ন সোশাল মিডিয়ার মাধ্যমে এই অত্যাচারের খবর ছড়িয়ে দিয়েছিল পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে।
গুজরাট দাঙ্গা নিয়ে আজও চোখের জল ফেলে চলা এই রাজ্যের মিডিয়াগুলি ঘরের কাছে হিন্দুদের উপর মুসলিমদের লাগাতার অত্যাচার নিয়ে আশ্চর্যজনকভাবে নীরব। এই দ্বিচারিতার বিরুদ্ধেই জন অধিকার মঞ্চ (JAM) গত ১লা মে, কলেজ স্কোয়ারে একটি প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে এবং মল্লিকপুর সহ রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় মুসলিম আক্রমনের ঘটনাগুলিকে প্রকাশ করে জনসমক্ষে না আনার জন্যে মিডিয়ার তুমুল সমালোচনা করে। খুব বেশী নয়, মেরেকেটে শ'খানেক লোকের জমায়েত ছিল ঐ সভাতে কিন্তু সেই সভারই ফলশ্রুতি হিসাবে সেই রাতেই NewsX নামক একটি জাতীয় চ্যানেলে মল্লিকপুরের ঘটনা সম্প্রচার করা হয়। সেই সভায় যদি শ'খানেকের বদলে হাজার খানেক লোকের জমায়েত হত তাহলে তার প্রভাব কি আরও বেশী হত না?

মগরাহাটের এক দরিদ্র ব্যাক্তি সুভাষ মন্ডলের মেয়ে টুকটুকি মন্ডল, বয়স মাত্র ১৪ বছর। গত ৪ঠা মে গভীর রাতে টুকটুকিকে তার বাড়ি থেকে জোর করে উঠিয়ে নিয়ে যায় এলাকার কুখ্যাত সমাজবিরোধী সেলিমের স্নেহধন্য বাবুসোনা গাজী ও তার পরিবারের লোকেরা। সেই অভিশপ্ত রাতের পর থেকে স্থানীয় মগরাহাট থানায় বারবার আবেদন করেছেন সুভাষ মন্ডল, কিন্তু পুলিশ তার আবেদনে সাড়া দেয়নি। পরে তিনি হিন্দু সংহতির সভাপতি শ্রী তপন ঘোষের পরামর্শ অনুসারে তিনি প্রশাসনের উচ্চপর্যায়েও আবেদন করেন কিন্তু কোন অজ্ঞাত কারনে প্রশাসনের উপরওয়ালারাও টুকটুকিকে উদ্ধার করার প্রচেষ্টাতে তেমন আগ্রহী হন না। আজ ৬৫ দিন হয়ে গেল, টুকটুকি আজও ঘরে ফেরেনি। গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ বলে চিহ্নিত সংবাদমাধ্যমও এরকম প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তার বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ নীরব।

টুকটুকি মন্ডলকে বাবুসোনা গাজীর কবল থেকে উদ্ধার করতে প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তা এবং সংবাদমাধ্যমগুলির দ্বিচারিতার বিরুদ্ধে নিউ ইয়র্ক, লন্ডন, ব্যাঙ্কক, দিল্লী সহ পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় সচেতন নাগরিক সমাজ প্রতিবাদ সভার আয়োজন করেছে। সেই সচেতন সমাজের অন্যতম অঙ্গ হিসাবে জন অধিকার মঞ্চ (JAM) আগামী ১০ই জুলাই, শুক্রবার সন্ধ্যে ৬টা থেকে হাজরা মোড়ে এক প্রতিবাদ সভার আয়োজন করেছে। আপনি এই সভায় যোগদান করে প্রশাসনিক নৈরাজ্যতার বিরুদ্ধে আপনার প্রতিবাদ ব্যক্ত করবেন নাকি নিজের বাড়ির মেয়েটির টুকটুকির মত পরিণতি হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন সে সিদ্ধান্ত একান্তই আপনার।

সুবিচার

বানতলা হোক বা ধানতলা, কামদুনি হোক বা মগরাহাট, অপরাধী যখন মুসলিম আর আক্রান্ত যখন হিন্দু তখন এই রাজ্যে সুবিচারের আশা রাখাটাই অন্যায়।

মধ্যমগ্রাম বা রানাঘাট ধর্ষনকান্ডে প্রশাসনের যে তৎপরতা দেখা যায় সেটা উপরের ক্ষেত্রগুলিতে দেখা যায়না। তাই কামদুনির শিপ্রার পরিবার হোক বা মগরাহাটের টুকটুকির পরিবার, পুলিশ ও প্রশাসন এদের পাশে দাঁড়ায় না। এরা এ রাজ্যের দ্বিতীয় শ্রেনীর নাগরিক তাই এদের ন্যায় বিচার পাওয়ার কোন অধিকার নেই।

অবশ্য শুধু প্রশাসনকে দোষ দেয়াও ঠিক নয় কারণ প্রশাসনকে নিয়ন্ত্রণকারী রাজনৈতিক শক্তি যারা দিনের শেষে ভোটের আশায় সেই আম জনতার কাছেই হাত পেতে থাকে সেই জনতাই যখন এই ঘটনা নিয়ে উদ্বিগ্ন নয় তখন খামোখা রাজশক্তিকে দোষারোপ করে কি লাভ? 

আজ টুকটুকি নামের যে মেয়েটিকে বাবুসোনা গাজী আর তার দলবল অপহরণ করেছে কাল সেই মেয়েটি টুকটুকি না হয়ে আমার নিজের মেয়ে বা বোনও হতে পারে, আর হতে পারে কেন, হবেই কেননা এটাই তো এই রাজ্যের ইসলামীকরনের অন্যতম উপায় তবু আমাদের ঘুম ভাঙে না, চোখ থেকে সেকুলারিজমের ঠুলি সরে না। আমরা এখনও ললিত মোদী আর মুকুল রায়কে নিয়ে চায়ের কাপে তুফান তুলছি। মাঝে মাঝে মনে হয়, কবিই বোধহয় আমাদের প্রকৃত চরিত্রটা ঠিকঠাক চিনেছিলেন আর তাই লিখেছিলেন "...রেখেছ বাঙালী করে মানুষ করনি"।

টুকটুকি মন্ডল

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আহ্বানে সারা দেশ যখন ‪#‎SelfieWithDaughter‬ -এর জোয়ারে ভেসে যাচ্ছে, মগরাহাটের সুভাষ মন্ডল সেই জোয়ারে গা ভাসাতে পারেন নি। আর পারবেনই বা কি করে, তিনিই তো সেই হতভাগ্য বাবা যার ১৪ বছরের মেয়ে টুকটুকিকে বাবুসোনা গাজী আর তার দলবল গত ৫ই জুন গভীর রাতে তার বাড়ি থেকে জোর করে উঠিয়ে নিয়ে যায়।

সেই রাতের পর থেকে সুভাষ মন্ডল পুলিশ ও প্রশাসনের নানা স্তরে বহু আবেদন নিবেদন করেছেন, কিন্তু টুকটুকিকে উদ্ধার করা যায়নি। মানবাধিকার কমিশন এবং তপশীল কমিশনের কাছে করা তার আবেদনও ফাইলে বন্দী হয়ে থেকে গেছে, কোনও লাভ হয়নি। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও দেশের প্রধানমন্ত্রীকে লেখা আবেদন যখন নিস্ফলা হয়ে যায়, তখন প্রশাসনের অন্যমহল থেকে কোন রকম সাহায্যের আশা রাখা যে নিছকই স্বপ্ন, সুভাষ মন্ডল আজ সেটা বুঝতে পেরে গেছেন।

আমরা নিজেদের বাড়ির ঠাকুরঘরে রাম আর কৃষ্ণর ছবি রাখি, তাদের পূজা করি কিন্তু একবারের জন্যেও মনে রাখিনা যে তাঁরা নারীর সম্মান রক্ষা করার জন্যে যুদ্ধ করতে পর্যন্ত পিছপা হননি। সীতা হোক বা দ্রৌপদী, নারীর সম্মানরক্ষায় কোনদিনও আপোষ করতে শেখায়নি আমাদের ইতিহাস। কিন্তু হায়, আমরা রাম আর কৃষ্ণর শুধু পুজাই করে গেছি, তাদের জীবন থেকে কোন শিক্ষাই নিতে পারিনি।

যে জাতি নিজের সমাজে মহিলাদের সম্মান রক্ষা করতে পারেনা তার, আর যাই হোক, সুপারপাওয়ার হয়ে ওঠার স্বপ্ন দেখা সাজে না। আজ টুকটুকি কাল হয়তো অন্যকেউ আর পরশু হয়তো আমার নিজের বাড়ির মেয়েও এভাবেই আমাদের ক্লীবতার যুপকাষ্ঠে বলি হয়ে যাবে, তবু আমরা চুপ করে বসে থাকবো, আমরা যে ভদ্রলোক।

সম্প্রীতির মূল্য

পঞ্চগ্রাম - দক্ষিন ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবার থানার অন্তর্গত একটি ছোট গ্রাম। গ্রামের অধিকাংশ বাসিন্দাই হিন্দু এবং শ্রমজীবী। গ্রামটির আশেপাশের গ্রামগুলি মুসলিম অধ্যুষিত হলেও এই গ্রামের লোকেরা তাদের উপস্থিতিতে কখনও আতঙ্কিত বোধ করেনি আর তাই আলাদা করে নিজেদের নিরাপত্তার কথা কখনও চিন্তাও করেনি। রাজ্যের অন্যান্য গ্রামের মত পঞ্চগ্রামের অধিবাসীদেরও বিশ্বাস ছিল যেকোন বিপদে পুলিশই তাদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করবে।

এই গ্রামেরই বাসিন্দা শঙ্কর ভূঁইয়া - শাসকদলের ডাকসাইটে নেতা। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিয়ে বহু সভায় জ্বালাময়ী বক্তৃতা দিয়েছেন। দিদির রাজত্বে হিন্দু-মুসলিমরা যে একসাথে শান্তিতে বসবাস করছে সে কথা মনেপ্রানে বিশ্বাস করতেন। আশেপাশের গ্রাম থেকে মুসলিম অত্যাচারের খবর টুকটাক কানে আসলেও তিনি সেগুলোকে বিরোধীদের অপপ্রচার বলে উড়িয়ে দিতেন।

গত ২৪শে জুন, শঙ্কর ভূঁইয়া ও গ্রামের অধিবাসীদের শান্ত জীবনযাত্রা মুহূর্তের মধ্যে ছারখার হয়ে গেল যখন এক মুসলিম অটোচালকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তাদের পাশের গ্রাম বাসুলডাঙ্গা থেকে হাজার হাজার মুসলিম এসে সারা গ্রাম জুড়ে তান্ডব শুরু করল। হত্যায় অভিযুক্ত ব্যক্তির গ্রেপ্তারীর পরেও মুসলমানদের তান্ডবে কোন বিরাম দেখা গেলনা। তারা একের পর এক বাড়ি লুট করতে লাগলো এবং লুট শেষে সেগুলিতে আগুন ধরিয়ে দিল। বসতবাড়ি, ধানের গোলা, আসবাবপত্র, সঞ্চিত অর্থ, বাসনপত্র - কিছু লুট হল আর বাকি সব কিছুক্ষনের মধ্যেই আগুনের লেলিহান শিখার গ্রাসে ছাইয়ে পরিনত হল।

যে পুলিশের ভরসায় গ্রামবাসীরা নিজেদের নিরাপদ ভাবছিল,আক্রমনের সময় সেই পুলিশের টিকিও খুঁজে পেলনা গ্রামবাসীরা। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিয়ে এতদিন ধরে বক্তৃতা দিয়ে আসা শঙ্কর ভূঁইয়া ও তার আত্মীয়দের বাড়িগুলিও আক্রমণ থেকে রক্ষা পেলনা। দিদির পার্টির সদস্য হয়ে সে নীরবে দেখল যে তারই দলের বাসুলডাঙ্গার মুসলিম সদস্যরা, যাদের সাথে এতদিন ধরে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রাজনৈতিক আন্দোলন করে এসেছে, তারা তাকে বিন্দুমাত্র পরোয়া না করে তার সর্বস্ব লুটেপুটে নিল। এমনকি পার্টির পতাকাটার প্রতিও কোন রেয়াত করলনা, সেটাকেও ছুঁড়ে ফেলে দিল।

বেলাশেষে যখন পুলিশ আসল, পঞ্চগ্রাম তখন প্রায় শ্মশানের রূপ নিয়েছে। গ্রামের অধিকাংশ পুরুষই গ্রাম ছেড়ে পালিয়েছে। রাজনৈতিক ঝান্ডা বয়ে বয়ে বেঁকে যাওয়া শিরদাঁড়া মুসলিম আক্রমনের বিরুদ্ধে রুখে দাড়াতে পারেনি। প্রতিটি গলির দুই পাশে আধপোড়া বাড়িগুলি যেন প্রশাসনের কর্তাদের দিকে তাকিয়ে ব্যঙ্গের ছলে হাসছে। আর গোটা গ্রামের নিস্তব্ধতা যেন চিৎকার করে জানিয়ে দিচ্ছে যে সম্মিলিত মুসলিম আক্রমনের সামনে রাজ্যের সর্বক্ষমতাসম্পন্ন স্বয়ং দিদিও কত অসহায়।

নিষ্পাপ

আম্মার ছাড়া পাওয়ার পর থেকেই মনটা আশায় আশায় ছিল যে সল্লুভাইয়ের আচ্ছেদিনও আর বেশী দূর নয়। আর হলও তাই। আচ্ছা, হবে নাই বা কেন, সেই কোন যুগে, সামান্য নেশা করে না হয় কয়েকজনকে গাড়িচাপা দিয়েই ছিলেন তাই বলে ভাইয়ের মনটা তো খারাপ নয়। কতলোকের কত উপকার নাকি তিনি করে থাকেন, তাদের দোয়ার কি কোন জোরই নেই? সকলের দোয়ায় ভাই আজ জেল থেকে বেড়িয়েও এসেছে আর কোর্ট বলে দিয়েছে যে শুটিং-র জন্যে ভাইয়ের বিদেশ যেতেও বাধা নেই। মার কৈলাশ, এই রকম রায় না দিলে কি আর জনগনের আইন আদালতের উপর ভরসা থাকে!

ভাই বেড়িয়ে গেলেও আম্মাকে নিয়ে একটা চাপা উত্তেজনা থেকেই গেছিল। সদাচারী সরল মহিলা, কোর্ট তাকে দোষী বলা মাত্রই বিবেকের ডাকে মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন। যদিও সল্লুভাইয়ের মত ওনার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগও খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ কিছু ছিলনা। হিসাবের ভুলে কিছু দুষ্টু লোক বলেছিল যে তার নাকি আয়ের সাথে সঙ্গতিহীন সম্পত্তি আছে। বিচারকদের এই হিসাব কষতে বেশী সময় লাগেনি। তাই, তিনিও ছাড়া পান। ছাড়া পাওয়ার পর স্বয়ং মোদীভাই তাকে ফোন করে অভিনন্দন জানান।

কিন্তু কি একটা কথা আছে না যে ভাঙা দেয়াল, খ্যাপা শেয়াল আর বড়লোকের খেয়াল - কোন ভরসা নেই। তাই আম্মাকেও সেই জনতার দরবারে হাজির হতে হল আবার নির্বাচিত হওয়ার জন্যে। এই জায়গাটাতেই আমার একটা আশঙ্কা ছিল। আগে-পরে যতই কারিকুরি করা হোক না কেন, ভোটের দিন তো সবকিছু সেই জনগণের হাতে। কোর্ট ছেড়ে দিলেও জনতা ছাড়বে তো?

আমার আশঙ্কাকে অমূলক প্রমান করে আজ আম্মা জেতায় আমি যারপরনাই আনন্দিত। সল্লুভাই আর আম্মা দুজনেই চক্রান্তের জাল ছিঁড়ে বেড়িয়ে এসেছেন। কিন্তু এত খুশীর দিনেও একটা কাঁটা আজও বুকের মধ্যে খচখচ করে যায়, মদনদা আজও ছাড়া পেল না।

দিনবদল

না বন্ধুগণ, ভুল বুঝবেন না। মুকুল রায় আয়োজিত ইফতারে বিজেপি নেতা প্রদীপ ঘোষের টুপি পরে উপস্থিতি মোটেই সংখ্যালঘুতোষণ নয়, এটা ভাতৃত্ববোধের সূচক মাত্র। স্বয়ং বাজপেয়ীও তো একই কাজ করেছেন। তোষণ হবে যদি সেটা বিজেপি বাদে অন্য রাজনৈতিক দলের কেউ করে। তখন সব হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলি রে রে করে ঝাঁপিয়ে পরবে।

আর বর্তমান পরিস্থিতিতে তো মুকুল রায় "হোলি কাউ"। সারদা কেলেঙ্কারি হোক বা সংখ্যালঘু তোষন, দিল্লীর রাজনীতির বিচিত্র সমীকরণে, আজ আর কোন কাদাই তার সাদা পাঞ্জাবীকে মলিন করতে পারেনা। দুষ্টু লোকেরা বলে যে একদা (?) দিদির বিশ্বস্ত সেনাপতি আজ নাকি দিদির বিরুদ্ধে লড়াই করার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার।

তাই আর্থিক কেলেঙ্কারি থেকে সংখ্যালঘু তোষণ, আজ সবকিছু মাফ। তাই বিজেপি ও তার সমমনভাবাপন্ন বিভিন্ন মঞ্চের ব্যক্তিরা মুকুল রায়ের আশীর্বাদ পেতে উদগ্রীব। আগামীদিনে হিন্দুত্বের ধ্বজাধারীরা মমতার হিজাব পরা নিয়ে আপত্তি করলেও বিজেপি নেতাদের অনুরূপ আচরন নিয়ে যে নীরব থাকবে সেটা নিশ্চিত।
 

যোগ দিবস উদযাপন

"বিরোধীরা যখন তোমার দিকে ফুল ছুড়বে তখন বুঝবে তুমি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছ আর বিরোধীরা যখন তোমার দিকে জুতো ছুড়বে, বুঝতে পারবে যে তুমি তোমার লক্ষ্যে স্থির আছো।" - প্রাচীন প্রবাদ।

ভারতীয় যোগব্যায়াম আজ সারা পৃথিবীতে এমন জায়গায় পৌছে গেছে যে সেটার উপযোগিতা আজ আর কারুর স্বীকৃতির মুখাপেক্ষী নয়। স্থান, কাল আর পাত্রের উপস্থিতি উপেক্ষা করে আজ তা কালজয়ী আর সার্বজনীন। সারা বিশ্ব নির্দ্বিধায় মেনে নিয়েছে যে গণিতের শূন্য (০) বা চিকিৎসায় আয়ুর্বেদের মত যোগব্যায়ামও হল বিশ্বের সমস্ত জনসাধারণের প্রতি প্রাচীন ভারতের সনাতনী সভ্যতার এক অমূল্য অবদান।
এমতাবস্থায়, যোগ নিয়ে মোদী সরকারের অবস্থান ও প্রচার আমার কাছে নিছকই বাগাড়ম্বর বলে মনে হয়েছে। অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রনের মত সময়োপযোগী বিষয়গুলিকে অবজ্ঞা করে যোগের মত একটি বিষয়, যা ইতিমধ্যেই সর্বজন স্বীকৃত, নিয়ে ঢক্কানিনাদ আমাকে আকৃষ্ট করেনি। আমার স্থির বিশ্বাস ছিল এবং আছে যে যোগ হল এমন একটি বিষয় যার প্রসঙ্গ ওঠা মাত্র সবাই নির্বিরোধে মেনে নেবে। লোকসভায় একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের থেকে জনগন আরও বেশী কিছু আশা করে।

কিন্তু যোগব্যায়াম নিয়ে এদেশে বসবাসকারী মুসলিমদের আচরণ এবং তাদের তোষামোদকারী বিরোধী দলগুলির আচরন প্রমান করে দিয়েছে যে তারা এইদেশে বংশপরম্পরায় বাস করে আসলেও নিজেরা কখনই এইদেশের হয়ে উঠতে পারেনি। এই কারণেই ভারতের সুমহান পরম্পরা নিয়ে গর্ব করতে তাদের এত কুণ্ঠা। এক্ষেত্রে ওয়েশীর সাথে সোনিয়া গান্ধী বা সীতারাম ইয়েচুরির মানসিকতার কোন তফাৎ নেই, ভাষাটা আলাদা কিন্তু ভাবটা এক। এদের একমাত্র লক্ষ্য ভারতীয়দের হীনমন্যতায় ডুবিয়ে রাখা যাতে তারা তাদের গৌরবময় ইতিহাস থেকে প্রেরণা না পেতে পারে। স্বদেশের ঠাকুর ছেড়ে বিদেশের কুকুর পূজা করতেই এদের বেশী আগ্রহ।

এদের সম্মিলিত বিরোধিতা সত্বেও গত ২১শে জুন সমগ্র বিশ্বের সাথে দিল্লীর রাজপথেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে হাজার হাজার দেশবাসীকে সোৎসাহে যোগব্যায়াম করতে দেখলে এদের রাতের ঘুম উড়ে যায়। আগত দিনে নিজেদের অস্তিত্ব বিপন্ন হওয়ার ইঙ্গিত এদের কাছে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তাই যোগাভ্যাস করাকালীন নরেন্দ্র মোদী অবস্থানগত কি কি ভুল করেছেন তাই নিয়ে এরা সোশাল মিডিয়াতে ঝড় তোলার ব্যর্থ চেষ্টা করে। এ যেন সেই মেয়েকে স্কুলে ভর্তি করা নিয়ে বাড়ির বিধবা পিসিমার ভূমিকা। প্রথমে মেয়েকে স্কুলে ভর্তি করাতেই আপত্তি আর তার আপত্তি অগ্রাহ্য করে মেয়েটি স্কুলে ভর্তি হলেও সে কেন পরীক্ষায় ফার্স্ট হলনা তাই নিয়েও তাকে কটুক্তি। পঁয়তাল্লিশ বছরের "যুবরাজ" নিজেকে "তরতাজা" করতে ব্যাঙ্ককে চুপিচুপি ছাপান্ন দিনের ছুটি কাটিয়ে আসলে কারুর মাথাব্যথা নেই কিন্তু পঁয়ষট্টি বছরের বৃদ্ধ সকলের সাথে প্রকাশ্যে যোগাভ্যাস করলে এরা খুঁত খুজতে ব্যস্ত।

তবে প্রাচীন প্রবাদে বিশ্বাস রাখলে স্বীকার করতেই হবে যে মোদী তার উদ্দেশ্যে একশ শতাংশ সফল। আন্তর্জাতিক যোগ দিবস পালনের মাধ্যমে তিনি শুধু ভারতের ঐতিহ্যময় অতীতকেই তুলে ধরেননি সাথে এদেশে বসবাসকারী সেই সব বিশ্বাসঘাতকদেরও মুখোশ খুলে দিয়েছেন যারা শারীরিকভাবে এদেশে বাস করলেও মানসিকভাবে কখনই এদেশের হয়ে উঠতে পারেনি।

North Bengal Tour

On 19th June, I accompanied Adv. Brojen Roy, Vice-President Hindu Samhati and Sujit Maity during their tour of North Bengal. We begun our program with a meeting at Mariakund village near Gajol in the district of Maldah. We reached the place at around 7:30 PM through muddy road. Though it was quite late in the night, especially considering the local ambiance, there were 45-50 youths present in the meeting. The meeting took place in a newly built ashram which provides residential facility to students. The villagers had already witnessed jihadi attack back in 2009 and cases are still pending against some of them. We made them aware about the changing scenario of West Bengal due to rapid demographic change as part of jihadi conspiracy which is being expedited due to minority appeasement policy of all political parties and reluctant attitude of administration. We also had interesting interactive session at the end of the meeting. The meeting continued for more than 2 hours under open sky and only a few emergency hurricanes were source of light which hardly enabled us to see each other’s face. After meeting, we had dinner in the ashram and left for Raigunj.

Next day, we left for Bhatol village to attend Kshatrashakti Jagaran Yajna. There was quite enthusiasm amongst the villagers over the event. The Yajna was conducted by Swami Niranjanananda Maharaj from Bharat Sevashram Sangha. More than 100 villagers took active part in the Yajna. Women participated in the event in quite good numbers. Around 40 boys of Hindu Samhati took pledge to protect the society and offered ahuti to Yajna. After the Yajna, Swamijis from Bharat Sevashram Sangha performed aarti of Swami Pranabananda and also displayed their expertise with weapons like sword, chakra etc. The event was concluded with the message from Swami Niranjanananda Maharaj and Sri Brojen Roy appealing people to learn the art of self defense. Swamiji advised them to practice their traditional weapons like bow-arrow and appealed women villagers to keep small but sharp weapon with them for self defense. After the event, khichuri was distributed amongst the villagers. After the completion of the event, we went to Dalkhola.

In the morning of 21st June, we went to Karandighi village near Samaspur and held a meeting with villagers. After the meeting, we moved to Kaligram where another meeting took place. More than 50 villagers joined the meeting. After meeting, we had lunch in the village and further moved to Jagatgao, a border adjacent village. After the meeting, we left for Kolkata late in the afternoon.

স্বপ্নভঙ্গ

স্থান - আসানসোল। কাল - ২০১৪এর নির্বাচনী প্রচার। পাত্র - ভারতীয় জনতা পার্টীর প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী নরেন্দ্র মোদী।

"মিত্রো...আপনাদের আশীর্বাদ নিয়ে যদি কেন্দ্রে ভারতীয় জনতা পার্টীর নেতৃত্বে সরকার গঠিত হয় তাহলে বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে এদেশে এসে বসবাসকারী সবাইকে আমরা সীমান্তের ওপারে পাঠিয়ে দেবো।"

বক্তৃতা শেষ হতে না হতেই সারা রাজ্য তথা দেশজুড়ে বিতর্কের ঝড় উঠে গেল। অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলিও মোদীর এই বক্তব্যকে ভিত্তি করে ঘোলাজলে মাছ ধরতে নেমে পরলো। ধর্মীয় তথা সাংস্কৃতিক কারনে বাংলাদেশে অত্যাচারিত হয়ে নিজেদের নিরাপত্তা তথা অস্তিত্ব রক্ষার স্বার্থে এদেশে আশ্রিত হিন্দুরাও মোদীর কথায় প্রমাদ গুনলো।

চতুর রাজনৈতিক মোদী বুঝলেন যে চালে কিছুটা ভুল হয়ে গেছে। মুসলমানদের ভোট যে তিনি কোনদিনই পাবেন না সেটা তিনিও বোঝেন আর তাই বক্তব্যর পর হিন্দুরাও দ্বিধাগ্রস্থ হয়ে পরেছে। তাই বারাসাতে, নিজের পরবর্তী জনসভায়, তিনি তার আগের বক্তৃতার ব্যাখ্যা করে বললেন যে তিনি সেইসব লোকেদের তাড়ানোর কথা বলেননি যারা বাংলাদেশে নিরাপদে দুর্গাপূজা করতে না পেরে এই দেশে এসেছে। অর্থাৎ সরকার গঠন করলে তিনি যে খালি মুসলিম অনুপ্রবেশকারীদের এই দেশ থেকে তাড়াবেন, হিন্দু শরণার্থীদের নয় এই আশ্বাস তিনি দিলেন। আর এর ফলও মিললো হাতেনাতে। জেহাদী আক্রমনে জর্জরিত পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির একধাক্কায় দশ শতাংশেরও বেশী বেড়ে গেল। আর শুধু পশ্চিমবঙ্গ কেন, এই মেরুকরণের ফলে সারা দেশেই বিজেপির ঢেউ উঠে গেল আর পরিনামে এনডিএ-র জন্যে ২৭২+ এর প্রত্যাশী বিজেপি একাই ২৮২ টি আসন জিতে গেল।

জেহাদি সন্ত্রাস থেকে মুক্ত হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে ভোট দেয়া হিন্দুরা নতুন সরকার গঠন হওয়ার কিছুদিন পরেই জানতে পারলো যে ভারতে বসবাসকারী মুসলমানরা নাকি আদতে দেশপ্রেমীক,তারা নাকি এই দেশের জন্যে জীবন পর্যন্ত দিতে পারে আর সেটা জানালেন নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী, নরেন্দ্র মোদী। যদিও ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস ঘেঁটে কতজন মুসলমান দেশের জন্যে ফাঁসিকাঠে প্রান দিয়েছে সেই তথ্য জানাবার কোন দায় তার ছিলনা।

হিন্দুরা মোদীর বক্তৃতা শুনে যে স্বপ্ন দেখে ভোট দিয়েছিল - সেটা রামমন্দির নির্মান হোক বা নেতাজীর অন্তর্ধান রহস্য প্রকাশ - বছর ঘুরতে না ঘুরতেই সেই স্বপ্নগুলির কিছুকে 'জুমলা' (নির্বাচনী ধাপ্পাবাজি) বলে ঝেড়ে ফেলা হল আর বাকিগুলির জন্যে প্রয়োজনীয় সাংসদ না থাকার অজুহাত দিয়ে দেয়া হল। ভক্তদের জগঝম্পের মাঝে এই প্রশ্ন উঠতেই দেয়া হলনা যে স্বপ্ন দেখানোর সময় তিনি যে সংখ্যার দাবী করেছিলেন হিন্দুরা তার থেকে অনেক বেশী সংখ্যাই তাকে দিয়েছে।

ভোটের সময় যে মোদী দাবী করেছিলেন যে বাংলাদেশ থেকে আগত হিন্দু শরণার্থীদের তিনি এই দেশের নাগরিকত্ব দেবেন আর মুসলমান অনুপ্রবেশকারীদের ঘাড়ধাক্কা দিয়ে ওদেশে ফেরত পাঠাবেন সেই মোদী আজ আসামে NRC তৈরির অছিলায় বাঙালী হিন্দুদের এই দেশ থেকে তাড়িয়ে দেয়ার পরিকল্পনা প্রায় চুড়ান্ত করে ফেলেছে। ওদেশ থেকে নিরাপত্তার স্বার্থে এদেশে এসে আশ্রয় নেয়া হিন্দুদের Push back- এর নামে বিএসএফ-কে দিয়ে গুলি করে মেরে ফেলতেও কুণ্ঠিত নয় মোদী সরকার। আজ যা আসামে শুরু হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে সেটা শুরু হওয়া শুধু সময়ের অপেক্ষা। এক সারদার জুজু দেখিয়ে, দিদির আগেকার আপত্তিকে উড়িয়ে যদি খোদ তাকে পাশে বসিয়েই ভারতের অতিরিক্ত ১০,০০০ একর জমি বাংলাদেশকে দিয়ে দেয়া যায় তাহলে রোসভ্যালী বা ভাইপোকে দেখিয়ে এই রাজ্য থেকে হিন্দু খেদানোও খুব একটা কঠিন কাজ হবে বলে মনে হয়না। হাজার হোক, এই দেশের উপর "দেশপ্রেমিকদের" মত অধিকার তো আর অন্য কারুরই নেই, তাই না?

Jumla?

During the campaign for the general election 2014, in a rally at Asansole, Narendra Modi announced that every single person who illegally entered the country from Bangladesh would be driven away. That created huge furore in the state politics as ruling party along with other local parties interpreted that announcement as potential threat to even Hindu migrants and panic loomed large all over the state.

Sensing the panic, Narendra Modi came out with an explanation in the laterpart of his campaign. In his rally at Barasat, he explained that those who worship Maa Durga and have been forced to come to this country for continuous attack on them over their religious & cultural identity (read Hindus), need not to worry as they will be considered as migrant, not infiltrator, and awarded with citizenship status. This came as a big relief for Hindus and they thought, finally, 'achhe din' were to come.

Now, after one in the office, Modi Sarkar is all set to act in a way which is 180 degree opposite to it's poll promise. The following report suggests, the claim made by Modi, during campaign, to determine the status of different communities with a realistic approach based on ground realities, has received a big jolt as, now, everyone, irrespective of their religious & cultural identity, shall be considered on the basis of common yardstick. There will be no difference between a migrant and infiltrator though there is specific UN guideline to differentiate between the two.

Hapless Hindu migrants who thought, during campaign, that 'achhe din' were to come, are now living with the worst nightmare of their life to become victim of another poll prank popularly known as 'jumla'.

Importance of opposition in democracy

Viable opposition is a very important topic in political science. The word 'viable' actually is the key factor that determines the quality of opposition. It reflects many things like number, performance, credibility and many other characteristics of the opposition.

In democracy, a viable opposition holds the key to the performance of the party in power. In absence of a viable opposition, there is always a possibility that democracy may turn into an autocratic form of governance.

In democracy, number is always an important factor, not absolute though, to determine the strength of a viable opposition. In case oppositions are totally routed, as happened in the last assembly election in Delhi, there will hardly be any check over the functioning of the ruling party and thus an autocratic government shall be in force under the cover of democracy.

Though number is important in democracy but it is not supreme. The stature of the leaders in opposition is equally important to turn opposition into a viable one. The performance of Dr. Shyama Prasad Mukherjee against then Prime Minister Nehru, as the leader of the opposition in the Lok Sabha with only 2 MPs, has already become myth. Whereas, if we look at today's scenario, in Maharashtra or J&K, though oppositions have substantial number yet they are not upto the mark in discharging their duties as they do not have leaders of required stature in compare with that of ruling parties.

The third and probably the most important factor to determine a viable opposition lies in the credibility of leaders in opposition. The credibility also plays a pivotal role to determine the stature. In absence of any credible leadership, opposition is bound to succumb under the pressure of government. In such cases, people are, hardly, left with any choice to express their dissent against the ruling party. The case of West Bengal is the best illustration of such scenario.

So, mere opposition is not capable to discharge it duties unless it is a viable one. An incapable opposition, more often than not, becomes a toy in the hand of government to camouflage it's unethical acts. Selection of CVC & CIC are the glaring instances of such practices.